জাতীয়

এক ইনিংসেই সব প্রশ্নের জবাব, হৃদয়কে টেস্ট দলের বাইরে রাখার সুযোগ কোথায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
তিনি নিজে ছিলেন ফ্রি স্ট্রোক মেকার। ব্যাকরণের বাইরে গিয়ে খেলতেন না। তবে সাহস ছিল। প্রতিপক্ষের ফাস্টবোলারদের ১৪০ কিলোমিটার গতির বল ভেতরে কাঁপন ধরাতে পারতো না। বডি লাইন বাউন্সারে ভড়কে না গিয়ে পুল-হুক খেলতেন অবলীলায়। অফস্টাম্পের আশপাশে একটু খাটো লেন্থের ডেলিভারি পেলেই চোখের পলকে পেছনের পায়ে গিয়ে সজোরে স্কয়ার কাট করতেন। এর বাইরে ওভার পিচ, হাফভলি পেলে তো কথাই নেই! মোদ্দা কথা, ক্যারিয়ারে আলগা বল পেলেই জ্বলে উঠতো হাবিবুল বাশার সুমনের ব্যাট। বাংলাদেশের টেস্টের প্রথম দিকে যার সঙ্গেই খেলা হোক না কেন, হাবিবুল বাশার খেলতেন তার মত করে, স্বচ্ছন্দে। সাবলীল ঢংয়ে। কঠিন প্রতিপক্ষের বাঘা বাঘা বোলারদের বিপক্ষে অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক হলে তারা চেপে বসবে আরও। তখন আর কোনোভাবেই সামনে আগানোর পথ থাকবে না। এই উপলব্ধি থেকে অ্যাপ্রোচটা পজিটিভ থাকতো হাবিবুল বাশারের। চালিয়ে খেলার অভ্যাসটাও ছিল। সে কারণেই প্রথম দিকে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তার ব্যাট থেকেই এক প্রান্তে নিয়মিত রানের ফল্গুধারা বইতো। অভিষেক টেস্টে আমিনুল ইসলাম বুলবুল দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে সেঞ্চুরি করলেও অল্প সময়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে প্রথম টেস্ট ফিফটি হাঁকিয়ে বসেছিলেন হাবিবুল বাশার। শুধু টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে অর্ধশতক উপহার দেওয়াই নয়, ওইভাবে চালিয়ে খেলেই টেস্টে নিয়মিত রান পেয়েছেন। বিপক্ষ বোলারদের চেপে বসতে না দিয়ে সব সময় পাল্টা আক্রমণ করে খেলার চেষ্টা করে সফল হাবিবুল বাশার। ৫০ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরির পাশে ২৪টি হাফসেঞ্চুরিই বলে দিচ্ছে টেস্টে নিজের মত করে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে রান তোলায় কতটা দক্ষ ছিলেন তিনি। প্রধান নির্বাচক হয়ে টেস্ট দলে ঠিক ওই অ্যাপ্রোচের অন্তত ১-২ জন ব্যাটারকে দলে চেয়েছেন হাবিবুল বাশার। তাই বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ তামিম আর মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয়কে টেস্ট দলে নিয়েছিলেন। কিন্তু দুজনার কেউই প্রথম টেস্টে কিছু করতে পারেননি। আর সেই না-পারায় সমালোচকরা নড়ে চড়ে বসেছিলেন। তানজিদ তামিম পাকিস্তানের সাথে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে যথাক্রমে ৪ ও ২৬ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ডারউইনে দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন মারকুটে এই ওপেনার। অনেকেই তাকে শুধুই সাদা বলের ‘ধুমধাড়াক্কা’ ব্যাটার মনে করতেন। তাদের ধারণা ছিল, মারকুটে বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ তামিম খুব বেশি বেপরোয়া। টেস্ট খেলার ধৈর্য তার নেই। বল ছেড়ে ভালো বলকে সমীহ দেখানোর পাশাপাশি আলগা বলের অপেক্ষায় থেকে সেগুলোকে ব্যাকরণসম্মত শটে সীমানার ওপারে পাঠানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটি তানজিদ তামিম ভুল প্রমাণ করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ডারউইনে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের গড়া বিশ্বমানের ফাস্টবোলিং এবং অসি বোলারদের মধ্যে শেন ওয়ার্নের পর উইকেট শিকারে সবাইকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অফস্পিনার নাথান লায়নের সাজানো অতি সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও ধারালো অস্ট্রেলিয়ান বোলিংয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে শতক হাঁকিয়ে চমকে দিয়েছেন তানজিদ তামিম। দেখিয়ে দিয়েছেন, শুধু তেড়েফুঁড়ে ব্যাট ছোড়াই নয়, টেস্ট ব্যাটিংটাও পারি আমি। ওই টেস্ট সেঞ্চুরিতে বন্ধ হয়েছে সমালোচকদের মুখ। এক-দুটি টেস্ট দেখে কাউকে নিয়ে চরম ও বিরূপ মন্তব্য যে ঠিক নয়, তানজিদ তামিমের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে শতক, সে বার্তাই দিলো। এবার আরেক ফ্রি স্ট্রোক মেকার তাওহিদ হৃদয়ও সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন। ব্যাট হাতে সাদা বলে খুব ভালো সময় কাটানো হৃদয়কে মাঝে টেস্ট খেলতে ডেকেছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে কিছুই করতে পারেননি হৃদয়। ওই টেস্টে খারাপ করার পর তাকে আর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে পাঠানোর সাহস পায়নি টাইগার ম্যানেজমেন্ট। ডারউইন আর ম্যাকাইতে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে না পারলেও তারপর পরই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছেন হৃদয়। আর সেখানেই ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। হৃদয়ের অতিবড় সমালোচকও মানছেন, প্রোটিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক ইনিংসে সাড়ে তিনশো রান করার ক্ষমতা যার আছে, তার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ভালো খেলা নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। তার লম্বা-চওড়া ইনিংস খেলার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫০ রান করা হৃদয়কে এখন আর টেস্ট দল থেকে বাইরে রাখার উপায় নেই। এমন মন্তব্যও অনেকের। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথা বলা কেন, খোদ নির্বাচক মহলেও তাওহিদ হৃদয়ের অমন ট্রিপল সেঞ্চুরি বিরাট নাড়া দিয়েছে। এ বিশাল ইনিংসের পর হৃদয় আফগানিস্তান আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শুধু সাদা বলে নয়, লাল বলেও দলে থাকবেন; সরাসরি এমন কথা না বললেও হাবিবুল বাশারের মুখ থেকে বের হওয়া একটি মন্তব্যই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট দলেই জায়গা পাবেন হৃদয়। বুধবার সন্ধ্যার পর হৃদয়ের ওই অমর কীর্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাবিবুল বাশার জাগো নিউজকে জানান, ‘ভালোই হলো, এখন আর কারও এক ইনিংস বা এক-দুই টেস্টের ব্যাটিং দেখেই তাকে বাদ দেওয়ার কথা বলবেন না কেউ।’ ‘আসলে একটা প্লেয়ারের এক-দুটি টেস্ট বা ইনিংস দেখেই কারও সম্পর্কে চরম মন্তব্য করা ঠিক না। একজন ব্যাটারের টেস্টে নিজেকে মেলে ধরতেও কয়েকটি ইনিংস লাগে।’ বলার অপেক্ষা রাখে না, গত জুনে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের সাথে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি। যথাক্রমে ৩ ও ৯ রানে ফিরে গিয়েছিলেন। এবার সেই হৃদয় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৩৫০ রানে অপরাজিত। স্বাভাবিকভাবেই এখন থেকে আর তার টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে কেউ কথা বলতে পারবেন না। সুযোগ পেয়ে ২-৩ ম্যাচ বা ইনিংস খারাপ খেললেই তির্যক ভাষায় আক্রমণ করার প্রবণা যে সমালোচকদের, তাদের মুখেও লাগাম টেনে দিয়েছে হৃদয়ের এই ইনিংস। এআরবি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>