বিজ্ঞাপন
‘অসম্ভব’ কখনো থেমে যাওয়ার কারণ হতে পারে না। প্রকৃত পরিবর্তনের শুরু হয় মানুষের কথা শোনা থেকে, সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে। সেই বোঝাপড়াকে কাজে রূপ দিতে হয়।
জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবে নিজের কাজ ও দর্শন তুলে ধরেছেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
সামাজিক উদ্যোক্তা ও ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এশিয়ার ‘নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত এ পুরস্কারটি তার দীর্ঘদিনের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যা দুর্গম ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নয়নে কাজ করে।
ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল? বাংলাদেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে আপনাকে কোন বিষয়টি তাড়িত করেছিল?
আমি প্রথমবার যখন চরাঞ্চলে যাই, তখন এমন গভীর দারিদ্র্য দেখেছিলাম, যা আগে কখনো উপলব্ধি করিনি। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কিংবা অর্থনৈতিক সুযোগ- কোনোটিরই প্রায় কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, অনেক মানুষ ভিন্ন কোনো আগামী দিনের আশা করার সম্ভাবনাটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন।
আরও পড়ুন
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান
আমার দুঃখ ধীরে ধীরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়, আর সেই ক্ষোভ থেকেই তৈরি হয় দায়িত্ববোধ। আমি উপলব্ধি করি, কোনো কিছু সত্যিকারভাবে প্রত্যক্ষ করার পর আপনি আর সহজে সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন না।
ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? কীভাবে তা মোকাবিলা করেছিলেন?
প্রথম চ্যালেঞ্জটি ছিল খুবই সহজ- কেউ বিশ্বাস করতো না যে এটি সম্ভব। মানুষ প্রশ্ন করতো, কীভাবে একটি জাহাজে অপারেশন থিয়েটার পরিচালনা করব, চিকিৎসক পাবো, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলমান চরাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাবো কিংবা এমন একটি উদ্যোগের অর্থায়ন করব, যা আগে এভাবে কখনো করা হয়নি।
র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খান
আমি মডেলটিকে সহজ, বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য করার চেষ্টা করেছি। এরপর ফলাফলকেই কথা বলতে দিয়েছি। কাজ শুরুর আগে আস্থা আসেনি, বরং কাজের মাধ্যমেই আস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি যাদের জীবনে স্পর্শ করছি, তাদের জীবন যেন আমাদের কাছে আসার চেয়ে ভালো অবস্থায় রেখে যেতে পারি।
তখন অনেকেই হয়তো আপনার উদ্যোগকে ‘অসম্ভব’ মনে করেছিলেন। সেই প্রতিরোধ কীভাবে অতিক্রম করেছিলেন?
শুরুতেই শিখেছিলাম, কোনো কিছু সম্ভব- এটি মানুষকে বোঝাতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। সারাজীবন আমি যেভাবে কোনো কাজ করা উচিত বলে মনে করেছি, সেভাবে করতে চেয়েছি। আর আমাকে প্রায়ই বলা হয়েছে, সেটি অসম্ভব। তাই ‘অসম্ভব’ শব্দটির সঙ্গে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং এখন আর এটি আমাকে বিরক্ত করে না।
আমার বিশ্বাস, ‘অসম্ভব’ অনেক সময় আমাদের নিজেদের তৈরি একটি সীমাবদ্ধতা। সাহস মানে সমস্যার অনুপস্থিতি নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সমস্যাটি আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না
আপনি যাদের সাহায্য করতে চান, তাদের কথা যদি সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে শোনেন, তাহলে পরিবর্তন আসবেই- এটি আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আমি মানুষের কথা শুনি, কাজ করি, কোন পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে তা দেখাই, ব্যর্থতা থেকে শিখি এবং পরেরবার আরও ভালোভাবে করার চেষ্টা করি।
আরও পড়ুন
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
আমার বিশ্বাস, ‘অসম্ভব’ অনেক সময় আমাদের নিজেদের তৈরি একটি সীমাবদ্ধতা। সাহস মানে সমস্যার অনুপস্থিতি নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সমস্যাটি আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না।
ফ্রেন্ডশিপের দর্শন কীভাবে বিকশিত হয়েছে? স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা, কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু অভিযোজন ও আইনি সহায়তায় কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে এই সমন্বিত মডেল গড়ে তুলেছে?
আমরা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শুরু করেছিলাম। কারণ একজন মানুষ যখন অসুস্থতায় ভুগছেন, তখন তিনি শিক্ষা, আয় কিংবা ক্ষমতায়নের কথা ভাবতে পারেন না।
কিন্তু খুব দ্রুত বুঝতে পারি, দারিদ্র্য বহুমাত্রিক। একজন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আবার তাকে ক্ষুধা, অন্যায়, জলবায়ু ঝুঁকি ও হতাশার মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।
সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান
তাই ফ্রেন্ডশিপ কোনো নির্দিষ্ট খাত বা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে মানুষের যে প্রয়োজনগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই- মানুষকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের জীবন সুযোগ, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে গড়ে তুলতে পারে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে ফ্রেন্ডশিপ যে পরিবর্তন আনে, তা কতটা টেকসই? দীর্ঘমেয়াদে আপনারা যে সক্ষমতা তৈরি করছেন, তা কীভাবে ধরে রাখা হয়?
