জাতীয়

একসঙ্গে ২০ বা তার বেশি ভিমরুল কামড়ালে যা হতে পারে

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

সাধারণ বিষধর পোকামাকড়ের কামড় হালকা যন্ত্রণাদায়ক হলেও ভিমরুলের আক্রমণ ক্ষেত্রবিশেষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে দলবদ্ধ ভিমরুলে যখন কাউকে আক্রমণ করে, তখন সঠিক সময়ের চিকিত্সা না পেলে তা রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ভিমরুলের বিষ কেন প্রাণঘাতী?

ভিমরুলের বিষে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত উপাদান থাকে। যেমন অ্যাসিটাইলকোলিন, ফসফোলাইপেস, হিস্টামিন, হায়ালুরোনিডেস, প্রোটিয়েস এবং নানা ধরনের এনজাইম।

অ্যানাফাইলাকটিক শক: অনেকের শরীর এই বিষের প্রতি তীব্র সংবেদনশীল বা অ্যালার্জিক। একটি বা দুটি কামড়েই তাঁদের শরীরে ‘অ্যানাফাইলাক্সিস’ নামক প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক বিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এতে রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। শ্বাসনালি ফুলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রোগী সংজ্ঞাহীন হয়ে মারা যেতে পারেন।

মাল্টি-অর্গান ফেইলিউর: যদি কোনো ব্যক্তিকে একসঙ্গে ২০টি বা তার বেশি ভিমরুল কামড়ায়, তবে অতিরিক্ত বিষের কারণে কোনো অ্যালার্জি ছাড়াই শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এই অতিরিক্ত টক্সিন রক্তের লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে ফেলে এবং পেশির টিস্যু নষ্ট করে। এসব বর্জ্য জমে রোগীর কিডনি বিকল হয়ে পড়ে, হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয় এবং যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর কারণ ঘটে।

একাধিক কামড়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিত্সা

কাউকে যদি ভিমরুল দল বেঁধে আক্রমণ করে, তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগপর্যন্ত দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে:

নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিন: ভিমরুল যেখানে আক্রমণ করেছে, দ্রুত সেই স্থান ছেড়ে বন্ধ ঘরে বা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।

হুল তুলে ফেলুন (যদি থাকে): সাধারণত ভিমরুল মৌমাছির মতো হুল ফুটিয়ে রেখে যায় না, তবে কোনো কারণে ত্বকে হুল ফুটে থাকলে তা আলতো করে কার্ড বা চিমটা দিয়ে বের করে আনতে হবে। চাপ দিয়ে বিষ বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

বরফ দিন: হুল ফোটানোর স্থানে সঙ্গে সঙ্গে বরফ বা ঠান্ডা পানি দিতে হবে। বরফ কাপড়ে পেঁচিয়ে ১০-১৫ মিনিট চেপে রাখলে বিষের ছড়িয়ে পড়া ধীর হয় এবং ফোলা ও যন্ত্রণা কিছুটা কমে।

ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন: ক্ষতস্থান দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

হাসপাতালে চিকিত্সা

বেশি ভিমরুল হুল ফোটালে অবহেলা না করে দ্রুততম সময়ে রোগীকে কোনো হাসপাতাল বা জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

জরুরি অ্যালার্জি প্রতিরোধ

অ্যানাফাইলাকটিক শক দেখা দিলে এড্রেনালিন ইনজেকশন জরুরি। শ্বাসনালি খুলে দিতে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে এটি এক নম্বর জীবন রক্ষাকারী ওষুধ।

প্রদাহ ও চুলকানি নিয়ন্ত্রণ

ফোলা, অ্যালার্জি ও তীব্র প্রদাহ কমানোর জন্য শিরায় বা মুখে খাওয়ার অ্যান্টিহিস্টামিন ও কটিকোস্টেরয়েড দেওয়া হয়।

ফ্লুইড থেরাপি ও কিডনি সুরক্ষা

প্রচুর পরিমাণে স্যালাইন দিয়ে রক্তে মিশে থাকা টক্সিন বের করার চেষ্টা করা হয়। শ্বাসকষ্ট থাকলে নেবুলাইজার দেওয়া হয়।

আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস

অতিরিক্ত হুল ফোটানোর কারণে রক্তে বিষের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যদি কিডনি বিকলের উপক্রম হয়, তবে দ্রুত ডায়ালাইসিস বা আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত থেকে টক্সিন ছেঁকে বের করে নেওয়া হয়।

কখন বুঝবেন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন?

ভিমরুলে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন:

  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা হঠাৎ অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া

  • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা বেশি শ্বাসকষ্ট

  • বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা মাথা হালকা হয়ে যাওয়া

  • শরীরে লাল লাল চাকা ওঠা ও তীব্র চুলকানি

  • বমি ভাব বা অনবরত বমি

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া বা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া।

ভিমরুলের আক্রমণে যাদের একবার তীব্র অ্যালার্জি হয়েছে, তাঁরা পরে আবার আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি ৩০-৬০ ভাগ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শে ‘ভেনম ইমিউনোথেরাপি’ গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। অপচিকিত্সায় সময় নষ্ট না করে সঠিক সময়ে আধুনিক চিকিত্সাই পারে একটি অমূল্য প্রাণ বাঁচাতে।

লেখক: জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টার্নাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>