জাতীয়

শখ থেকে ব্যবসা, পুরোনো মোটরসাইকেলে বিক্রি করেই সফল রাসেল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সফলতার গল্প সব সময় বড় পুঁজি কিংবা পারিবারিক ব্যবসা দিয়ে শুরু হয় না। অনেক সময় ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্যই বদলে দিতে পারে একজন মানুষের জীবন। এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম মোহাম্মদ রাসেল হাওলাদার। ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি ছিল তার অন্যরকম ভালোবাসা। একসময় সেই ভালোবাসাই রূপ নেয় স্বপ্নে, বড় হয়ে শখের কেনা মোটরসাইকেল বিক্রি করে শুরু করেন পুরোনো মোটরসাইকেলের ব্যবসা। বর্তমানে এই তরুণ গড়ে তুলেছেন পুরোনো মোটরসাইকেল বিক্রির শোরুম। ঢাকার মিরপুর-৬ নম্বরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রাসেল হাওলাদার। মিরপুরেই দিয়েছেন পুরোনো মোটরসাইকেলের শোরুম। ২৫ বছর বয়সি এই যুবকের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায়। মিরপুর-১৩ নম্বরের মোটরসাইকেলের হলিডে বাইক হাটে তিনি বাইক বিক্রি করেন রাসেল হাওলাদার ঢাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে যা আয় করতেন, সেখান থেকে টাকা জমাতে থাকেন। একপর্যায়ে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় থেকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনে আরও পড়ুন বিদেশে প্রতারণার শিকার, দেশে ফিরে পুরোনো বাইকের ব্যবসায় সফল মেহেদী ন। তবে সেটি কেনার পেছনে তখন ব্যবসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। নিজের শখ পূরণের জন্য কিনছিলেন। কয়েক মাস বাইকটি ব্যবহার করার পর তা বিক্রি করেন। এতে কয়েক হাজার টাকা লাভ হয়। এই সামান্য লাভই তার চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর সেই টাকা দিয়ে আবার একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনেন। সেটি কিছুদিন পর লাভে বিক্রি করেন। একইভাবে একের পর এক বাইক কিনে বিক্রি করতে থাকেন। লাভের অঙ্কও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ব্যবসা বড় করার জন্য তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। কেউ মোটরসাইকেল বিক্রি করতে চাইলে খবর নিতেন, বাইকের অবস্থা যাচাই করতেন এবং বাজারদর অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে কিনে নিতেন। এরপর প্রয়োজন হলে ছোটখাটো মেরামত বা সার্ভিসিং করিয়ে আবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতেন। ধীরে ধীরে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে।   একসময় একার পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন নিজের মতো স্বপ্ন দেখা আরও তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পুরোনো মোটরসাইকেলের একটি শোরুম দেন রাসেল। শুরুতে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাদের কাছে রয়েছে ২৫টি মোটরসাইকেল। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল ও দামের বাইক থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে পারছেন তারা। তাদের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে মিরপুর-১৩ নম্বরের পুরোনো মোটরসাইকেলের হাট। প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত এই হাটে আসেন রাসেল ও তার বন্ধুরা। সাধারণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো অবস্থার মোটরসাইকেল কিনে নেন। আবার অনেক সময় একই হাটেই সেই বাইক বিক্রিও করে ফেলেন। সম্প্রতি মিরপুর-১৩ নম্বরের মোটরসাইকেলের হলিডে বাইক হাটে কথা হয় মোহাম্মদ রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি জানান, হাটে ১৪টি মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য নিয়ে আনছেন। হাটে অনেক ক্রেতা আসে, তাই এখানে বিক্রি বেশি হয়। তবে হাটে বিক্রি করলে বিক্রয়মূল্যের ২ শতাংশ হাট কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো শোরুম থেকে বিক্রি করা হয়। ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি ছিল তার অন্যরকম ভালোবাসা রাসেল হাওলাদার মোহাম্মদ রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের ব্যবসা করার ইচ্ছে ছিল। তাই বড় হওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করেছি। সেখান থেকে টাকা জমিয়ে নিজের শখে চালানোর জন্য ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কিনি। কয়েক হাজার টাকা লাভে তা বিক্রি করি। তখন মনে হলো, এভাবে পুরোনো মোটরসাইকেল কেনাবেচা করলে ভালো লাভ করা সম্ভব। এরপর সেই টাকা দিয়ে আবার আরেকটি মোটরসাইকেল কিনি। ধীরে ধীরে লাভের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগ করি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো মোটরসাইকেল কিনি ও বিক্রি করতে শুরু করি। এভাবে ব্যবসা ভালো চলতে থাকায় তিন বন্ধু মিলে একটি পুরোনো মোটরসাইকেলের শোরুম দিই।’ আয়ের বিষয়ে এ তরুণ বলেন, ‘পুরোনো মোটরসাইকেলের ব্যবসায় লাভ সব সময় এক রকম থাকে না। বাইকের অবস্থা, বাজারদর, মডেল, কাগজপত্র, মেরামতের খরচ এবং ক্রেতার সঙ্গে দর-কষাকষির ওপর লাভ নির্ভর করে। সব খরচ বাদ দিয়ে আমার মাসে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় থাকে। আলহামদুলিল্লাহ এই আয় দিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবেই সংসার চালাতে পারছি। সামনে ব্যবসাটা আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।’ আরও পড়ুন মানবপাচারের দৌরাত্ম্য, যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা রাসেল হাওলাদারের এই গল্প শুধু একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীর সাফল্যের গল্প নয়, এটি একজন স্বপ্নবাজ তরুণের সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের গল্প। তার পথচলা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শুরুটা ছোট হলেও, স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণে নিরলস চেষ্টা থাকে, তাহলে একদিন সাফল্য ঠিকই আসবে। কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>