একটি সম্প্রদায় যখন আপনার ওপর নির্ভরশীল থাকে না, তখনই প্রকৃত টেকসই পরিবর্তন তৈরি হয়। আমরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকেই শিক্ষক, কমিউনিটি মেডিক, প্যারালিগ্যাল, দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা তৈরি করি। একই সঙ্গে তাদের সরকারি ব্যবস্থা ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করি।
একটি দ্বীপ নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও একজন মানুষের সঙ্গে থাকা জ্ঞান হারিয়ে যায় না। টেকসই পরিবর্তনের প্রকৃত মাপকাঠি হলো- মানুষ যেন আমাদের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা অর্জন করে।
গত ২৪ বছরের কোন অর্জনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে? এমন কোনো মানুষ বা পরিবার কি আছে, যার পরিবর্তন আপনাকে মনে করিয়েছে- ‘এ কারণেই কাজটি শুরু করেছিলাম’?
আমি প্রতিদিনই এমন বিষয় দেখি। যখন এমন কোনো শিশুকে দেখি, যে আগে হাঁটতে পারতো না, কিন্তু আমাদের করা একটি অস্ত্রোপচারের পর আজ হাঁটতে পারে, তখন মনে হয় এটাই কাজটির কারণ। এমন শিশুকেও দেখেছি, যে দেখতে পারতো না, কিন্তু চিকিৎসার পর দেখতে পারছে।
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনায় নীরব ভারত, তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা
এমন গ্রাম দেখেছি, যেখানে একজন মানুষও ঠিকমতো পড়তে বা লিখতে পারতো না। পরে সেই গ্রামের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ পড়তে ও লিখতে সক্ষম হয়েছে। এমন মেয়েদেরও দেখেছি, যাদের ১০ বা ১২ বছর বয়সেই বিয়ে দেওয়া হতো, তারা আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করছে।
আমাদের প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তারা এটিকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখেন না; বরং একটি পরিবারের মতো মনে করেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় এগিয়ে যেতে হলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যত্নের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
আমরা আমাদের কাজকে আইকাসের (ইন্টিগ্রেটেড ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সিস্টেম) মাধ্যমে একটি ব্যবস্থায় রূপ দিতে পেরেছি, এটিও আমার জন্য গর্বের বিষয়। সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের প্রয়োজনীয় ঘাটতিগুলো পূরণ করাই এর লক্ষ্য।
এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। সব সমস্যার একক সমাধান নেই, তবে এর বিভিন্ন অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। যখন মানুষের প্রয়োজনীয় ঘাটতিগুলো পূরণ হয়, তখন তারা একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর সুযোগ পায়, চোরাবালির ওপর নয়।
সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান
আরেকটি বিষয় আমাকে খুব গর্বিত করে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তারা এটিকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখেন না; বরং একটি পরিবারের মতো মনে করেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় এগিয়ে যেতে হলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যত্নের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি আপনি র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন। এটিকে কি আপনি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন, নাকি ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন?
আমি কোনোভাবেই এটিকে ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে দেখতে পারি না। ফ্রেন্ডশিপ টিকে আছে হাজারো সহকর্মী, অংশীদার ও কমিউনিটির মানুষের কারণে। তারা বিশ্বাস করেছেন, কাজ করেছেন, সংগ্রাম করেছেন এবং কাজ যখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, তখনও নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থেকেছেন।
শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অনেক মানুষ এই যাত্রার অংশ হয়েছেন। আমি ২০০৪ সালে ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল শুরু করি এবং ২০০৬ সালে এটি নিবন্ধিত হয়। এর মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি, যাদের চিন্তা, ধারণা ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে এতটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তারা প্রতিষ্ঠানটিরই একটি সম্প্রসারণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরস্কার বাংলাদেশের মানুষের। তাদের সাহস ও দৃঢ়তা আমাদের শিখিয়েছে কী সম্ভব। পুরস্কারে আমার নাম থাকতে পারে, কিন্তু এই অর্জন কখনোই একার নয়।
আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে?
আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক ছিলেন আমার বাবা আলীমুর রহমান খানের আধ্যাত্মিক, দার্শনিক ও নৈতিক গুণাবলি এবং আমার মা বানু পান্নির মমতা ও বিনয়। তাদের জীবনযাপন আমাকে আজকের আমি হয়ে উঠতে শিখিয়েছে।
আমার বাবা একটি খুব বাস্তব ধারণার বীজও বপন করেছিলেন। তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন, জাহাজটিকে একটি ক্লিনিকে পরিণত করা যেতে পারে। তবে অনুপ্রেরণা কখনো একজন মানুষের কাছ থেকে আসে না। আমি সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। কারণ প্রজ্ঞার সঙ্গে সামাজিক মর্যাদার খুব বেশি সম্পর্ক নেই
গত ২৫ বছর ধরে যারা আমাদের তাদের জীবনের সঙ্গে পথচলার সুযোগ দিয়েছেন, যাদের অনেক সময় সমাজ খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বা ক্ষমতাবান বলে মনে করে না, তাদের কাছ থেকেও আমি অনেক শিখেছি। আমি দেখেছি, নারীরা ঘর, জমি ও জীবিকা হারিয়েও কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সন্তানদের রক্ষা করেছেন এবং প্রতিবেশীদের সহায়তা করেছেন।
আরও পড়ুন
জানালেন শাহে আলম / আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে এলে বিএনপির অবস্থান কী হবে
আমার বাবা একটি খুব বাস্তব ধারণার বীজও বপন করেছিলেন। তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন, জাহাজটিকে একটি ক্লিনিকে পরিণত করা যেতে পারে। তবে অনুপ্রেরণা কখনো একজন মানুষের কাছ থেকে আসে না। আমি সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। কারণ প্রজ্ঞার সঙ্গে সামাজিক মর্যাদার খুব বেশি সম্পর্ক নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে ফ্রেন্ডশিপের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার কী হবে?
আমাদের অগ্রাধিকার হতে হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আমাদের মতো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের শেখা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাগুলো আরও শক্তিশালীভাবে ভাগ করে নেওয়া।
একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, জ্ঞান, নৈতিকতা ও অভিজ্ঞতা যেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেষ হয়ে না যায়।
আমার কাছে সফট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত সাফল্যের পেছনে যে সফট স্কিল কাজ করে, সেগুলোকেও উদ্ভাবন, সিস্টেম ও প্রযুক্তির মতো হার্ড স্কিলের সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে
আমার কাছে সফট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত সাফল্যের পেছনে যে সফট স্কিল কাজ করে, সেগুলোকেও উদ্ভাবন, সিস্টেম ও প্রযুক্তির মতো হার্ড স্কিলের সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।
এ কারণেই ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে যা শেখা হয়েছে, তা জ্ঞানে পরিণত করতে হবে, যাতে অন্যরাও সেটিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার ও অভিযোজিত করতে পারে। আমরা দীর্ঘ একটি শৃঙ্খলের কেবল একটি অংশ।
বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান এমন মানুষদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
মানুষকে ‘উদ্ধার’ করতে যাবেন না। প্রথমে তাদের কথা শুনতে যান, তাদের বোঝার চেষ্টা করুন—তারা কী বলছেন এবং কী বলতে পারছেন না, সেটিও বুঝুন।
সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান
কখনো ধরে নেবেন না যে আপনার বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থান আপনাকে সেই কমিউনিটির মানুষের চেয়ে বেশি জ্ঞানী করে তুলেছে।
মনে রাখবেন, দরিদ্র মানুষ নিম্নমানের সমাধান গ্রহণ করার সামর্থ্য রাখেন না। তাই মানসম্মত সেবা, মর্যাদা ও সততা কোনো বিলাসিতা নয়। মানুষকে সুযোগ ও একটি শক্ত ভিত্তি দিন। তারা আপনার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি কিছু তৈরি করতে পারবে।
২৪ বছর আগে প্রান্তিক মানুষের জীবন প্রথম দেখার সেই সময়ে ফিরে যেতে পারলে, সেই তরুণ রুনা খানকে আজ কী বলতেন?
আমি তাকে বলতাম- কাজটি করো, এটি সব সময়ই সম্ভব। মানুষ যখন বলবে এটি অসম্ভব, তখন ভয় পেও না। তুমি যে কষ্ট দেখছো, সেটিকে দায়িত্বে পরিণত করো। আর বিশ্বাস ও অন্তর্দৃষ্টির মূল্য কখনো অবমূল্যায়ন কোরো না।
বিনয়কে সব সময় তোমার শক্তি হিসেবে ধরে রেখো। এর সঙ্গে রাখো কঠোর পরিশ্রম, সাহস ও নিজের জন্য নির্ধারণ করা গভীর মূল্যবোধ।
তোমার দৃষ্টি অবশ্যই তারার দিকে থাকতে হবে। তা না হলে চাঁদে পৌঁছাবে কীভাবে?
তবে তোমার পা সব সময় মাটিতে গভীরভাবে গেঁথে রাখবে। কারণ সেটিই তোমাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রাখবে।
আইএইচও/এএসএ
বিজ্ঞাপন