বিজ্ঞাপন
তিনদিনে ৫ ক্যাম্পাসে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ
ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের আস্ফালনে ‘ধৈর্যহারা’ ছাত্রদল
ছাত্র সংসদে জিতে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ মনোভাবে ছাত্রশিবির
দায়িত্বশীল আচরণ-গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণে তাগিদ
আধিপত্য বিস্তার ও আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্যাম্পাসগুলোতে এখন মুখোমুখি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তিনদিনে দেশের অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। লাঠিসোঁটা, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। ঘটনার রেশ দেশের অন্য ক্যাম্পাসগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যে কোনো সময় অন্যান্য ক্যাম্পাসেও সংঘর্ষে জড়াতে পারে ছাত্রদল-শিবির নেতাকর্মীরা। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ—২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ‘অকারণে’ ছাত্রদল তাদের সঙ্গে ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। তারা ধৈর্যধারণ করায় পরিস্থিতি এতদিন স্বাভাবিক ছিল। শিবিরকর্মীরা আর ধৈর্য ধরতে রাজি নন।
জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে জকসু এজিএসকে রক্তাক্ত
‘ধৈর্য হারানোর’ কথা বলছে ছাত্রদলও। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ‘বিএনপি সরকারে। অথচ ক্যাম্পাসে আস্ফালন করছে শিবির। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধৈর্য ধরে এসব দেখা আর সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুন
ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের এমন মুখোমুখি অবস্থানে তারা ভীতসন্ত্রস্ত। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেমন ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, ফের সেদিকেও হাঁটছে ছাত্রদল ও শিবির। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর তারা নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রত্যাশায় ছিলেন। তাদের দাবি সরকার ও বিরোধীদল যেন তাদের ছাত্রসংগঠনকে সামলে রাখে। তা না হলে সাধারণ ছাত্ররাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।
ছাত্রলীগের অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি হয়ে পড়ে একসময়ের বন্ধুভাবাপন্ন দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তখন থেকেই একে অপরেরর বিরুদ্ধে নানা ট্যাগিং করছে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলকে ‘চাঁদাবাজ’, ‘খাম্বাদল’ ও ‘চাচ্চুদল’সহ নানা রকম ট্যাগিং করে আসছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলও শিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’, ‘রাজাকার’ বলে ট্যাগিং করে আসছিল।
ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘাত
তিনদিনে পাঁচ ক্যাম্পাসে সংঘাত
২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিবির-সমর্থিত হল সংসদের এজিএসের কক্ষে বহিরাগত দুই তরুণের সমকামিতার অভিযোগ ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পরস্পর বিরোধী স্লোগান দিয়ে দুই পক্ষই বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন
সায়েন্সল্যাবে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আহত একাধিক
পরদিন ৩ আগস্ট রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রদর্শনীতে আওয়ামী লীগের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ছবি প্রদর্শন ঘিরে এ ঘটনার সূত্রপাত।
বেরোবিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ
জানা যায়, শিবিরের প্রদর্শনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি টাঙানো হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রোষানলে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদরা’।
ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যে বা যারা এসব ঘটনায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে কোনো সন্ত্রাস বরদাশত করবো না।
তবে নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদীর ছবি টাঙানোর আপত্তি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেরার চেষ্টা করেন। এতে শিবির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় পিছু হটেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে তারা সংগঠিত হয়ে শিবির নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন। পরে শিবির আবারও পাল্টা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাস ছাড়া করে।
আরও পড়ুন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় / ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল, দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৫০ জনের বেশি
পরে সেখানে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ‘হই হই রই রই, ছাত্রদল গেলি কই’; ‘পালাইছে রে পালাইছে, ছাত্রদল পালাইছে’; ‘ছাত্রদলের চেহারায় ছাত্রলীগ দেখা যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ছাত্রদলকে ধাওয়া দেওয়ার এবং স্লোগানের ভিডিও ব্যাপকভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা।
জগন্নাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ
বেরোবির ঘটনার জেরে ছাত্রদল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, যার প্রতিফলন দেখা যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা, সেনাবাহিনীকে কাজ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরাও। তবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশে তাদের বাধা দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জবিতে সংঘর্ষের পর হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটে
ঘটনার জেরে জকসু ভিপি, জিএস, এজিএসসহ নির্বাচিত নেতাদের ক্যাম্পাস থেকে মারতে মারতে বের করে দেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। জকসুর জিএস ও শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঞ্জাবির কলার ধরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে দেখা যায় তাকে।
আরও পড়ুন
বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে
জবির ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের কলেজগুলোতেও। সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজসহ কয়েকটি কলেজের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। অন্যদিকে আহত জকসু নেতা ও শিবির নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করা শিবির নেতাকর্মীদের ওপর ফের হামলা চালান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এতে ন্যাশনাল হাসপাতাল এলাকায়ও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঘটনার জেরে জকসু ভিপি, জিএস, এজিএসসহ নির্বাচিত নেতাদের ক্যাম্পাস থেকে মারতে মারতে বের করে দেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। জকসুর জিএস ও শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঞ্জাবির কলার ধরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে দেখা যায় তাকে।
ঢাকা কলেজে শিবির নেতার মাথা ফাটালো ছাত্রদল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল, ঠিক তখন ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও শিবিরকর্মীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রস্তুতির কাজ করছিলেন ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা।
