ব্রেকিং নিউজ
মনোযোগহীন নামাজের চেয়ে কি নামাজ না পড়াই ভালো সংযোগ সড়ক নেই, দেড় বছরেও চালু হয়নি ৭ কোটি টাকার সেতু  জ্বালানি তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে কখন কমতে পারে, জানালেন ট্রাম্প ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে ফিজিওথেরাপি কতটা জরুরি ২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বাপা ফুডপ্রো শুরু বৃহস্পতিবার রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালু সরকারি চাকরির ভাইভায় বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্তে যা বললেন ডা. জাহেদ ‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি’—বরখাস্তের ৪ দিন পর বাংলাদেশ কোচের বিস্ফোরক দাবি টিফিন ব্রেকের রঙিন দিনগুলো
জাতীয়

একটি ল্যাম্পপোস্টের আত্মকাহিনী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আমি আমার পূর্বজন্মের কথা মনে করতে পারি না। পূর্বের জন্মের কি ছিলাম সেটাও আমার অজানা। তবে এই জন্মের শুরু থেকে সবকিছুই মনে পড়ে আমার। আমি ছিলাম একটা ধাতব দণ্ড। তার একটা অংশ কেটে নিয়ে আমার হাতল বানানো হয়েছিল। এরপর আমাকে রাস্তার পাশে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হলো। এরপর সেই হাতলের সাথে একটা বৈদ্যুতিক বাতি ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। নতুন এলাকায় লোকবসতি শুরু হবার আগে সেখানে রাস্তা বানানো হলো। আমাকে এমনই একটা রাস্তার ধারে খাড়া করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে খুবই ভয় ভয় করতো কারণ তখনও চারপাশে ঘন জঙ্গল। সেখানে খরগোশেরা চড়ে বেড়ায়। তাদের ধরার জন্য শেয়াল পিছু ধাওয়া করে। হাঁসের পাল বনের ডোবার পাশের ঝোপের আড়ালে ডিম পাড়ে। একসময় সেই ডিম ফুটে ফুটফুটে কোমল তুলতুলে একটা করে বাচ্চা বের হয়। এরপর তারা মায়ের পিছু পিছু প্যারেড করে চলাফেরা করে আর শিশুর মতো কোমল কণ্ঠে প্যাক প্যাক করে। শুনতে আমার বড্ড ভালো লাগে। এভাবেই দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যায়। আমার অবশ্য রুটিন মানুষের চেয়ে একেবারে উল্টো। আমি সারাদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝিমাই আর সন্ধ্যা হলেই আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠি। তারপর সারারাত ধরে নিঃসঙ্গ রাস্তা পাহারা দিই। আবার সকাল হবার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ি। আমার দিনগুলো তাই বিমর্ষ আর রাতগুলো নিঃসঙ্গ। মানুষগুলো সারাদিন মান শুধু দৌড়ায় আর দৌড়ায়। তাদের একটুও অবসর নেই। সেই দৌড় শুরু একেবারে শিশু বয়স থেকেই। শিশুদের তাদের বাবা মায়েরা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে দিয়ে কাজে চলে যায়। এরপর একটু বড় হলেই শুরু হয় স্কুল তারপর তারাও বড়দের মতো জীবনচক্রের ফাঁদে আটকা পড়ে যায়। আমার দিনগুলো বিমর্ষ কারণ আমি থাকি ক্লান্ত। আর সেই ক্লান্তি আরো বেড়ে যায় মানুষের দৌড়ঝাঁপ দেখে দেখে। রাতগুলো ভীষণ নিঃসঙ্গ কারণ মানুষ রাতে বাড়ির বাইরে বের হয় না বিভিন্ন অজুহাতে। শীতের সময় বাইরে ঠান্ডা, গরমের সময় বাইরে গরম পরে এমন শতশত অজুহাত। আবার রাতের বেলায় বাইরে বের হওয়াটা স্বাভাবিক ভদ্রতার বরখেলাপ। বাবা মায়েরা বসেন টিভি বা মোবাইল নিয়ে আর সন্তানেরা বসে বই খাতা নিয়ে। বাইরে বের হবার কোনো দরকারও নেই। আর রাতে বাইরে বের হওয়াটা অনেকেই আবার নিরাপদ মনে করেন না। এভাবেই আমার নিস্তরঙ্গ দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। অবশ্য মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীদের কুকুরগুলো এসে আমার পায়ের কাছে সুসু করে আমাকে