জাতীয়

বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাড়ির মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎ যেন খুলে গেল ইতিহাসের দরজা। মাটির নিচে কী লুকিয়ে আছে, তা জানতেন না বাড়ির মালিক। প্রতিদিনের মতো সাধারণ খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল, কিন্তু মাটি সরাতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকল বহু শতাব্দী আগের রুপার নিদর্শন। যতই খোঁড়া হচ্ছিল, ততই বাড়ছিল বিস্ময়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বুঝতে পারেন, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এ রুপার ভাণ্ডারের গল্প আরও অনেক পুরোনো। সম্প্রতি ডেনমার্কের রেবিল্ড এলাকায় বাড়ির পেছনের বাগানে টেরেস তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন বাড়ির মালিক। হঠাৎ মাটির নিচে চোখে পড়ে পুরোনো কিছু রুপার জিনিস। খবর পেয়ে সেখানে যান প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরীক্ষা করে তারা বুঝতে পারেন, এগুলো কোনো সাধারণ পুরোনো জিনিস নয়। বরং মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল ডেনমার্কে পাওয়া ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় রৌপ্যভান্ডার। এ ভাণ্ডার থেকে একে একে বেরিয়ে এসেছে প্রায় ৭০০টি রুপার তৈরি জিনিস। সব মিলিয়ে এসবের ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি। এর মধ্যে ছিল রুপার দণ্ড, নানা ধরনের অলংকার ও মুদ্রা। এমনকি থরের হাতুড়ির মতো দেখতে ছোট একটি রুপার জিনিসও পাওয়া যায়। এত বিপুল পরিমাণ রুপার তৈরি সামগ্রী একসঙ্গে পাওয়ার ঘটনা ডেনমার্কে খুবই বিরল। আরও পড়ুন মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ! মাশরুমের কফিনে সমাহিত অস্ট্রেলীয় নারী প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন, নিদর্শনগুলো ভাইকিং যুগের। অর্থাৎ এগুলো প্রায় এক হাজার বছর আগের সময়ের। দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে পড়ে থাকলেও অনেক নিদর্শন বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই আবিষ্কারটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভাইকিংদের ইতিহাসের সঙ্গে রুপার সম্পর্ক ছিল খুবই গভীর। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি তারা বাণিজ্যও করতেন। রুপা ছিল তাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া মুদ্রা ও রুপার সামগ্রী তাদের চলাচল ও বাণিজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তাই এই আবিষ্কার শুধু বিপুল পরিমাণ রুপা পাওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে ভাইকিংদের জীবনযাপন, বাণিজ্য, সম্পদের ব্যবহার এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এতগুলো নিদর্শন একই জায়গায় পাওয়া যাওয়ায় এর পেছনে বিশেষ কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। আরও পড়ুন ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর কোনগুলো? বাড়ির মালিকের জন্য অবশ্য শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। তিনি জানতেন না, নিজের বাড়ির মাটির নিচেই কয়েক শতাব্দী ধরে লুকিয়ে রয়েছে ভাইকিং যুগের এমন মূল্যবান নিদর্শন। খোঁড়াখুঁড়ির সময় একের পর এক রুপার সামগ্রী বেরিয়ে আসার পরই বিষয়টি সবার নজরে আসে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এখন খুঁজছেন এ রৌপ্যভান্ডারের রহস্য। কেন এটি সেখানে রাখা হয়েছিল, কার ছিল এবং কীভাবে এত বছর মাটির নিচে রয়ে গেল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। নিদর্শনগুলো পরীক্ষা ও গবেষণার পর এসব রহস্যের কিছুটা সমাধান হতে পারে। একই সঙ্গে ভাইকিং যুগের ডেনমার্ক ও সে সময়ের মানুষের জীবন সম্পর্কেও নতুন তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টএমডিআরএইচ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>