ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

অভিজাত এলাকায় খেয়া নৌকা, ৫ টাকায় পারাপার

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানীর অভিজাত এলাকা, চারপাশে চোখ ধাঁধানো আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বিশ্বমানের প্রায় সব সুযোগ-সুবিধায় ঘেরা নগরজীবনের মাঝেই যেন অন্য বাস্তবতার গল্প বলে চলেছে ছোট্ট একটি খাল। চারপাশে উঁচু ভবন আর বিলাসী জীবনের আড়ালে এই খালই হয়ে উঠেছে বহু মানুষের যাতায়াতের পথ। খালের অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতে নৌকায় এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছুটে চলেছেন নানা পেশার মানুষ। ঢাকার গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকা ঘেরা সেই খালের পাশেই কড়াইল বস্তি। খালটি যেন তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে কড়াইলের বিশাল জনপদকে। মাত্র অল্প মিটারের ব্যবধান—অথচ দুই প্রান্তের জীবনযাত্রায় যেন আকাশ-পাতাল ফারাক। এক পাশে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধায় অভ্যস্ত মানুষের বিলাসী জীবন, অন্য পাশে সুবিধাবঞ্চিত লক্ষাধিক খেটে খাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে কড়াইল বস্তিতে থাকছেন বহু অসহায় মানুষ। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহকর্মী, রিকশাওয়ালাসহ কায়িক শ্রমজীবীদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে বস্তিটি। জানা গেছে, কড়াইল বস্তি থেকে গুলশানে যাওয়ার শর্টকাট বাহন হলো নৌকা। সড়কপথে টিঅ্যান্ডটি কলোনি পার হয়ে বস্তির মধ্য দিয়ে বেলতলা গলি ধরে পশ্চিম দিকে ঘুরে মূল সড়কে উঠতে অনেক সময় লাগে। কড়াইল বস্তির বউবাজার ঘাট দিয়ে নৌকায় ৫ টাকায় গুলশানে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ মিনিট। সড়কপথে সেই একই গন্তব্য ৪ কিলোমিটার। খরচ হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সময় ও খরচ বাঁচাতে বস্তিবাসী নৌকায় চলাচল করেন। শুধু বস্তির নিম্নবিত্ত মানুষই নন; ওই এলাকায় বসবাসরত মধ্যবিত্ত মানুষও নৌকায় চড়েন। মহাখালী মোড় থেকে গুলশান এক নম্বরের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ে রাস্তার বামেই খেয়াঘাট। ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা। কাছে এগিয়ে দেখা যায়, খালে একদম নোংরা পানি। চারপাশে আছে ময়লা ও বর্জ্য। পানির দুর্গন্ধে বিষিয়ে ওঠা বাতাস। নাক চেপে কেউ নৌকায় বসে আছেন, কেউবা ঘাটে দাঁড়িয়ে আছেন। মাঝিরা যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতিটি নৌকায় যাত্রী পূর্ণ হলেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে নৌকার বেশিরভাগ যাত্রীই নারী। তারা গুলশানের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করেন। বিকেলে কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরছেন। এক কথায়, নৌকায় সাধারণ যাত্রীর চেয়ে কর্মজীবীর সংখ্যাই বেশি। আরও পড়ুন মুঠোফোনের যুগে জোনাকি আর জোছনার হারিয়ে যাওয়া শৈশব মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুলশান ঘাট থেকে কড়াইলের বিভিন্ন ঘাটে যাত্রী পারাপার হয়। খুব সকালে ও সন্ধ্যায় যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। তবে দিনের অন্য সময়ে তেমন একটা ভিড় থাকে না। পারাপার চলে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। এখানে বর্তমানে নৌকা আছে ২০টিরও বেশি। তবে এই মাঝিরা এসব নৌকার মালিক নন; তারা দিন-চুক্তিতে ভাড়ায় নৌকা চালান। একদল মাঝি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত, আরেকদল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নৌকা চালান। জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ৫ টাকা। তবে কেউ কেউ গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে কোনো কাজ না পেয়ে গুলশান খেয়াঘাটে মাঝি হয়েছেন। এখানে অনেকেই জীবনের অনেকটা সময় পার করেছেন। নৌকার মাঝি আলামিন, বয়স ৩৪। চার বছরের বেশি সময় ধরে তিনি খেয়াঘাটে নৌকা চালান। তিনি বলেন, ‘ভোরে যাত্রী বেশি পাওয়া যায়। আবার বিকেলের পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। কিন্তু দিনের অন্য সময় তেমন যাত্রী থাকে না। বিশেষ করে বেলা ১১টার পর থেকে যাত্রীর চাপ অনেক কমে যায়। তখন ঘাটে বসে থাকতে হয়, যাত্রী এলে নৌকা নিয়ে পারাপার করি।’ এই মাঝি বলেন, ‘নিজের নৌকা নেই। দিন হাজিরায় মালিকের নৌকা চালাই। দিন শেষে মালিক বেতন দেন। আয় আহামরি না হলেও আলহামদুলিল্লাহ, সব মিলিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে।’ আরও পড়ুন মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে শাড়ি-স্যান্ডেল পরে ম্যারাথনে মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাঝি জানান, গত এক বছর ধরে তারা সরাসরি যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিতে পারছেন না। নৌকার মালিকপক্ষ ঘাটের পাড়ে তাদের কর্মী রেখেছেন। তারাই ভাড়া নেন। সে ক্ষেত্রে একজন মাঝি প্রতি শিফটে ৮০ থেকে ৯০টি ট্রিপ দিয়ে ৮০০ টাকা পান। অথচ তাদের এই ট্রিপ থেকে মোটা অঙ্কের আয় হয়। এই মাঝি বলেন, ‘এর আগে আমরা ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করে মালিকদের কাছে তুলে দিতাম। তখন ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া তুলে দিলেও মালিকেরা একই বেতন দিতেন। সময়ের সঙ্গে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই আমাদের দাবি, মাঝিদের বেতন বাড়ানো হোক।’ কড়াইল বস্তিতে লক্ষাধিক মানুষ বাস করেন। ২৪-২৫ বছর আগে যখন জঙ্গল পরিষ্কার করে বস্তি গড়ে ওঠে; তখন থেকেই গুলশান খাল পারাপারের জন্য শুরু হয় নৌকার ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বস্তির মানুষ বেড়েছে, পারাপারের যাত্রী বেড়েছে, বেড়েছে নৌকার সংখ্যা। আরও পড়ুন পুরোনো গাড়ির ব্যবসার একাল-সেকাল দেখেছেন ৭০ বছরের শহীদ এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>