ব্রেকিং নিউজ
পাকিস্তানকে ৫ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশের মেয়েরা স্ত্রীকে গুলি করেন মাতাল স্বামী, পিস্তল লুকিয়ে ভুয়া গল্প বানান ছেলে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে ড. নাজমুজ্জামানের শপথ গ্রহণ সালমান শাহর ৩০ বছরের পুরোনো স্টাইল কি অনুসরণ করে বলিউড-বিটিএস? রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা হেফজ বিভাগের ১৪ ছাত্রের মধ্যে ছয়জনই বলাৎকারের শিকার, শিক্ষক গ্রেফতার দিল্লিতে ধসে পড়েছে ৬ তলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ার শঙ্কা এবারের মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জিতলেন কে এই সুন্দরী ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর টাকায় নজর, বাসেই শ্বাসরোধে হত্যা: পুলিশ কিছু আসামির তৎপরতা সন্দেহজনক: চিফ প্রসিকিউটর
জাতীয়

ইসরায়েলে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান: রিপোর্ট

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই সময়ে একাধিক ফ্রন্ট থেকে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে দ্য জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে লেবাননে হিজবুল্লাহ, গাজায় হামাস, ইয়েমেনে হুতিদের পাশাপাশি ইরানপন্থি ইরাকি মিলিশিয়াদেরও একই অভিযানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরান এমন একটি সমন্বিত অভিযান চালাতে চাইছে, যেখানে ইরানের নিজস্ব বাহিনীর পাশাপাশি ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ বিভিন্ন সংগঠন একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরি করবে। এই পরিকল্পনাকে ভবিষ্যতে ৭ অক্টোবরের হামলার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে এবার শুরু থেকেই বিভিন্ন ফ্রন্টের মধ্যে সমন্বয় রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালালেও সেদিন অন্য ফ্রন্টগুলো একই সময়ে পূর্ণ সমন্বয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়নি। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর জব্দ করা হামাসের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, সংগঠনটির তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে অন্যান্য ফ্রন্টকে এতে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। একটি পরিকল্পনাসংক্রান্ত নথিতে লেবানন, সিরিয়া ও সিনাই- এই ‘বাইরের ফ্রন্টগুলোকে’ সংযুক্ত ও প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। শান্তিকাল ও যুদ্ধকাল- উভয় পরিস্থিতিতে যোগাযোগের পদ্ধতিও আগে থেকে ঠিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা ওই নথিতে উল্লেখ ছিল। তবে যুদ্ধের পর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মূল্যায়নে উঠে আসে, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইরান ও হিজবুল্লাহকে ওই পরিকল্পনার সব বিস্তারিত বা হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। অর্থাৎ হামাসের সঙ্গে অন্য ফ্রন্টগুলোর মধ্যে যে ধরনের সমন্বিত অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। মূল্যায়ন অনুযায়ী, সিনওয়ার ধারণা করেছিলেন, প্রাথমিক হামলা সফল হলে পরবর্তী সময়ে হিজবুল্লাহ ও ইরানও বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। হামাসের হামলার পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে গোলাবর্ষণ শুরু করলেও ওই একই সকালে হামাসের সঙ্গে সমান্তরালে বড় আকারের অভিযান চালায়নি। এবার শুরু থেকেই সমন্বিত অভিযানের চেষ্টা আরব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে বলা হচ্ছে, তেহরান এবার সেই ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো, একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা। অর্থাৎ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর অন্য পক্ষগুলোকে যুক্ত করার পরিবর্তে শুরু থেকেই বহু ফ্রন্টের অভিযানকে পরিকল্পনার অংশ করা। এই প্রেক্ষাপটে হামাসের নেতৃত্বে পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। ইরানের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে ও বহু বছর ধরে তিনি তেহরানের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন। গাজার শিবিরের সঙ্গে যুক্ত আল-হাইয়া সিনওয়ারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার নেতৃত্ব হামাসের মধ্যে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী অংশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, ইরান ‘প্রতিরোধ অক্ষকে’ পুনর্গঠন ও বিভিন্ন ফ্রন্টের মধ্যে সমন্বয়ের পুরোনো ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে- এমন কিছু লক্ষণও দেখা গেছে বলে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সমন্বয় শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়, উত্তর ও দক্ষিণ- দুই দিক থেকে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামাস ও হিজবুল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। কুদস ফোর্সের বৈঠকের দাবি সাম্প্রতিক আরও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াগুলোর কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আইআরজিসির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সংঘাতের আগের একটি তুলনামূলক শান্ত সময়ে কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই তিন ফ্রন্টের কমান্ডারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছিলেন। একই সময়ে ইরানি সামরিক উপদেষ্টারাও মাঠপর্যায়ে এসব সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে তারা দাবি করেন। এই সময় ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনের পাশাপাশি এসব অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ শক্তির ভারসাম্যও এর মধ্যে বদলে গেছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের ফলে ইরাকের মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতিদের গুরুত্ব বেড়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক যোগাযোগ ও মাঠপর্যায়ের সম্পর্কও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় জোরদার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতির তুলনায় ইরানপন্থি এই জোট এখন ভিন্ন এক আঞ্চলিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর পাশাপাশি ইরাক ও ইয়েমেনের শক্তিগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>