জাতীয়

কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
10 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছিলেন শারমিন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর সেই মামলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের আদেশে দুলাল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে দুলালসহ অন্য আসামিরা মারধর করতেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জে দুলালের বসতঘরের ভেতরে শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগুনে শারমিনের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে শারমিন মারা যান। এ ঘটনায় তার মা মোমেনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলার বিচারপর্বে রাষ্ট্রপক্ষ মোট নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। এর ভিত্তিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি হারুন, মোরশেনা, সুমাইয়া ও রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। আরেক আসামি জরিনা বিচার চলাকালীন মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুলাল হোসেনের সাজা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  এমডিএএ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>