বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা ইসলামী আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর আবারও আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর তারা আফগানিস্তানকে ইসলামী বা শরিয়া আইনে পরিচালিত দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়।
আরও পড়ুন
যুদ্ধের অধ্যায় শেষ, যুক্তরাষ্ট্রকে ফের কাবুলে চায় তালেবান
গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ঘটনা খুবই কম ঘটেছে। এর মধ্যেই গত মাসে সরকার নতুন একটি বিধান জারি করে। সেখানে বলা হয়, ‘সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।’
নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের অস্তিত্ব নেই।’ তার কথায়, ‘বিক্ষোভ এমন সমাজে দেখা যায়, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইন কার্যকর থাকে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন।
মুজাহিদের দাবি, ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষ বিক্ষোভ না করেই সরকারের কাছে নিজেদের অভিযোগ ও উদ্বেগ জানাতে পারে।
আরও পড়ুন
বিয়ের নামে ২ মাসের কন্যাসন্তান বিক্রি, নিয়ে যাবে ৮ বছর হলেই!
মুজাহিদ আরও বলেন, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ফলে মানুষের সময় নষ্ট হওয়া কমবে। একই সঙ্গে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও ঠেকানো সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
তালেবানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসের শেষ দিকে নতুন আইনটির সমালোচনা করে।
সংগঠনটি বলেছে, এটি তালেবানের সব ধরনের ভিন্নমত দমনের ‘নিষ্ঠুর প্রচেষ্টার’ আরেকটি পদক্ষেপ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও আফগানিস্তানের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তালেবানের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর সমালোচনা করেছে।
আরও পড়ুন
তালেবানের ইউটার্ন / পাকিস্তানের হাত ছেড়ে আফগানিস্তান কেন ভারতমুখী হলো?
সংগঠনটির মতে, এসব পরিবর্তন আফগানিস্তানে মানবাধিকারের ওপর আরও ব্যাপক আঘাত। তালেবানের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তাদের নেওয়া সবচেয়ে গুরুতর বিধানগুলোর একটি বলেও অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি।
নারীদের বিক্ষোভে গুলির অভিযোগ
আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ঘটনা খুব কম হলেও সম্প্রতি নারী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী অধিকার নিয়ে একটি বিক্ষোভ হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হন।
সূত্র: এএফপিকেএএ/
বিজ্ঞাপন