ব্রেকিং নিউজ
রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, কৃষ্ণ সাগরে একাধিক জাহাজ ধ্বংস শাহজালালের মাজারের ডেগ-দানবাক্সে ৮৯ লাখ টাকা, পাওয়া গেছে স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রাও ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ১,২৩২ অপ্রতিমের মৃত্যুতে স্তব্ধ সবাই, সন্তানকে হারিয়ে কান্না থামছে না মা–বাবার অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যের অভিনয়ের প্রস্তাব, অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নায়িকা চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে উড়িয়ে ব্রাইটনের দাপুটে জয় অপ্রতিমের সেই আইফোন উদ্ধার, আরও যা জানা গেল ঢাকাসহ ৩৭ জেলায় তীব্র বজ্রপাতের শঙ্কা, হতে পারে ভারী বৃষ্টি নভেম্বরে দেশে ফেরার কথা ছিল, ফিরবেন নিথর হয়ে- সৌদিতে প্রবাসী রনির মৃত্যু নালিতাবাড়ীতে চিরকুট লিখে প্রাণ দিল চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী
জাতীয়

পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় এবং নতুন কাজের আদেশ কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি) গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাদের ব্যবসা মূলত এখাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা বর্তমানে স্থবিরতা ও ধীরগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজের আদেশ কমে যাওয়া এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পোশাকের উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে দেশের পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে স্থানীয় পোশাকশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বিভিন্ন দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। পাশাপাশি পরোক্ষ রপ্তানির মাধ্যমে এ খাতের রপ্তানি আয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ফলে পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক শিল্প দেশের রপ্তানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্প হিসেবে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কেন নেতিবাচক প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। পোশাকশিল্পে কোনো ধরনের সংকট দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পোশাকের উপকরণ প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়। এর সঙ্গে বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের চাহিদাও হ্রাস পায়। ফলে এসব উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, আয় ও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শাহরিয়ার আরও বলেন, পাশাপাশি, পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক সংকটে পড়লে সরবরাহকারীদের বিল ও পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে। এতে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের নগদ অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মুনাফার পরিমাণও কমে যায়। বিপিএএমইএ সভাপতি জানান, পোশাকশিল্পের সংকট শুধু পোশাক কারখানাগুলোকেই প্রভাবিত করে না; এর প্রভাব পুরো সরবরাহব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পোশাকশিল্প ও উপকরণশিল্প একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে অন্য খাতেও এর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি যা বলছেন প্রস্তুতকারকরা পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে গার্মেন্টসের আনুষঙ্গিক ও প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। পোশাকের অর্ডার কমলে স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ডারও কমে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্পভাবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় পোশাক কারখানাগুলোর কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে, বলে জানিয়েছেন বিপিএএমইএর পরিচালক ও বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অর্ডার কম থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন অর্ডার আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারী আদিল ট্রিমসের স্বত্বাধিকারী এস এম আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, একসময় ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকের উপকরণ সরবরাহের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় নতুন করে উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের অর্ডারও কমে গেছে। এর পাশাপাশি চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারীদের ব্যবসায়। আরও পড়ুন পোশাক কারখানায় তালা, কর্মসংস্থানের দরজা কি বন্ধ হয়ে যাবে? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল শিল্প, ১১ দফা দাবি বিকেডিওএ’র আরিফুর রহমানের মতে, রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহ উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। কাজ কমে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধের চাপ রয়েছে। এতে শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক ব্যবসায়ী। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি বেশি কঠিন। বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাদের নগদ অর্থের মজুত ও ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হওয়ায় কয়েক মাসের কম অর্ডার ও উচ্চ ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তারা। আরও পড়ুন নারায়ণগঞ্জ / গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন, বাড়ছে কারখানা বন্ধের শঙ্কা গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংকট কাটাতে কী প্রয়োজন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে জরুরি হলো শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হবে, বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় কমবে এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করলেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্ডার বাড়ানো, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। তাদের দাবি, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ শিল্পকে শুধু পোশাক খাতের সহায়ক শিল্প হিসেবে দেখলে হবে না। তৈরি পোশাকের সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি অর্ডার বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। আইএইচও/এমএমএআর/এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>