ব্রেকিং নিউজ
মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম! পল্লবীতে বস্তাবন্দির ভিডিও ‘অপহরণ নাটক’, চট্টগ্রাম থেকে নজরুল উদ্ধার দুদকের মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন, চাইলেন ৩০ দিনের সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪৫ জনের চাকরি হাওরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কৃষকের ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর জায়গায় গোলাম আযমের ছবি মাগুরা সওজ কার্যালয়ে ভাঙচুর, ৪ দিনেও হয়নি মামলা লালমনিরহাটে ২ মন্ত্রীর সামনে বিএনপির ২ গ্রুপের হাতাহাতি
জাতীয়

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গরু আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগের মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৭ মার্চ ‘২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাগো নিউজ। ওই প্রতিবেদনে ভুয়া সরকারি নথি তৈরি করে গরু আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছিল। এতে মামলার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীন আহমদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। আরও পড়ুন ২ লাখ গরু আমদানির নামে জালিয়াতি, ২০ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা মামলাটি রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুয়া আবেদন, অনুমোদনপত্র ও চুক্তিনামা তৈরি করে একটি চক্র বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি হলেও ২০১৯ সালের পর এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবার আমদানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় পরিচিত খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। খোরশেদ একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে খোরশেদ আলাউদ্দিনকে গরু আমদানির অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন দুদকের মামলা / ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন ১১ পুলিশ সদস্য একপর্যায়ে আলাউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত পাঁচ লাখ গরু আমদানির একটি অনুমোদনপত্র তাকে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আলাউদ্দিন জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো আবেদন সেখানে জমা পড়েনি। মামলার এজাহারে শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ একটি আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গার কাছে পাঠানো হয়। পরে জাফর ইকবাল ওই আবেদনের কপি জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে পাঠান। একই ধরনের আরেকটি আবেদন তৈরি করতে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন তৈরি করে সেটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন দেশীয় পোশাক ভারতীয় বলে বিক্রি, দোকানিকে জরিমানা তদন্তে আরও বলা হয়, শাহাবুদ্দীন ও জাফর ইকবালের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আলাউদ্দিন রবিনের করা শাহপরীর দ্বীপে সীমান্ত এলাকায় বিট বা খাটাল স্থাপন এবং পাঁচ লাখ গবাদিপশু আমদানির অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের একটি কপিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশ ও স্বাক্ষরযুক্ত নথি শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে পাঠানো হয়। পরে সেটি খোরশেদ আলমের মাধ্যমে আলাউদ্দিনের কাছে পৌঁছায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর ১৯ মার্চ শাহাবুদ্দীনের ব্যবহৃত নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে জননিরাপত্তা বিভাগের সীমান্ত-৩ শাখার উপসচিব তাজিনা সরোয়ারের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি ভুয়া আদেশনামাও পাঠানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন টার্কিশ ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে কিডনি চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিতো বিপুল অর্থ তদন্তে আরও জানা যায়, শাহাবুদ্দীন আহমদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি হজরত আলী নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ছিল। ওই ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের পরিচয় আড়াল করতে শাহাবুদ্দীন অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া নথি আদান-প্রদান করতেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে এবং ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এ সময় ভুয়া অনুমোদনপত্র, আবেদনপত্র ও চুক্তিনামা আদান-প্রদান করা হয়। বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষরযুক্ত নথিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। তদন্তে এসব নথিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই এবং সেগুলো জাল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট উপসচিবের স্বাক্ষরও জাল বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আরও পড়ুন কর্মকর্তাদের ছবি-নম্বর দিয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গা, মো. আব্দুল্লাহ জাবেদ, খোরশেদ আলম, শাহাবুদ্দীন আহমদ ও মো. হযরত আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারত বা মিয়ানমার থেকে স্থলপথে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু আনার পর সেগুলোর সংখ্যা নির্ধারণ, ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য সীমান্তবর্তী নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব স্থানকে সাধারণভাবে বিট, খাটাল বা বিট-খাটাল বলা হয়। এমডিএএ/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>