বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে স্টিভেন স্মিথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার স্পষ্ট করে অবসরের তারিখ না জানালেও আগামী বছরের অ্যাশেজে খেলবেন কি না, সেটি নিয়ে বড় সংশয় তৈরি করেছেন। আপাতত সিরিজ ধরে ধরে টেস্ট ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার স্বপ্নও সামনে রেখেছেন।
১২৫ টেস্ট খেলে ৩৭টি সেঞ্চুরি করা স্মিথ বর্তমানে টেস্ট ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুকের পরই তার অবস্থান। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে প্রতিটি সিরিজ আলাদাভাবে বিবেচনা করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক।
অ্যাশেজে থাকবেন কি না, জানেন না স্মিথ
আগামী বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ঐতিহ্যবাহী এই সিরিজে খেলাটা যে স্মিথেরও বড় আকাঙ্ক্ষা, সেটি গোপন করেননি তিনি। তবে সেই সিরিজে তাকে দেখা যাবে কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
দ্য টেলিগ্রাফকে স্মিথ বলেন, ‘আমি জানিই না, তখন সেখানে থাকব কি না। বেশ কিছুদিন ধরেই আমি সিরিজ ধরে ধরে এগোচ্ছি। এখনো সেই সময়টা আমার জন্য অনেক দূরে। সেখানে একটি সিরিজ জিততে পারলে দারুণ হবে। তবে সেটি বাস্তবে হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।’
স্মিথের এমন মন্তব্যের পরই তার টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, অ্যাশেজের মতো বড় সিরিজের মাত্র এক বছর আগে দাঁড়িয়েও তিনি নিজের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
অবসর কবে, সেটিও ঠিক করেননি
তবে স্মিথ এখনই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এমন কোনো ইঙ্গিতও দেননি। বরং ক্রিকেট থেকে এখনো আনন্দ পাচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
গত প্রায় ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে স্মরণ করে স্মিথ বলেন, ‘আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি। গত ১৫ বছর বা তার কাছাকাছি সময় দারুণ কেটেছে। অনেক আনন্দ পেয়েছি। এখনো উপভোগ করছি। তাই শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। দেখা যাক কী হয়।’
তার কথায় পরিষ্কার, আপাতত অবসরের দিনক্ষণ ঠিক করছেন না তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় যে খুব বেশি দূরে নয়, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
লক্ষ্য এখন ২০২৮ অলিম্পিক
স্মিথের সামনে অবশ্য রয়েছে আরেকটি বড় লক্ষ্য- ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর পর প্রথমবারের মতো সেই আসরে খেলার সুযোগ পাবে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা।
স্মিথ জানিয়েছেন, আপাতত তার অন্যতম লক্ষ্য অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়া। আর সেই লক্ষ্যেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন তিনি।
বর্তমানে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে (ইটিপিএল) আমস্টারডাম ফ্লেমসের হয়ে খেলছেন এই ব্যাটার। কেন ইউরোপের এই টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে গেলেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘এখন সম্ভবত আমার লক্ষ্য শুধু অলিম্পিকে থাকার চেষ্টা করা। আমস্টারডামের হয়ে খেলার অন্যতম কারণ হলো যতটা সম্ভব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়া।’ অর্থাৎ টেস্ট ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে ধরে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
স্মিথের কথায় ভবিষ্যতের আরেকটি সম্ভাব্য চিত্রও ফুটে উঠেছে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে সরে এলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলে যেতে চান তিনি।
‘আমি এখনো মনে করি, কিছু সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে পারব। এরপর আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটা নিশ্চিত নই। তবে আশা করি, খেলার জন্য আরও কিছু সময় বাকি আছে,’ বলেন স্মিথ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির বদলে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিই তার জন্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
বল টেম্পারিংয়ের পর প্রথম টেস্ট সফর দক্ষিণ আফ্রিকায়
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। আগামী অক্টোবর থেকে দুই দলের মধ্যে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হবে। এই সফর স্মিথের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
২০১৮ সালের কেপটাউন বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাবেন তিনি। সেই ঘটনায় এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন স্মিথ। তবে পুরোনো সেই ঘটনা নিয়ে এখন আর বাড়তি আবেগ কাজ করে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘আমার কাছে এটি আরেকটি সিরিজ। যা ঘটেছিল, সেটা অনেক আগের কথা। এরপর আমরা অনেক ক্রিকেট খেলেছি। ওয়ানডে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ফিরেছি।’
কিংবদন্তির শেষ অধ্যায় কি শুরু হয়ে গেছে?
স্টিভ স্মিথের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ১২৫ টেস্টে ৩৭ সেঞ্চুরি তার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ। এখনো টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুইয়ে থাকা এই ব্যাটার যে পুরোপুরি ফুরিয়ে যাননি, সেটিও পরিষ্কার।
তবে বয়স ৩৭ পেরিয়ে যাওয়ায় ক্যারিয়ারের শেষ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাও স্বাভাবিক। আগামী অ্যাশেজে খেলবেন কি না, সেটি নিয়েই যখন স্মিথ নিজে নিশ্চিত নন, তখন তার টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়বেই।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন