বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ২০ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় প্রতি মাসেই কয়েকজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব মামলায় অভিযুক্তদের যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে মামলা কিংবা তাদের স্বজনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, আফগান নাগরিকদের বেশির ভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইসফাহানের দাস্তগার্দ কারাগারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে ইসফাহানের ‘আলিখানি স্কয়ার’ মামলার কথাও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে এই মামলাটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় দুই চাচাতো ভাই গোল মোহাম্মাদি ও কায়েম হোসেইনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস ইরান ও হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন আফগান নাগরিক—আফশার শাহ-আহমাদি, ইমান শাফায়ি ও সদরউদ্দিন আহমাদজাদ—কে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে অনেক মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। ফলে চলতি বছরে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানভিত্তিক কুর্দিশ মানবাধিকার সংগঠন হেংগাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও দেশটিতে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
চলতি বছরেও একই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় ইরানে আফগান নাগরিকদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
সূত্র: খামা প্রেস
এমআরএইস/এমএসএম
বিজ্ঞাপন