জাতীয়

পেঁয়াজের খোসার পানিতে কি সত্যিই চুল গজায়?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রান্নাঘরে প্রতিদিন এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করি, যার প্রয়োজন শেষ হলেই জায়গা হয় ময়লার ঝুড়িতে। পেঁয়াজের শুকনো খোসাও তেমনই একটি উপকরণ। কিন্তু ইদানীং ফেলে দেওয়া এই খোসা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন এক ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার ট্রেন্ড। পেঁয়াজের খোসা পানিতে ফুটিয়ে তৈরি করা তরল দিয়ে স্ক্যাল্প ও চুল ধোয়ার পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ দাবি করছে, এতে চুল ঝলমলে হয়, আবার কেউ বলছেন চুল পড়া কমাতেও নাকি এটি কার্যকর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই নতুন চুল গজাতে পারে? এ ক্ষেত্রে প্রচলিত দাবি আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে আলাদা করে দেখা জরুরি। পেঁয়াজের বাইরের শুকনো খোসা পানিতে ফুটিয়ে বা ভিজিয়ে যে তরল তৈরি করা হয়, সেটিই মূলত পেঁয়াজের খোসা পানি । পেঁয়াজের খোসায় বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েরসেটিনের মতো যৌগও পাওয়া যায়। এসব উপাদানের কারণে চুল ও স্ক্যাল্পের যত্নে পেঁয়াজের খোসা ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। পেঁয়াজের খোসার পানি চুল গজানোর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। পেঁয়াজের খোসায় সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এগুলো সরাসরি বংশগত বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ করে নতুন চুল গজাবে-এমন শক্ত প্রমাণ বর্তমানে নেই। পেঁয়াজের রসের গবেষণা ২০০২ সালে জার্নাল অব ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় পেঁয়াজের কাঁচা রসের ব্যবহার পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটি ছিল অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা, অর্থাৎ মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় গোলাকারভাবে চুল উঠে যাওয়ার সমস্যাকে কেন্দ্র করে। সেখানে পেঁয়াজের রস ব্যবহারকারীদের একটি অংশে চুল গজানোর ফল পাওয়া গিয়েছিল। তবে এই গবেষণাকে পেঁয়াজের খোসার পানির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ কাঁচা পেঁয়াজের রস এবং পেঁয়াজের খোসা ফুটিয়ে তৈরি পানি এক জিনিস নয়। তাই ওই গবেষণার ফল দেখে খোসার পানি চুল গজায়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক হবে না। আরও পড়ুন কান-নাক ফোঁড়ানোর পর দ্রুত শুকাতে যত্ন নেবেন যেভাবে যেভাবে ব্যবহার করবেন ঘরোয়া হেয়ার রিন্স হিসেবে কেউ এটি ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে পরিষ্কার ১-২টি পেঁয়াজের শুকনো খোসা নিন। ভালোভাবে ধুয়ে ২ কাপ পানিতে প্রায় ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর তরলটি পুরোপুরি ঠান্ডা করে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রাখুন।ব্যবহারের আগে অবশ্যই স্ক্যাল্পের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। কোনো জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। সহনীয় হলে শ্যাম্পুর পর স্ক্যাল্পে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে ১-২ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। সংরক্ষণ করলে পরিষ্কার পাত্রে অল্প সময়ের জন্য রাখাই ভালো। আরও পড়ুন লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন তবে এটিকে চুল পড়ার চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথায় নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো জায়গা তৈরি হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে ঘরোয়া রিন্সের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। কারণ চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোন, পুষ্টির ঘাটতি, স্ক্যাল্পের সমস্যা বা অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সূত্র: টাইসম অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>