ব্রেকিং নিউজ
ক্ষুধা দূরীকরণে ইসলামের বাস্তবমুখী ৫ পদক্ষেপ প্রত্যাবর্তনে ইউনাইটেডের বড় জয়, বায়ার্নেরও গোল–উৎসব, কোমোর স্মরণীয় অভিষেক প্রত্যাবর্তনে ইউনাইটেডের বড় জয়, বায়ার্নেরও গোল–উৎসব আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক কার, ফয়সালা করতে মমতা ও ঋতব্রতকে দিল্লিতে তলব গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্রের শর্ত অযৌক্তিক খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের বিচার শুরুর আদেশ রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবনা নিয়ে ‘এ আমির আবরণ’
সারাদেশ

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সেই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরু করা যায়নি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে বলে জানায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ সার্ভার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম ও নথিপত্র। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আগে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো বাস্তবে কতটা দূর করা হয়েছে? গত সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেউ হতাহত হননি। তবে দুটি কক্ষের আসবাব, নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিকরা। প্রাথমিকভাবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতরের অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করছে। আগেই সতর্ক করেছিল আইএইএপ্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত বছরের ১০ থেকে ২৭ আগস্ট রূপপুর পরিদর্শন করে আইএইএর বিশেষজ্ঞ দল।পরিদর্শনের পর সংস্থাটি জানায়, প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা উন্নয়নে সদিচ্ছা দেখিয়েছে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন। এর মধ্যে ছিল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পরিচালন কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন। অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি তাই সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমবার সামনে আসেনি, আন্তর্জাতিক পর্যালোচনাতেই এটি চিহ্নিত হয়েছিল। ঘাটতিতে পিছিয়েছিল জ্বালানি ভরাআইএইএর পরামর্শের পর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরুর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স দেয়নি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা শুরু হয়নি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের অভিযোগ, অগ্নিনিরাপত্তার কিছু কাজ পরে সম্পন্ন করার শর্তে নির্ধারিত সময়েই জ্বালানি ভরার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এতে সম্মতি দেয়নি। পরে অবশ্য ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরা শুরু হয়। জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জ্বালানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৪৯ কর্মী নিয়ে চলছে ফায়ার স্টেশননাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরমাণু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা জরুরি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের স্থাপনায় ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু রূপপুরে এখনও পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশন দিয়ে কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিটে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কিনা, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। মূল স্থাপনার বাইরে, তবু প্রশ্নবাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগুনের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে। ফলে কেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা শুধু মূল চুল্লি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহায়ক অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর অংশ। রূপপুরের অদূরে লালন শাহ সেতু এলাকাসহ আশপাশে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার বিষয়টিও মূল নকশায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর আগে প্রকল্পের সীমানার বাইরেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ডে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে। তাদের প্রতিবেদনেই জানা যাবে, আগুন কীভাবে ছড়াল এবং প্রতিরোধে কোথায় ঘাটতি ছিল। সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>