বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের পথে ছুটছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগের দিনও ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম, লিটার এখন কত টাকা?
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় নভেম্বরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৪৪ ডলার। এর আগে সোমবার বাজার বন্ধের সময় এর দাম ছিল ৮৮ ডলারের কিছু বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় পর আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
নতুন করে উত্তেজনা
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এর জবাবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে তেলের খনিতে নতুন আশা, উত্তোলন হলো ১২ হাজার লিটার
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির পরিচালিত ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।
হামলায় কেউ হতাহত হননি। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
আরও পড়ুন
মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার অর্ধেক তেলই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।
তবে সংঘাতের পর সেই সংখ্যা কমে এসেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মাত্র ১০৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১২১।
পরিচয় গোপন করে চলছে জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। এ ধরনের জাহাজকে সাধারণত ‘ডার্ক শিপ’ বলা হয়।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা কিংবা মার্কিন নৌবাহিনীর বাধার ঝুঁকি কমাতেই কিছু জাহাজ এভাবে চলাচল করছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
‘দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা হতে পারে’
এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক মনে করেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুরোপুরি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক হামলার পর সংঘাত আবারও উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে। তাই শিগগির হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কোনো সমঝোতা হওয়ার আশাও কমেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব তেলের বাজার হয়তো দীর্ঘস্থায়ী ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল পরিবহন চলতে পারে এবং পরিস্থিতি ২০২৭ সাল পর্যন্তও গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তার।
তেলের দাম আরও বাড়বে না কমবে?
আগস্টের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে।
২১ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে উঠে যায়। এরপর দাম ৮৬ থেকে ৯১ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে।
আইজি মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি। তবে সপ্তাহের শেষ নাগাদ উত্তেজনা কমে গেলে এবং হরমুজ প্রণালিতে ‘ডার্ক শিপ’ ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর আবার বাড়লে তেলের দামের ওপর তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক বাড়তি মূল্য দ্রুত কমে যেতে পারে।
তার মতে, বর্তমানে তেলের বাজারের পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/
বিজ্ঞাপন