সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, এখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে—এমন কথা বলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের আমির এ কথা বলেন।
দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই মন্তব্য করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তাঁরা কথা বলবেন।
শফিকুর রহমান বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের (সরকারের কাছে) কাছেও নিশ্চয় বলেন, দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটার যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই—আসলে তা সফলতার মুখ দেখবে না।’
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>