ব্রেকিং নিউজ
পুত্রজায়ায় বাংলাদেশিসহ ৩২৫ বিদেশি আটক সুনেরাহ যেন প্রাডার ককটেল ইভেন্টে বাস্তবের জলপরী হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, ২ সেনাসদস্য নিহত চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে দণ্ড নয়: হাইকোর্ট ‘ভাইভা কোটার কবর দে’ স্লোগানে মধ্যরাতে উত্তাল নোবিপ্রবি ইউএস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে শেলটন ১২ হাজার গানের ভেতর আশা ভোসলের নিজের পছন্দের ১০ গান ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব’, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের সংকটের মধ্যে রাঙ্গাবালীতে টিউবওয়েল থেকে বের হচ্ছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন ডাকসু জাতীয় গল্প ও উপন্যাস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
জাতীয়

ইরানে তীব্র ওষুধ সংকট, দাম বেড়েছে কয়েক গুন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে চরম সংকটের মুখে পড়েছে ইরানের ওষুধ খাত। রাজধানী তেহরানসহ পুরো দেশজুড়ে ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এখন দেশীয় কিংবা আমদানিকৃত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরান ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদী আহমাদী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৮০০ ধরনের পণ্যের ঘাটতি রয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি ওষুধ জীবনরক্ষাকারী ও অত্যন্ত জরুরি। ঘাটতি থাকা এসব ওষুধের মধ্যে অন্তত ৪০০টি ওষুধ ইরানের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত হয়। ওষুধের দুষ্প্রাপ্যতার পাশাপাশি আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, মৃগীরোগ ও স্নায়ুর ব্যথার ওষুধ গ্যাবানোটিনের দাম গত এক বছরে ২২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এসিটামিনোফেনের দাম ৩৭৫ শতাংশ, অ্যান্টিবায়োটিক অ্যামোক্সিসিলিন ২৮৫ শতাংশ ও বিষণ্নতার ওষুধ ফ্লুওক্সেটিনের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের দৈনিক জরুরি উপাদান ইনসুলিনের দাম এক বছরের ব্যবধানে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ইরানের সার্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির অংশ। গত আগস্টে দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম এক বছরের ব্যবধানে ১২৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বহু বছর ধরে ইরান ওষুধ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করলেও কাঁচামাল ও বিরল কিছু ওষুধের জন্য তাদের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং ও লজিস্টিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় মানবিক ছাড় থাকা সত্ত্বেও আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলায় ইরানের প্রায় ৪৪টি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ জন কর্মী হতাহত হন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল তৌফিক দারু, যা ইরানের বৃহত্তম পেনশন তহবিলের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটির সেলস ডাইরেক্টর মারিয়াম ফারাহানি জানান, হামলায় তাদের রিসার্চ ও পেপটাইড, অ্যান্টি-ক্যান্সার ওষুধ তৈরির মূল লাইন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে থাকা দীর্ঘ ২৬ বছরের গবেষণার ডেটা ও বিশেষ সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ায় আংশিক পুনর্গঠন করতেই অন্তত দুই বছর ও কোটি কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছিল যে, তৌফিক দারু ফেনটানিল সরবরাহ করত, যা রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে। তবে তৌফিক দারু এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা কেবল অস্ত্রোপচারের অ্যানাস্থেসিয়ার জন্য অনুমোদিত অল্প পরিমাণে সাইট্রেট-সল্ট ফর্মের ফেনটানিল উৎপাদন করত। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানি কর্তৃপক্ষ দৃঢ়তা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান মেহেদী পীরসালেহী জানান, শত্রুপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ওষুধ সংকটকে বড় করে দেখাচ্ছে, তবে তারা মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উৎপাদন সচল রেখেছেন। তবে স্থানীয় চিকিৎসকরা এই সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তেহরানের এক পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ জানান, সরকার কর্তৃক ওষুধ আমদানিতে ভর্তুকি তুলে নেওয়া ও বীমা কোম্পানিগুলোর ফার্মেসিগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণ পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ কোয়াড্রিলিয়ন ইরানি রিয়াল বা ৩.৫৬ বিলিয়ন বা ৩,৫৬০ কোটি ডালারে পৌঁছেছে। তিনি আরও সতর্ক করেন, সামুদ্রিক ব্লকেডের কারণে রোটাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের মতো প্রতিরোধমূলক টিকাসমূহ বন্ধ হওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যের কারণে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা দেশে দীর্ঘমেয়াদী সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। সূত্র: আল-জাজিরা এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>