ব্রেকিং নিউজ
যেভাবে অপহরণ করা হয় চার মাসের শিশুকে, স্বামী-স্ত্রী আটক নেপালে টানেলে কর্মরত শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী নেপালে সুড়ঙ্গে আটকে ৬ শতাধিক শ্রমিক, স্বজনদের হাহাকার বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে অভিনেত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, গ্রেপ্তার অভিনেতা জিয়া উদ্যানে মৎস্য অবমুক্ত করলেন তারেক রহমান পদ্মা সেতুতে গতকালের দুর্ঘটনায় কতটুকু ক্ষতি হলো, মেরামতে ব্যয় কত প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর: ডান-বামের সমীকরণে বিএনপির আস্থার রাজনীতি পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে অর্জিত জীবিকা আত্মমর্যাদা বাড়ায় ডিজিটাল ও শারীরিক আসক্তি থেকে বাঁচতে নিজের সচেতনতাই মুখ্য
প্রচ্ছদ

বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকা ছেলে, মেসেজের যুগে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ছেলেটা তখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। বাবা চাকরির সুবাদে থাকতেন সৌদি আরবে। প্রতি মাসে একটা করে চিঠি আসত, খামের ওপর লাল-নীল ডোরাকাটা বর্ডার, ভেতরে বাবার হাতের লেখা। মা সেই চিঠি পড়ে শোনাতেন সন্ধ্যাবেলা, আর ছেলেটা মনোযোগ দিয়ে শুনত প্রতিটা শব্দ, যেন বাবা নিজেই সামনে বসে কথা বলছেন। এখন সেই ছেলের বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। তার সন্তান হোয়াটসঅ্যাপে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে প্রতিদিন, কিন্তু চিঠি জিনিসটা তার কাছে জাদুঘরের প্রদর্শনীর মতো, শুনেছে অনেক, দেখেনি কখনো। এই বদলে যাওয়া দৃশ্যটাই আসলে আজকের দিনের আসল গল্প বলে দেয়। চিঠি দিবস আসে প্রতি বছর, কিন্তু আজকের প্রজন্মের কাছে দিনটা কেবল একটা ক্যালেন্ডারের তারিখ, যার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো স্মৃতি জড়িয়ে নেই। অথচ একসময় চিঠি ছিল সম্পর্কের প্রধান বাহক। প্রেমিক-প্রেমিকা, দূরে থাকা বন্ধু, প্রবাসী স্বজন, সবার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল কাগজ আর কালি। আরও পড়ুন গোপাল ভাঁড় দেখতে দেখতে ভাত খাওয়ার ট্রেন্ড কীভাবে এলো? চিঠি লেখার মধ্যে একটা বিশেষ ধরনের ধৈর্যের দাবি ছিল। মানুষ ভাবত, কেটে ফেলত, আবার লিখত। একটা বাক্য লেখার আগে অন্তত দুবার মনে মনে গুছিয়ে নিত। আজকের টেক্সট মেসেজে সেই সময় নেই। মুহূর্তের মধ্যে পাঠানো যায় বলে ভাবনারও প্রয়োজন পড়ে না তেমন। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগতির এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্ককে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। একটা মেসেজ পড়ে যতটা অনুভূতি তৈরি হয়, হাতে লেখা একটা চিঠি পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি অনুভূতি তৈরি হতো, কারণ চিঠির প্রতিটা অক্ষরে লেখকের সময়, শ্রম আর আন্তরিকতা মিশে থাকত। মনোবিজ্ঞানের একটা গবেষণা বলছে, হাতে লেখা কিছু পড়লে মস্তিষ্কে যে ধরনের সংযোগ তৈরি হয়, স্ক্রিনে পড়া লেখায় সেই সংযোগ তৈরি হয় না সমানভাবে। এর কারণ সম্ভবত হাতের লেখার মধ্যে থাকা ব্যক্তিত্বের ছাপ। প্রতিটা মানুষের হাতের লেখা আলাদা, ঠিক যেমন তার কণ্ঠস্বর আলাদা। সেই লেখা দেখলেই মনে পড়ে যায় মানুষটার মুখ, তার হাসি, তার অভ্যাস। বাংলাদেশেও এই বদল স্পষ্ট। ডাকঘরে এখন আর প্রেমপত্র বা পারিবারিক খোঁজখবরের চিঠি জমা পড়ে না তেমন, জমা পড়ে সরকারি নথি আর কুরিয়ারের প্যাকেট। পুরোনো প্রজন্মের অনেকেই এখনো তাদের সংগ্রহে রেখে দিয়েছেন প্রিয়জনের লেখা পুরোনো চিঠি। সেই চিঠি তাদের কাছে শুধু কাগজ নয়, সময়ের একটা টুকরো, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আরও পড়ুন জীবনে কখন টাকা ধার করবেন আর কখন করবেন না তবে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি চিঠি লেখার সংস্কৃতি। কিছু স্কুলে এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে চিঠি লেখা শেখানো হয়, কিছু তরুণ-তরুণী শখের বশে চিঠি লেখেন বন্ধুদের, কিছু মানুষ এখনো জন্মদিনে বা বিশেষ দিনে হাতে লেখা কার্ড পাঠান। এই ছোট ছোট চেষ্টাগুলোই মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি যত এগিয়ে যাক, মানুষের ভেতরে স্পর্শযোগ্য কিছু রেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনো পুরোপুরি মরে না। চিঠি দিবস তাই কেবল অতীতের স্মরণ নয়, বরং একটা নীরব আমন্ত্রণ। হয়তো আজ রাতে কাউকে একটা মেসেজ না পাঠিয়ে, একটা কাগজ আর কলম নিয়ে বসা যায়। কিছু কথা এখনো এমনভাবে বলতে হয়, যা কেবল হাতের লেখায় সম্ভব। কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>