বিজ্ঞাপন
একটি প্যাকেটজাত খাবার ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পেছনে থাকে দীর্ঘ এক সরবরাহশৃঙ্খল। বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, মোড়কজাত ও বাজারজাত-প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত যন্ত্র, প্রযুক্তি ও নানা ধরনের উপকরণের।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সেই পুরো আয়োজনকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরেছে ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো।
দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও সেবার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে দেশীয় ও রপ্তানিমুখী নানা কৃষি ও খাদ্যপণ্যের পসড়া বসেছে। পাশাপাশি এ প্রদর্শনীতে রয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণখাতে বিনিয়োগের আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্টলও। এবারের ফুডপ্রোর প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড-কোম্পানি অংশ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী এ ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।
এবার এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো ছাড়াও আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এর বিভিন্ন কোম্পানি অংশ নিয়েছেন।
এবারে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে জার্মানভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ডোহলার। ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার শান্তনু সরকার বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ২০ বছর ধরে ডোহলার পণ্য দিচ্ছে। এ দেশের প্রাণ-আকিজের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা আছে।
ওই প্রতিনিধি বলেন, ডোহলার প্রায় সব ধরনের ফুড-ইনগ্রেডিয়েন্টভিত্তিক সমাধান সরবরাহ করে। সে ক্ষেত্রে এ দেশে ব্যবসার প্রচুর সম্ভবনা আছে। কারণ দিন দিন এ দেশের প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও ভালো করছে।
প্রদর্শনীতে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান আইএফএফ’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল হক বলেন, শেষ কয়েক বছর টানা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছি। যার মাধ্যমে আমাদের পুরোনো ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন ক্রেতা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন
দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের ‘শোকেস’ বাপা ফুডপ্রো
এদিকে মেলায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এক্সপার্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেডও একজন উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শুরু করতে সব ধরনের সহায়তা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আব্দুস সামাদ বলেন, খাদ্য স্থাপনা করতে আমরা সব সহায়তা দিয়ে থাকি। কারখানা স্থাপন থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত সব ধরনের সার্ভিস নিয়ে আমরা এ প্রদর্শনীতে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। এরপর বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কোম্পানির আমাদের হাতে গড়া।
এদিকে ফুডপ্রোতে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সমাহার নিয়ে এসেছে দেশের বড় বড় সব প্রতিষ্ঠান। তারা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের কাছে তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
মেলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের নানা খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তির উপস্থাপণা করেছে। প্রাণের স্টলে প্রায় সব ধরনের খাদ্য ও পানীয়, টেস্টি ট্রিটের নানা বেকারি ও ফাস্টফুড এবং মিঠাই-মিষ্টি পণ্য প্রদর্শন করছে। মেলায় গ্রুপের ইভেন্ট হেড জামিরুল হক সাজ্জাদ বলেন, মেলা উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য ১৫% ছাড় দিয়েছে প্রাণ। এছাড়া ডোনাট কেক, সাবিহা গুঁড়া মসলা, মিল্কিস ফ্লেবার ডিংকের মতো নতুন নতুন পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আয়োজকরা বলছে, চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এদিকে এবার ফুডপ্রোতে প্রথবারের মতো আটটি ব্যাংক অংশ নিয়েছে। ইউসিবি ব্যাংকের এফএভিপি (এসএমই ও এগ্রি ব্যাংকিং) জাফরিন সিদ্দিকী বলেন, এখানে দেশের বড় বড় উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা তাদের সঙ্গে ফাইনান্সার হিসেবে থাকতে চাই। ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ, সে ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়গুলো নিয়ে নানা সমাধান দিচ্ছি আমরা।
এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সূচনা নামের একটি প্যাকেজ প্রমোশন করছি, যার মাধ্যমে একজন নতুন উদ্যোক্তা একদিনের মধ্যে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পায়।
প্রদর্শনীটি ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
এনএইচ/এমআইএইচএস/
বিজ্ঞাপন