১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর থেকেই সাড়া ফেলেছে ‘কাহিনি এখনো বাকি’। গানটিতে নব্বইয়ের নস্টালজিয়া রয়েছে, সুরে-মেজাজেও সেই সময়ের আবহ। শাহরুখ–কাজল জুটির ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’ গানের আদলে গানটি তৈরি হয়েছে।
আসিফ জাহাঙ্গীর পরিচালিত ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর জন্য গানটি সুর করেছেন সৈয়দ নাফিস, মৌমিতা বড়ুয়ার সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠও দিয়েছেন নাফিস।

বাবার ডায়েরিতে শৈশবের গান
বাবা ত্রিদিব বড়ুয়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। ফলে মৌমিতা বড়ুয়াদের বাড়ির পরিবেশও ছিল সংগীতময়।
বাবার কারণেই বিভিন্ন সময়ের অনেক গান তাঁদের শৈশবেই পরিচিত হয়ে ওঠে। বাবা নিজে যেসব গান গাইতেন বা পরিবেশন করতেন, সেগুলোও দুই বোনের কানে লেগে থাকত। ফলে জন্মের আগের সিনেমার গানও তাঁদের কাছে একেবারে অপরিচিত ছিল না।
বাবার হাতে লেখা গানের ডায়েরি ছিল মৌমিতাদের গানের খাতা, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সিনেমাটি মুক্তির সময় হয়তো আমার জন্মও হয়নি। বাবার ডায়েরিতে ডিডিএলজের গানগুলো পেয়েছিলাম। বাবার ডায়েরি দেখে আমি আর আমার ছোট বোন গানগুলো গাইতাম ছোটবেলায়।’
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সিনেমাটি তাঁর বাবা-মায়ের খুব প্রিয়। শাহরুখ খানও পরিবারের পছন্দের অভিনেতা। ফলে শাহরুখের নব্বইয়ের দশকের সিনেমা এবং সেসব সিনেমার গান তাঁদের কাছে ছিল খুব পরিচিত।

সেরাকণ্ঠের মঞ্চে
মৌমিতা বলেন, ‘অনেকে ফ্যামিলির সাপোর্টটা পায় না। কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই পরিবার, আত্মীয়স্বজন, স্কুল-কলেজের শিক্ষক—সবার সাপোর্ট পেয়েছি।’ বাবার কাছেই সংগীতের হাতেখড়ি।
পরে সুব্রত দাস, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নিয়েছেন। ২০১৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’তে নাম লেখান মৌমিতা। বাসা থেকেই নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের গান গাইতে হয়। যে যত বেশি ভার্সেটাইল, সে তত বেশি টিকে থাকবে। তাই প্রতিযোগিতাটা আমি উপভোগ করতাম। মনে হতো, এখানে নিজেকে প্রমাণ করার অনেক কিছু আছে।’

২০২৪ সালে জাহিদ প্রীতমের ওয়েব সিরিজ ফ্রেঞ্জি–এর ‘প্রেমের মতোন লাগে’ গেয়ে শ্রোতামহলে পরিচিতি পেয়েছেন মৌমিতা বড়ুয়া। গানটি তাঁর নিজেরও ভীষণ প্রিয়।
এ বছর দ্য পোস্টের আয়োজনে ‘কর্ণফুলী দুলি দুলি’সহ চারটি গান কণ্ঠে তোলেন মৌমিতা।
‘কর্ণফুলী দুলি দুলি’ গানটি শ্রোতামহলে সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘এই গান সবচেয়ে বেশি যাদের আকর্ষণ করেছে, তারা হচ্ছে পাহাড়িরা। কারণ, তাদের যে বিপর্যয়, ওটা তো আসলে আমরা যারা সমতলে আছি, আমরা ফিল করতে পারব না। জমি, ঘরবসত, ঠিকানা—সবকিছুই তারা হারিয়েছে। বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারটা ছিল। এই প্রেক্ষাপট থেকে গানটা। এটা আমি খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছি।’

এর বাইরে প্রয়াত গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও অপু আমানের সুরে ‘একটি ছেলে’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। মৌমিতা বলেন, ‘তিনি মারা যাওয়ার আগে যে কটি প্রজেক্ট করেছিলেন, তার মধ্যে এই গানও ছিল। গানটা উনি আমাকে সামনে বসিয়ে লিখেছেন।’ গানের রেকর্ড শেষ, শিগগিরই প্রকাশিত হবে।
‘তোমায় রেখেছিলাম এগিয়ে’ শিরোনামে আরেকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি লিখেছেন আসিফ ইকবাল, সুর করেছেন কুমার বিশ্বজিৎ।
দুর্গাপূজায় প্রকাশিত হবে ‘মেঘের দেখা’, গানটির কথা লিখেছেন সৈয়দ নাফিস, সুর করেছেন মিঠুন চক্র।

‘মিউজিকের হাত ধরে হাঁটি’
পরিকল্পনা কী?—জানতে চাইলে মৌমিতা বলেন, সংগীত তাঁকে যে পথে নিয়ে যাবে, সেই পথেই হাঁটতে চান। তিনি বলেন, ‘মিউজিককে কখনো আমার হাত ধরে হাঁটাই না। আমি মিউজিকের হাত ধরে হাঁটি। আমাকে যে পথে নিয়ে যায়, ওই পথেই যাই। এখনো আসলেই জানি না। এবং আমার মনে হয় না যে কেউ জানে, ভবিষ্যতে আসলে কী হবে।’
গান করার পাশাপাশি শিশুদের গান শেখান মৌমিতা, ‘১০ বছর পর ১০টা বাচ্চাও যদি বলে, আমার কাছ থেকেই তারা সুরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে বা গান শিখেছে, সেটাই আমার জন্য বিশাল পাওয়া।’
মৌমিতা বড়ুয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>