জাতীয়

ইইউর ৬১ নন-ট্যারিফ বাধার ৪৮টি সমাধান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ৪৮টি প্রতিবন্ধকতার পুরোপুরি সমাধান হয়েছে। অবশিষ্ট বিষয়গুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথেও হয়েছে নতুন অগ্রগতি। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ইইউর পক্ষ থেকে উত্থাপিত অশুল্ক বাধা দূর করার কৌশল নির্ধারণে ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের এক নীতিনির্ধারক দল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।  আরও পড়ুন বারবার লোডশেডিং, তবু বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনায় বিদ্যমান কিছু নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়েছে। সমাধান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন। বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ। রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণ ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ। এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা প্রত্যাশা বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এফটিএ আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া ইইউর ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে হলে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই লাভবান হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এয়ারবাস ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমদানির সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়। জ্বালানি (এলএনজি) ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান ও অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করেই সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। বাংলাদেশ-ইইউ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন দিগন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ৬১টি প্রতিবন্ধকতা ছিল। এর মধ্যে ৪৮টির পুরোপুরি সমাধান হয়েছে, বাকিগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শিগগির আলোচনা শুরু করবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। এলডিসি গ্রাজুয়েশন নিয়ে এ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের সময় বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৮১তম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এলডিসি গ্রাজুয়েশনের সময় পেছানো নিয়ে আলোচনা হবে, আশা করি বাংলাদেশের আবেদন গৃহীত হবে। এনএইচ/এএসএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>