জাতীয়

সিলগালা গোডাউন থেকে দুই কোটি টাকার কীটনাশক উধাও

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় একটি সিলগালা গোডাউনে জব্দ ৮৮ টন নিষিদ্ধ ব্রিফার জি-৫ (কার্বোফুরান) চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই বছর আগে কৃষি বিভাগ, র‍্যাব-১৩, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এসিআই কোম্পানির দুই কোটি টাকার এই বালাইনাশক (কীটনাশক) জব্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জব্দকৃত নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে আসলে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় গোডাউনের সিলগালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান দেওয়ালের পেছনের দিকে প্রায় পাঁচ ফুটের মতো নতুন করে সংস্কার করা। এই স্থান দিয়ে কে বা কারা নিষিদ্ধ কীটনাশকগুলো চুরি করে নিয়েছে। জব্দ বালাইনাশকের মালিক মনোয়ার হোসেনের দাবি, গোডাউনের সিলগালা ভাঙার সময় প্রশাসনের লোকজন তাকে ডাকেনি। তিনি আগে থেকে এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। লোকমুখে শুনেছেন তার গোডাউন থেকে জব্দ কীটনাশক উধাও হয়ে গেছে, অথচ মামলার পর এর আশেপাশে কোনো দিন তিনি যাননি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন দুপুরে বিসিক শিল্প নগরীর একটি গোডাউন থেকে নিষিদ্ধ বালাইনাশক বিফার ৫ জি ট্রাকে করে যশোরে নেওয়া হচ্ছিল। এসময় কৃষি বিভাগ, র‍্যাব-১৩, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গোডাউনে থাকা নিষিদ্ধ ৮৮ টন বালাইনাশক জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রশাসনের উপস্থিতিতে গোডাউনটি সিলগালা ও মালিক মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বাদি হয়ে সৈয়দপুর থানায় নিয়মিত মামলা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্বোফুরান নামের এই বালাইনাশকটি মানুষতো বটেই, বেশিরভাগ প্রাণীর জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কারণে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ এটি নিষিদ্ধ করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়। এরপর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৮টি দেশ বালাইনাশকটি নিষিদ্ধ করেছে। আরও পড়ুন ৫ হাজার মণ পাট মজুত করায় গোডাউন সিলগালা মালাটি দুই বছর চলার পর আদালতের নির্দেশে গোডাউনে জব্দ নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে আসেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় সিলগালা ভেঙে গোডাউনে প্রবেশ করে ভিতরে সব কার্টুন ফাঁকা দেখতে পান। সেখানে মাত্র ১২৩ প্যাকেট প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোও ছেড়া ফাটা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব ধ্বংস না করে বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে চলে যান। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বালাইনাশক ধ্বংসকরণ অভিযানে গেয়েছিলাম। পরে সেখানে সিলগালা ভেঙে গোডাউনের ভেতরে যে পরিমাণ মালামাল থাকার কথা ছিল তা পাওয়া যায়নি। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে ধ্বংস না করেই ফিরে গেছেন। সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের ভাষ্য, তিনি প্রায়ই গোডাউনের গেটে থাকা সিলগালা চেক করেছেন। বাহিরে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, ভেতরের মালাগুলো চুরি হয়েছে। তার দাবি, গোডাউনের ভেতরের দেয়ালে এক জায়গায় নতুন প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে, হয়ত সেখান দিয়ে মালামাল সরানো হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার বাদি ধীমান ভূষণ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে সিলগালা ভাঙা দেখতে পান। ভেতরে মাত্র কীটনাশকের ১২৩টি প্যাকেট পাওয়া গেছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ধ্বংস অভিযান পরিচালনা না করেই চলে যান। বাকি প্যাকেটগুলো কীভাবে চুরি বা উধাও হয়েছে এ বিষয়ে আদালত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে। জব্দ বালাইনাশকের মালিক মনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, পুলিশের নিষেধ থাকায় আমি বিসিক এলাকায় যায়নি। আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল ও দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ দেখানো হয়েছে। অথচ তার সব কাগজপত্র বৈধ। সিলগালা গোডাউন থেকে কীভাবে কীটনাশক চুরি হলো তা তিনি জানেন না। তদন্ত করে মালামালগুলো উদ্ধারের দাবি তার। আমিরুল হক/এসজেডএইচ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>