ব্রেকিং নিউজ
খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হলো চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উপাচার্য ভবনে তালা শ্রীলঙ্কায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, পাওয়া গেছে ৫৭২টি কঙ্কাল হুতিদের হামলায় বিপদে সৌদি, যুবরাজের সহায়তার আবেদনে উভয়সংকটে ট্রাম্প সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশ-চীন বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ রিহ্যাব সভাপতি আফজালের পদ শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত পার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’
জাতীয়

ভাষা শেখার অ্যাপগুলো কি আসলেই কার্যকর

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে নতুন একটি ভাষা শেখার জন্য আলাদা করে সময় বের করা বেশ কঠিন। তাই অনেকেই এখন স্মার্টফোনের বিভিন্ন ভাষা শেখার অ্যাপের ওপর ভরসা করছেন। বাসে, ট্রেনে বা অবসরের ফাঁকে প্রতিদিন কিছুটা সময় ব্যয় করে নতুন ভাষা আয়ত্ত করার এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হয়তো আপনার স্মার্টফোনেও এমন কোনো অ্যাপ রয়েছে, যা প্রতিদিন নিয়ম করে আপনাকে ভাষা শেখার কথা মনে করিয়ে দেয়। গত পাঁচ মাস ধরে আমিও এমন একটি অ্যাপের সাহায্য নিচ্ছি। প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট পাঠ বা লেসন শেষ করার এক অদ্ভুত তাড়না কাজ করে। কয়েক মাস এভাবে যাওয়ার পর একদিন হঠাৎ রাস্তায় দুজন জার্মান নাগরিকের কথোপকথন শুনে চমকে উঠলাম—আরে, আমি তো তাঁদের কথার টুকটাক বুঝতে পারছি! কিন্তু পরক্ষণেই একটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করল। এভাবে শুধু অ্যাপের ওপর ভরসা করে কি সত্যিই কোনো ভাষায় অনর্গল কথা বলা সম্ভব? নাকি এটি নিছকই একটি গেমের নেশা? চলুন, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এর আসল উত্তরটা খুঁজে বের করা যাক।

ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার হিস্পানিক ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিলিয়ান লর্ডের মতে, ছোট ছোট বাক্য আর শব্দভান্ডার শেখার ক্ষেত্রে অ্যাপগুলো সত্যিই দারুণ কাজ করে।

ভাষা শেখার অ্যাপগুলো কীসে ভালো

ডুওলিঙ্গো বা ব্যাবেলের মতো অ্যাপগুলো একটি বিশাল ভাষাকে ছোট ছোট, গেমের মতো লেসনে ভেঙে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দান অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির ফলিত ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক লুক প্লনস্কির মতে, এগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এরা অডিও, টেক্সট ও ভিজ্যুয়ালের এক দারুণ মিশেল তৈরি করে। ফলে নতুন একটি শব্দ দেখতে কেমন, শুনতে কেমন এবং এর মানে কী, তা সহজেই আপনার মাথায় গেঁথে যায়।

এ ছাড়া অ্যাপগুলো বিরতি দিয়ে অনুশীলনের সুযোগ করে দেয়। ধরুন, আপনি টানা ৩০ মিনিট ধরে কিছু শব্দ মুখস্থ করলেন। তার চেয়ে যদি ওই ৩০ মিনিটকে ১০ মিনিট করে তিন দিনে ভাগ করে নেন, তবে শব্দগুলো বেশি দিন মনে থাকবে।

ডুওলিঙ্গোর ক্যারেক্টার লিলি

অ্যাপগুলো ঠিক এই কাজটাই করায়। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার হিস্পানিক ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিলিয়ান লর্ডের মতে, ছোট ছোট বাক্য আর শব্দভান্ডার শেখার ক্ষেত্রে অ্যাপগুলো সত্যিই দারুণ কাজ করে।

এগুলোর মানসিক বা ইমোশনাল আবেদনও কিন্তু সাংঘাতিক! ডুওলিঙ্গোর ক্যারেক্টার লিলির সেই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য কিংবা এক্সপি ও স্ট্রিক বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ; এগুলো আপনাকে অনেকটা গেমের নেশায় আটকে রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির ড্যানিয়েল ইজবেলের মতে, ভাষা শেখাটা কোনো স্প্রিন্ট বা স্বল্প দূরত্বের দৌড় নয়, বরং এটি একটি ম্যারাথন। এই অ্যাপগুলো সেই লম্বা দৌড়ে টিকে থাকতে প্রতিদিন আপনাকে তাগিদ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্দান অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির ফলিত ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক লুক প্লনস্কির মতে, অ্যাপগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এরা অডিও, টেক্সট ও ভিজ্যুয়ালের এক দারুণ মিশেল তৈরি করে।