হামলায় আহত ঢাকা কলেজ শিবির নেতা
এসময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মী সেখানে হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক আহত হন। লাঠির আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়। ঘটনার পরপরই ছাত্রদল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছাত্রশিবিরও যেকোনো সময় কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের হুমকি-ধামকি দেয়। এরপর থেকে ঢাকা কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
বেরোবি / শিবির-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে থানায় চিঠি
এদিকে, বিকেলে সায়েন্সল্যাব মোড় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
একই দিনে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসেও। বেরোবি, জবি ও ঢাকা কলেজের ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের হাতে লাঠি, রডসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
ট্যাগিংয়ে বিষিয়ে উঠছে ছাত্ররাজনীতি
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি হয়ে পড়ে একসময়ের বন্ধুভাবাপন্ন দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তখন থেকেই একে অপরেরর বিরুদ্ধে নানা ট্যাগিং করছে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলকে ‘চাঁদাবাজ’, ‘খাম্বাদল’ ও ‘চাচ্চুদল’সহ নানা রকম ট্যাগিং করে আসছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলও শিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’, ‘রাজাকার’ বলে ট্যাগিং করে আসছিল।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য হারাবে এটিই স্বাভাবিক। কেউ যদি বারবার আপনাকে মারতে আসেন, তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কি অন্যায়? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আজ প্রতিরোধটুকুই গড়ে তুলেছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি সমকামিতার ঘটনা সামনে আসে, যা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুটি ঘটনায় ছাত্রশিবির জড়িত বলে অভিযোগ তোলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর থেকে ছাত্রদল তাদের মিছিলে নতুন করে ‘তুমিও জানো আমিও জানি, শিবির মানেই সমকামী’ স্লোগান দিচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা।
পরস্পরবিরোধী তোপ ছাত্রদল-শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে শিবির। ৫ অগাস্টের পর তারা আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশ করেই ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে প্রোপাগান্ডা তৈরি করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা আমাদের একটা বিভেদ তৈরি করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য হারাবে এটিই স্বাভাবিক। কেউ যদি বারবার আপনাকে মারতে আসেন, তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কি অন্যায়? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আজ প্রতিরোধটুকুই গড়ে তুলেছে।’
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
তবে ছাত্রদল সভাপতির এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেরোবি, জবি, ঢাকা কলেজ; সবগুলো ক্যাম্পাসের ঘটনাগুলো দেখবেন ছাত্রদল আগ বাড়িয়ে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। প্রকাশ্যে সেটা সবাই দেখেছেন। তারপরও শিবিরের ওপর দোষ চাপানোর রাজনীতি চলছে।’
আসলে তারা ছাত্রলীগ স্টাইলে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ অন্যান্য সব ছাত্রসংগঠনকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছেন। এরপর যাতে নির্বিঘ্নে হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার করতে পারে। এটিই ছাত্রদলের মূল লক্ষ্য। এভাবে চললে ছাত্রশিবিরও আর ধৈর্য ধরে বসে থাকবে না, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বেরোবিতে ছাত্রদল দাবি করেছে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পাশে নিজামী-মুজাহিদের ছবি টাঙানোয় তারা ক্ষুব্ধ। অথচ বেগম খালেদা জিয়া এক মঞ্চে নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীর সঙ্গে বসে সভা-সমাবেশ করেছেন। তারা আজকে খালেদা জিয়ার চেয়েও বড় বিএনপি সাজতে আসছেন। এটা ছাত্রদলের চরম হিপোক্রেট মানসিকতা।’
‘আসলে তারা ছাত্রলীগ স্টাইলে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ অন্যান্য সব ছাত্রসংগঠনকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছেন। এরপর যাতে নির্বিঘ্নে হল দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার করতে পারে। এটিই ছাত্রদলের মূল লক্ষ্য। এভাবে চললে ছাত্রশিবিরও আর ধৈর্য ধরে বসে থাকবে না, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’ যোগ করেন ডাকসু জিএস ও শিবির নেতা ফরহাদ।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী
দিনভর একের পর এক ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিকেলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যে বা যারা এসব ঘটনায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে কোনো সন্ত্রাস বরদাশত করবো না।’
পেশীশক্তির প্রভাব ছাত্র-ছাত্রীরা অপছন্দ করে। তা তো নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রমাণিত। তারপরও কেন তারা পেশীশক্তির প্রভাব খাটাচ্ছে, তা আমার কাছে বোধগম্য নেই। আমি মনে করি, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবপক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সবাইকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সোচ্চার হতে হবে।
গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণের তাগিদ
দুই পক্ষই একেবারে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রাক্তন এ অধ্যাপক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায়, অথচ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের তেমন রাজনীতি নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ভয় পাচ্ছে না। বরং প্রতিপক্ষ শিবিরের ছেলেরা আস্ফালন করছে। এটা ছাত্রদল হয়তো কোনোভাবেই মানতে পারছে না। আবার ছাত্রশিবির ভাবছে, সব বড় ক্যাম্পাসে তাদের নেতারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেছে। ক্যাম্পাসের বাইরে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও ভেতরে তো তাদেরই একক আধিপত্য। এখানে ছাত্রদল কে, কোথা থেকে আসছে?’
আরও পড়ুন
জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, জকসু এজিএসসহ বেশ কয়েকজন আহত
দুটি ছাত্রসংগঠনকেই গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণের তাগিদ দিয়ে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, পেশীশক্তির প্রভাব ছাত্র-ছাত্রীরা অপছন্দ করে। তা তো নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রমাণিত। তারপরও কেন তারা পেশীশক্তির প্রভাব খাটাচ্ছে, তা আমার কাছে বোধগম্য নেই। আমি মনে করি, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবপক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সবাইকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সোচ্চার হতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে যে কোনো অস্থিরতা সামগ্রিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এএএইচ/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন