বিজ্ঞাপন
একের পর এক ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে যাচ্ছেন তারকা ফুটবলাররা। কোচ পেপ গার্দিওলা তো গত মৌসুম শেষেই সিটি ছেড়েছেন। তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা।
ফুটবলারদের মধ্যে ম্যানসিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা, গোল্ডেন বল পাওয়া মিডফিল্ডার রদ্রি। ডাচ ফুটবলার তিয়ানি রেইন্ডার্স ইত্তিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়েছেন। ধারে টটেনহ্যামে যোগ দিয়েছেন মিশরীয় তারকা ওমর মারমোশ। টটেনহ্যাম হটস্পারে পুরোপুরি যোগ দিয়েছেন সাভিনহো। লিডস ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন জেমস ট্র্যাফোর্ড। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ম্যানসিটি ছেড়ে গেছেন বার্নার্ডো সিলভা এবং জন স্টোন্স।
সর্বশেষ ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার নিকো গঞ্জালেজ। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দলে নিয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। বুধবার দুই ক্লাবই দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে যারা এই মৌসুমে অন্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন, তারা ছিলেন বিগত সময়গুলোতে ম্যানসিটির সাফল্যের বড় কারিগর। কোচ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই খেলোয়াড়রা দল ছেড়ে যাওয়ায় এবারের মৌসুমে ম্যানসিটি কী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।
ইএসপিএনের সূত্র অনুযায়ী, নিকো গঞ্জালেসকে কিনতে নিউক্যাসল শুরুতে দেবে ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড। এর সঙ্গে পারফরম্যান্সভিত্তিক আরও ৪ মিলিয়ন পাউন্ড যোগ হতে পারে। সব মিলিয়ে দলবদলের অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে।
নিউক্যাসলের জন্য এই দলবদলটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চলতি গ্রীষ্মে মাঝমাঠে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি। ব্রুনো গিমারায়েস যোগ দিয়েছেন আর্সেনালে, আর সান্দ্রো তোনালি পাড়ি জমিয়েছেন টটেনহামে। ফলে মাঝমাঠের শক্তি ধরে রাখতে গঞ্জালেসকে দলে নেওয়া হলো।
নিউক্যাসলে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ২৪ বছর বয়সী গঞ্জালেস। ক্লাবটির ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, ‘এই অসাধারণ ক্লাবে এসে আমি খুবই খুশি। ক্লাব ও শহর সম্পর্কে সবার কাছ থেকেই দারুণ কথা শুনেছি। তাই এখানে থাকতে এবং এই প্রকল্পের অংশ হতে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।’
নতুন ক্লাবের জার্সিও এরই মধ্যে পছন্দ হয়ে গেছে স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের। ‘কালো-সাদা জার্সিটা আমার এখনই খুব ভালো লেগে গেছে। এই ক্লাবের হয়ে মাঠে সেটি পরার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।
নিউক্যাসলের ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস পার্কে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, স্বাগতিক দলের খেলোয়াড় হিসেবে নামবেন- এই বিষয়টিও গঞ্জালেসকে বাড়তি রোমাঞ্চিত করছে।
‘ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আমি সেন্ট জেমস’ পার্কে দুবার খেলেছি এবং দুবারই খুব কঠিন মনে হয়েছে। পরিবেশ ছিল অসাধারণ, সমর্থকেরা ছিলেন ভীষণ আবেগী। এবার ঘরের খেলোয়াড় হিসেবে সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আমি মুখিয়ে আছি,’ বলেন তিনি।
ওয়েস্ট ব্রমউইচ আলবিয়নের বিপক্ষে কারাবাও কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের আগে নিউক্যাসল সমর্থকদের সামনে গঞ্জালেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেন্ট জেমস’ পার্কের যে পরিবেশকে তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে কঠিন বলে অভিজ্ঞতা নিয়েছেন, এবার সেই পরিবেশই হবে তার নিজের দলের শক্তি। নিউক্যাসল সমর্থকদের প্রত্যাশা, মাঝমাঠে তাঁর উপস্থিতি দলকে নতুন মাত্রা দেবে।
নিউক্যাসলের নতুন কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলও গঞ্জালেসের আগমনে সন্তুষ্ট। তার মতে, স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দলের মাঝমাঠে মানসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ একটি সংযোজন।
জাইসল বলেন, ‘নিকোকে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের খেলোয়াড় হিসেবে দেখে আমি খুব খুশি। মাঠের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় সে মানসম্মত পারফরম্যান্স ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে।’
গঞ্জালেসের বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকেও বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন নিউক্যাসল কোচ। ‘সে বল নিয়ে এগোতে খুব ভালোবাসে। চাপের মধ্যেও শান্ত থেকে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে। রক্ষণেও তার শৃঙ্খলা আছে, সে ভালোভাবে খেলা পড়তে পারে এবং তার শারীরিক সক্ষমতাও তাকে প্রিমিয়ার লিগের জন্য খুব উপযুক্ত করে তুলেছে,’ বলেন জাইসল।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন