ব্রেকিং নিউজ
মুন্সীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২০ হাজার টাকা জরিমানা হুথিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পর সৌদিকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোপালগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে ২ নারীকে মারধর এবার কলেজে শিক্ষার্থীর জন্য হাহাকার, যে ১০ কলেজে সর্বোচ্চ আবেদন পরীক্ষার সূচিতে টাইট স্পেস, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন ভাবনায় ইসি ১২ দেশের বর্জনের মুখে ইসরায়েল, আন্তর্জাতিক চাপে থামবেন কি নেতানিয়াহু জার্মানির প্রথম দল ঘোষণাতেই ক্লপের চমক, চার ম্যাচের জন্য দুই স্কোয়াড ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট। বন বিভাগের সামনেই উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরি বনাঞ্চল নেশার টাকা না পেয়ে ১১ মাসের সন্তানকে বিক্রির হুমকি
জাতীয়

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসময় ভাগাড়ে তাকালেই দেখা মিলতো শকুনের। মৃত প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে বলে ‌‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’ বলা হয় এই প্রাণীকে। তবে দিন দিন কমছে শকুনের সংখ্যা। বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে প্রাণীটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ বছরে শুধু হবিগঞ্জেই শকুনের সংখ্যা কমে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে সারাদেশে ছিল ২০০ শকুন। এর মধ্যে হবিগঞ্জেই ছিল শতাধিক। বর্তমানে সরকারি হিসেবে আছে মাত্র ৬০টি। তবে বাস্তবে ৪০টির বেশি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাণীর শরীরে বিষাক্ত ওষুধের প্রয়োগই শকুন কমার একমাত্র কারণ। একটা সময় কী গ্রাম, কী শহর; সবখানেই শকুনের অবাধ বিচরণ ছিল। কোনো মরা প্রাণীর সন্ধান পেলেই আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াতো পাখিটি। আর আকাশে শকুন দেখেই মানুষ অনুমান করতো, এখানে কোনো মরা প্রাণী রয়েছে। প্রকৃতিতে ভারসাম্য রক্ষায় এ পাখিটির অবদান অপরিসীম। ‘সরকারি রেজিস্টার অনুযায়ী হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা বনাঞ্চলে বর্তমানে ৬০টি শকুন আছে। ২০২৪ সালে শতাধিক শকুন ছিল। এর মধ্যে এবছরই ৪০-৪৫টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে যায়। সেখানে একটি ছাগল মারা যায়। এটি খায় একটি শিয়াল ও একটি কুকুর। পরে এগুলোও বিষক্রিয়ায় মারা যায়। সেখানে এ মরা প্রাণী দুটি খেয়ে শকুনগুলোও মারা যায়। এরপর থেকে শকুন আর তেমন বাড়েনি’ আরও পড়ুন দেশে ২০০ শকুনের একশই হবিগঞ্জে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাখিটি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হতে চলেছে প্রকৃতির ভারসাম্য। শকুন রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তেমন কোনো ফল আসছে না বলে জানা গেছে। তবে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে শকুন রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) দায়িত্বরতরা। আরও পড়ুন তিমি-ডলফিনের করুণ মৃত্যু কি কোনো বড় বিপদের নীরব পূর্বাভাস? সংগঠনটির প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ। শকুনের ‘ফিল্ড অ্যাক্টিভিটি’ দেখার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এজন্য তাদের চারজনের একটি টিম রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, দেশের দুটি স্থানেই বর্তমানে শকুন রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবনে প্রায় ২০০টি এবং হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা বনাঞ্চলে আছে ৫০টি। ‘শকুন কখনো দ্বিতীয়বার সঙ্গী গ্রহণ করে না। যদি কখনো পুরুষ বা নারী শকুনের একটি মারা যায়, তবে তারা আর কোনো সঙ্গী গ্রহণ করে না। ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি থেমে যায়। মৌলভীবাজারে গিয়ে যেহেতু বেশকিছু শকুন মারা গেছে, তাই বংশবৃদ্ধি কমে গেছে’ সুলতান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও রেমা কালেঙ্গায় ১০০টির মতো শকুন ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে বেশ কিছু শকুন মৌলভীবাজারে চলে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে শকুনগুলো খাবারে বিষক্রিয়ায় মারা যায়। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এগুলোকে নিরাপদ খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য আলাদা বাজেট করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে শকুনের সংখ্যা বাড়তে পারে।’ আরও পড়ুন আন্দারমানিক নদীতে ভেসে এলো বিশাল আকৃতির মৃত তিমি রেমা কালেঙ্গায় শকুনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ সাজেন মুন্ডা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ২৫ জন আছি। আমাদের কাজ শকুনগুলোর দেখাশোনা করা।’ তিনি জানান, সরকারি রেজিস্টার অনুযায়ী এখানে বর্তমানে ৬০টি শকুন আছে। ২০২৪ সালে শতাধিক শকুন ছিল। এর মধ্যে এবছরই ৪০-৪৫টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে যায়। সেখানে একটি ছাগল মারা যায়। এটি খায় একটি শিয়াল ও একটি কুকুর। পরে এগুলোও বিষক্রিয়ায় মারা যায়। সেখানে এ মরা প্রাণী দুটি খেয়ে শকুনগুলোও মারা যায়। এরপর থেকে শকুন আর তেমন বাড়েনি। আরও পড়ুন জোনাকিরা কেন ভুলে গেল আমাদের উঠানের পথ? গ্রামপুলিশ সাজেন মুন্ডা বলেন, ‘আমাদের এখানে সরকারি উদ্যোগে মাসে দুটি গরু শকুনের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। আমরা সেগুলো জবাই করে দিয়ে আসি। সুন্দরবনেও একইভাবে শকুন সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগে খাবার দেওয়া হচ্ছে।’ সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে গাছে গাছে শকুনের ঝাঁক দেখা যেত। এখন শকুন তেমন দেখা যায় না। এখন শকুন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এগুলো বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ আরও পড়ুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি বাংলাদেশে, তবুও কেন হারিয়ে যাচ্ছে? একমাত্র পশুতে বিষ প্রয়োগের ফলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে মনে করেন এই ইউপি সদস্য। তিনি বলেন, রেমা কালেঙ্গায় বর্তমানে ৫০টির বেশি শকুন হবে না। তারা ঠিকমতো খাবার পায় না। খাবারের অভাবে শকুন দিন দিন কমছে। আইইউসিএনের তথ্য বলছে, ২০২৩-২০২৪ সালে শকুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৪৬টি। কিন্তু ২০২৪ সালে অন্তত ৪০টি শকুন মৌলভীবাজারের একটি পাহাড়ে চলে যায়। সেখানে ১০টি স্ত্রী শকুন ছিল। সেখানে বিষক্রিয়ায় শকুন মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ছাগলে বিষাক্ত ওষুধ কিটোপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাক প্রয়োগ। আরও পড়ুন এক রানির কয়েকশো রাজা, পরোপকারী মৌমাছির বিচিত্র জীবন তবে আশার কথা হলো ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে শকুনের জন্য সরকারিভাবে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। শকুন সংরক্ষণের জন্যও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে সময়ের সঙ্গে শকুন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শিয়াল মারার জন্য অনেক স্থানেই কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিয়াল মারায় কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইইউসিএনের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ বলেন, ‘শকুন কখনো দ্বিতীয়বার সঙ্গী গ্রহণ করে না। যদি কখনো পুরুষ বা নারী শকুনের একটি মারা যায়, তবে তারা আর কোনো সঙ্গী গ্রহণ করে না। ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি থেমে যায়। মৌলভীবাজারে গিয়ে যেহেতু বেশকিছু শকুন মারা গেছে, তাই বংশবৃদ্ধি কমে গেছে।’ ইআরকে/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>