বিজ্ঞাপন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট এলাকায় কুকুরের কামড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও নোয়াখালী পৌর প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে চিঠি দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৭ জুলাই নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়। একই বিষয়ে নোয়াখালী পৌর প্রশাসকের কাছেও পৃথক চিঠি দেওয়া হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়, বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন। ফলে এ বিষয়ে তাদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নোয়াখালী পৌর প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা পৌরসভাকে চিঠি দিয়েছি। তারা এখনো কিছু জানায়নি। আমরা পৌরসভার সঙ্গে কথা বলব। তারা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আমাদের কতটুকু সহযোগিতা করে, সেটা দেখা যাক। এর আগে মনে হয় পৌরসভা এ ধরনের কার্যক্রম করেছিল।’
পৌরসভা উদ্যোগ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব উদ্যোগে কুকুরের টিকাদানের ব্যবস্থা করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে পৌরসভার সঙ্গে কথা বলব। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেলে পরে আমরা উদ্যোগ নেব। যেহেতু তাদের একটি ব্যবস্থা আছে, আগে সেটাই দেখা হবে। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত কুকুরের দল দেখা যায় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কুকুরের উপদ্রব আরো বেড়ে যায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরো দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত টিকাদান ও কুকুর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন