জাতীয়

যেভাবে বেঁচে ফিরলেন বাংলাদেশি জাহাজের নাবিকেরা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
  ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে একের পর এক। মাত্র ২০০ মিটার দূরে জ্বলছে তেলের সংরক্ষণাগার। কাজ করছে না জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা। চারদিকে শুধু যুদ্ধের আতঙ্ক! এমন পরিস্থিতিতেও ৩১ জন নাবিক, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং ৮২ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় চার মাস পারস্য উপসাগরে আটকে ছিলেন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইসলাম। অবশেষে দেশে ফিরে সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫১ বছর বয়সী এই নাবিক বলেন, ‘আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ ৩১টি প্রাণ, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং ৮২ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব আমার ওপর ছিল।’ যুদ্ধ শুরুর আগেই পৌঁছেছিল জাহাজ মোহাম্মদ ইসলাম ছিলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের ক্যাপ্টেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রায় এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছায় জাহাজটি। আরও পড়ুন ৪৮ দিন পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে ‌‘বাংলার জয়যাত্রা’ সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের চার্টারে পরিচালিত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ প্রায় চার মাস যুদ্ধের কারণে আটকে ছিল। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের বাইরের অংশে পৌঁছায় জাহাজটি। সেখানেই যুদ্ধের আবহ টের পান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইসলাম। তার কথায়, ‘বাতাসেই যেন অশনিসংকেত ছিল।’ ২০০ মিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ ভোরে জাহাজ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল সংরক্ষণাগারে বিধ্বংসী আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায় পুরো স্থাপনা। নাবিকেরা আতঙ্ক নিয়ে দেখছিলেন, টাগবোটগুলো কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সবাইকে জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এই আশায় জাহাজেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু এরপর আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় নেভিগেশন ব্যবস্থা পরবর্তী কয়েকদিনে বারবার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ। একপর্যায়ে জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায়। আরও পড়ুন হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ তখন বহু বছর পর আবারও হাতে-কলমে জাহাজ চালাতে হয় ক্যাপ্টেন ইসলামকে। তিনি বলেন, বাতিঘর দেখে দেখে পথ নির্ধারণ করতে হয়েছে, যাতে জাহাজ সঠিক পথে থাকে। কোরআন তিলাওয়াত, টিকটক আর রেশনিং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে যাওয়ার নির্দেশ পেলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিকে এগোতে দেয়নি। বারবার চেষ্টা করেও একই পরিণতি দেখতে হয়। একসময় জাহাজে বিশুদ্ধ পানির মজুত কমে আসে। খাবারও সংকটের মুখে পড়ে। তখন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেন ক্যাপ্টেন ইসলাম। আরও পড়ুন নৌপরিবহন মন্ত্রী / ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে ফেরাতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ চলছে তিনি বলেন, অনেক নাবিক ছিলেন প্রথমবারের মতো সমুদ্রে আসা তরুণ। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কেউ সারাদিন কোরআন তিলাওয়াত করতেন। কেউ সময় কাটাতেন টিকটক দেখে। আর তিনি শুধু চেষ্টা করেছেন সবাইকে শান্ত রাখতে। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও একবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। অবশেষে ২৩ জুন জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়। হরমুজ পার হওয়ার পরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সবাই। ক্যাপ্টেন ইসলাম বলেন, ‘মনে হয়েছে, আল্লাহই আমাদের পথ দেখিয়েছেন।’ তিনি জানান, জাহাজে থাকা নাবিকদের পাশাপাশি দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তানকেও প্রতিদিন আশ্বস্ত করতে হয়েছে। কারণ তারাও দিনের পর দিন উদ্বেগে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। প্রতিবার বাড়ি ফিরলে পরিবার তাকে সমুদ্রের চাকরি ছেড়ে দিতে বলে। তবে এখনই থামতে রাজি নন মোহাম্মদ ইসলাম। তার কথায়, ‘আমি আরও অনেক বছর সমুদ্রে কাজ করে যেতে চাই।’ সূত্র: এএফপিকেএএ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>