কিঞ্চিৎ কাতুকুতু দেওয়ার চেষ্টা করতো। এরপর আমার পেছনের বাসায় একটা নতুন পরিবার আসলো। তারপর থেকে আমার সময়টা বেশ কেটে যাচ্ছে। এই পরিবারের পুরুষ মানুষটার মাথায় মনে হয় ছিট আছে। তার কোনকিছুই স্বাভাবিক নিয়মের সাথে মিলে না। সে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজে চলে যায়। যাওয়ার আগে আমাকে একবার হেলো বলে যায়। তখনও আমার হাতলের আলোটা জ্বলছে কারণ সকাল হতে দেরি আছে। এরপর সে ফেরে দিনের শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর। এসেই আমাকে একটা হেলো বলে বাসায় ঢুকে পড়ে। তারপর মনে হয় গোসল আর খাওয়া দাওয়া করে। এরপর বেরিয়ে এসে তার বারান্দায় পা মেলে বসে। বাংলাদেশের গ্রামে দাদি নানিরা যেই ভঙ্গিমায় বসে পায়ের ওপর নাতি নাতিনীদের শুইয়ে ঘুম পাড়ায় অনেকটা সেই ভঙ্গিতে। আর পাশেই মোবাইলের পর্দায় ইউটিউবে গান ছেড়ে দেয়। চুপচাপ বসে থাকে সে। আশেপাশের পরিবেশ দেখে আর মনে হয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কখনও কোন প্রতিবেশী হাঁটতে বের হলে তাদেরও হেলো বলে। তবে তার একটা কাজ আমার খুব মজার লাগে। সে বিড়াল দেখলেই তার ডাক নকল করে। সাথে সাথেই বিড়ালটাই বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে তাকায়। যতবার সে ডাক দেয় বিড়ালটা ততবারই ফিরে ফিরে তাকায়। মাঝে মধ্যেই সে তার মেয়েকে ডেকে নেয় কারণ মেয়েটার বিড়াল খুবই পছন্দের প্রাণী। অনেকদিন ধরেই আবদার করে আসছে একটা পোষা বিড়ালের কিন্তু মানুষটা রাজি হয় না কারণ সেটাকে দেখভাল করার মতো সময় কারো নেই। পূর্ণিমা রাত আসলেই মনে হয় এই মনুষটা পাগল হয়ে যায়। চাঁদের সাথে তার কত যে কথা হয় তার হিসাব নেই। সে বলে চাঁদ আর সূর্য্যই তো তার সবকিছুর সাক্ষী। সে একদিন থাকবে না কিন্তু চাঁদ সূর্য ঠিকই পৃথিবীকে এল দিয়ে যাবে। কি অদ্ভুত মানব জীবন। মহাকালের তুলনায় কতই না ক্ষুদ্র তার ব্যাপ্তি। আর অস্তিত্বের কথা বললে সেটা তো মহাবিশ্বের তুলনায় ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম। আমি তার মনের ভাবটা এখন কিছুটা আঁচ করতে পারি। আরও পড়ুন লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ থেকে মিশরের জেলখানায় ৬ বাংলাদেশি আগেই বলেছি এই মানুষটার কর্মকাণ্ড আর দশটা মানুষের মতো না। সে এই যে মেঝেতে বসে থাকে এটা নিয়েও তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ভদ্রলোকেরা না কি দোতলার বারান্দায় বসে। নিচতলার বারান্দায় বসাটা না কি অভদ্রতার লক্ষণ। আমি টের পায় মানুষটার ঘুম ঠিকমত হচ্ছে না কারণ তাকে দেখি সবসময়ই চোখ ডলতে। হয়তোবা নতুন একটা জায়গায় এসেছে সেই কারণেই। অথবা দোতলায় ঘুমানোর কারণে। কারণ এই মানুষটা খুবই মাটি ঘেঁষা মানুষ। সে মাটির গন্ধ নেয়, ঘাসের গন্ধ নেয়, ফুলের গন্ধ নেয় এগুলো আমার দেখা। সে আমাকে বলেছে সে কুকুরের গায়ের গন্ধ টের পায়। সে আরও একটা মজার বিষয় বলেছে। সে নাকি প্রত্যেকটা মানুষের শরীর থেকে আলাদা আলাদা গন্ধ পায়। যাইহোক সব মানুষ তো একইরকম হয় না। এই মানুষটার পাগলামো গুলো আমার নিস্তরঙ্গ জীবনে কিছুটা হলেও বৈচিত্র্য বয়ে এনেছে। আসলে সব মানুষ একইরকম হলে তো পৃথিবীটা খুবই বিরক্তিকর জায়গা হয়ে যেত। এমন কিছু উড়নচন্ডী মানুষ ছিল বলেই হয়তোবা পৃথিবীটা এখনও মনুষ্য বসবাসের উপযোগী আছে। আসলে আধুনিক মানুষ তো নিয়ম শৃংখলার জালে বন্দি হয়ে হতাশায় ভুগে। সেখানে নিয়ম ভাঙা এই মানুষগুলো সকলকে জীবন নিয়ে আশাবাদী করে। নিয়ম শৃংখলা ছাড়াও, শতশত অপূর্ণতা নিয়েও আসলে বেঁচে থাকা যায়। হোক না সেটা মানুষের জীবন বা ল্যাম্পপোস্টের জীবন। এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>