অ্যাপগুলো ঠিক কোথায় হোঁচট খায়

এত সব ভালো কথার পর একটি দুঃসংবাদ দিই। শুধু অ্যাপ দিয়ে আপনি কখনোই বাস্তব জীবনের আড্ডায় বাজিমাত করতে পারবেন না।

ড. জিলিয়ান লর্ড বলছেন, ‘অ্যাপে হয়তো আপনাকে একটি শব্দ উচ্চারণ করতে বা নির্দিষ্ট উত্তর দিতে বলা হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনের কথোপকথন তো আর কোনো স্ক্রিপ্ট বা পূর্বনির্ধারিত পাণ্ডুলিপি মেনে চলে না!’ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তাৎক্ষণিক অর্থ বোঝা, ভুল-বোঝাবুঝি সামলানো এবং অন্যের কথার ধরনে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো জটিল কাজ অ্যাপ দিয়ে শেখা যায় না। ড. ইজবেলের ভাষায়, অ্যাপ আপনাকে হয়তো সাবওয়ের সাইনবোর্ড পড়া বা রাস্তা চেনার মতো মৌলিক বিষয়গুলো শিখিয়ে দেবে, কিন্তু স্কুল বা অফিসে সাবলীলভাবে কথা বলার জন্য তা মোটেও যথেষ্ট নয়।

আরও কিছু বড় সমস্যা রয়েছে। অ্যাপগুলো ব্যাকরণের কঠিন নিয়মগুলো এড়িয়ে চলে, অথচ বয়স্করা অনেক সময় বাক্যের গঠনটা নিখুঁতভাবে বুঝতে চান। ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশাল সংস্কৃতিকে অ্যাপগুলো শুধু কয়েকটা উৎসব বা পর্যটন তথ্যের মধ্যে আটকে ফেলে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬৪ শতাংশ মানুষ মাত্র চার মাস পরেই অ্যাপটি ব্যবহার করা ছেড়ে দেন! অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যে এক হাজার দিনের স্ট্রিক দেখেন, তার বিপরীতে হাজার হাজার মানুষ এক মাসেই হাল ছেড়ে দেন। কারণ, এখানে অফলাইন ক্লাসের মতো মানুষের কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে না।

ড. ইজবেলের ভাষায়, অ্যাপ আপনাকে হয়তো সাবওয়ের সাইনবোর্ড পড়া বা রাস্তা চেনার মতো মৌলিক বিষয়গুলো শিখিয়ে দেবে, কিন্তু স্কুল বা অফিসে সাবলীলভাবে কথা বলার জন্য তা মোটেও যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের টিপস

তাহলে এখন উপায় কী? অ্যাপ কি আনইনস্টল বা ডিলিট করে দেবেন? একদমই না! ড. প্লনস্কি বলছেন, ‘অবশ্যই অ্যাপ ব্যবহার করুন। শুরুতে ভাষাটির সঙ্গে পরিচিত হতে এর চেয়ে মজার উপায় আর নেই।’ তবে ড. লর্ডের পরামর্শ হলো, এর পাশাপাশি আপনাকে বাস্তব দুনিয়ায় নামতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সরাসরি কোনো ক্লাসে ভর্তি হয়ে যান, যেখানে আসল মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে।

আর হ্যাঁ, যে ভাষাটি শিখছেন, সেই ভাষার মুভি, টিভি শো, পডকাস্ট বা গান শোনার অভ্যাস করুন। যেমন, আপনি যদি কোরিয়ান শিখতে চান, তবে ডুওলিঙ্গোর পাশাপাশি কে-ড্রামা দেখতে পারেন! শুধু সাবটাইটেল পড়ার চেয়ে তাঁদের কথা শোনার দিকে বেশি মনোযোগ দিন।

তো আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? আমি ঠিক করেছি, নিয়মিত অধ্যবসায় ধরে রাখতে আমার অ্যাপের ‘স্ট্রিক’ আমি ঠিকই বাঁচিয়ে রাখব। কিন্তু সেই সঙ্গে বাস্তব মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিতে একটি অফলাইন ক্লাসেও ভর্তি হয়ে যাব। সেখানেই হবে আমার আসল পরীক্ষা!

সূত্র: পপুলার সায়েন্স

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>