ব্রেকিং নিউজ
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন নাহিদ রানাকে নিয়ে বিগব্যাশে কাড়াকাড়ি, কিন্তু বিসিবি ছাড়বে তো? র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, দক্ষ জনবল ও সরঞ্জাম কাজে লাগানোর সুপারিশ আ. লীগ, অন্তর্বর্তীসহ বর্তমান সরকারের দুর্নীতি খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি  উভয় দেশের স্বার্থ গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক আরও জোরদার কর‌তে চায় ভারত  বাংলাদেশ-উ. ইন্ডিজ সিরিজের সূচি প্রকাশ, কোন টেস্ট কোথায় হবে? লোহাগড়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ আহত ১০ শেখ হাসিনাকে ফেরাতে যোগাযোগ চলছে, এলেই গ্রেপ্তার: শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কখনো মেয়ে, কখনো ভাইঝি সাজিয়ে স্ত্রীকে একাধিক বিয়ে দিতেন স্বামী
জাতীয়

এলডিসি উত্তরণের আগে শুল্ক সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
এলডিসি উত্তরণের আগে বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ, প্যারা-ট্যারিফ কমানো, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং বাণিজ্য চুক্তির কৌশল নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, শুধু শুল্ক কমালেই হবে না; এর সঙ্গে রাজস্ব সংস্কার, জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থায়ন, দক্ষতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নও জরুরি। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ‘বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি এক সন্ধিক্ষণে: জাতীয় শুল্কনীতি, এলডিসি উত্তরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের বাণিজ্য চুক্তির প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। বিশ্বব্যাংকের ম্যাক্রোইকোনমিক্স, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. নোরা ডিহেল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যারা-ট্যারিফে বাড়ছে সুরক্ষা বিশ্বব্যাংকের উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য-ভারযুক্ত গড় এমএফএন শুল্ক ছিল ৭ শতাংশ। তবে নিয়ন্ত্রক ও সম্পূরক শুল্ক যোগ করলে গড় নামমাত্র সুরক্ষার হার দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে। সীমান্তে সুরক্ষার বড় অংশই আসে প্যারা-ট্যারিফ থেকে। আরও পড়ুন এলডিসি উত্তরণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাতভিত্তিক কৌশল চান উদ্যোক্তারা জুতা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাথর ও কাচ এবং পরিবহন সরঞ্জাম খাতে প্যারা-ট্যারিফ মূল শুল্কহারের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করছে। চূড়ান্ত পণ্যের পাশাপাশি উপকরণের ওপরও শুল্ক থাকায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে মধ্যবর্তী উপকরণে শুল্ক হ্রাস, উচ্চ সুরক্ষিত ভোগ্যপণ্যে প্রাথমিক শুল্ক কমানো, অবশিষ্ট প্যারা-ট্যারিফ স্বচ্ছভাবে প্রত্যাহার এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এসব ফলাফলকে প্রাথমিক ও দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে জাতীয় শুল্কনীতি ড. জাইদী সাত্তার বলেন, বাংলাদেশের আর সংস্কার না করে বসে থাকার সুযোগ নেই। তার মতে, জাতীয় শুল্কনীতি ২০২৩ বাস্তবায়ন দ্রুততর করা প্রয়োজন। স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো জাতীয় শুল্কনীতির অঙ্গীকারের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, উচ্চ শুল্ক ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে তৈরি পোশাকশিল্পের বাইরে রপ্তানি করা উচ্চ শুল্কপ্রাচীরের আড়ালে অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির তুলনায় লাভজনক নয়। এটিই রপ্তানিবিরোধী পক্ষপাত, যা রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে। সাত্তার বলেন, মধ্যবর্তী পণ্যের শুল্ক কমানোর সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের শুল্কও সমপর্যায়ে কমাতে হবে। একই সঙ্গে শুল্ক ছাড় ও অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ২০২৭ অর্থবছরে এক্স-অ্যান্টে গড় নামমাত্র সুরক্ষা হার ২৮ শতাংশ, যার প্রায় অর্ধেক প্যারা-ট্যারিফ থেকে আসে; গড় বাণিজ্য কর ৫৫ শতাংশ। আরডি ও এসডি প্রসঙ্গে তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে এগুলো কমানোর প্রস্তাব দেন। প্রথম ধাপে আরডি বিলোপ এবং অটোমোবাইল, আগ্নেয়াস্ত্র ও তামাক ছাড়া ২০ শতাংশের বেশি এসডি প্রত্যাহারের কথা বলেন। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৯ সালের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ এবং এসডি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। শুল্ক সংস্কারের সঙ্গে রাজস্ব সংস্কার শুল্ক সংস্কারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক রাজস্ব ক্ষতি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে ট্রিস্ট ও জিটিএপি মডেলের মাধ্যমে শুল্ক সংস্কারের ফল বিশ্লেষণের কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। আরও পড়ুন এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা পিআরআইয়ের সম্মাননীয় ফেলো ড. আহসান এইচ. মনসুর আরও সাহসী সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে সব কাস্টমস ডিউটি বিলোপ করা হলে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও ৪০০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৩ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। এফটিএর বদলে ইপিএ বা সিইপিএ? বর্তমান শুল্ক কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ এফটিএ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন ড. জাইদী সাত্তার। তার মতে, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের চুক্তি কার্যকর থাকা এবং ভারতের চুক্তি ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের তাগিদ এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শুল্ক সংস্কার প্রয়োজনীয় হলেও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, উন্নত অবকাঠামো ও অর্থায়নের সুযোগ এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন, উচ্চ শুল্ক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু শিল্পকে রক্ষা করা যায় না। উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে। এলডিসি উত্তরণ ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমইদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বৈধ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত শুল্ক বহাল রেখে সুরক্ষামূলক প্যারা-ট্যারিফের পরিবর্তে স্বচ্ছ কাস্টমস শুল্ক বা সমপরিমাণ দেশীয় কর আরোপের আহ্বান জানান। তিনি মধ্যবর্তী উপকরণ ও চূড়ান্ত পণ্যের উচ্চ শুল্ক কমানো এবং বিবেচনাধীন ছাড় বাতিলের ওপর গুরুত্ব দেন। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বৃহত্তর কর সংস্কারের সঙ্গে শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্প, রপ্তানি, আমদানি ও বিনিময় হারনীতির সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি ইইউ কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজমসহ এসপিএস, টিবিটি ও টেকসইতাসংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। আরও পড়ুন এলডিসি বিলম্বিত, উত্তরণে টেকসই ও মসৃণ পথ খুঁজছে সরকার র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, দুর্বল দেশীয় মানব্যবস্থা ও বাণিজ্য অবকাঠামো রপ্তানি প্রস্তুতিকে সীমিত করছে। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য এমএফএন শুল্ক ও রুলস অব অরিজিনের শর্তের বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) শুল্ক সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার, জ্বালানি, অর্থায়ন, লজিস্টিকস, দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নের ওপর জোর দেন। এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, পূর্বানুমেয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশ ছাড়া সংস্কারের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। তিনি সীমান্ত করনির্ভর সুরক্ষা থেকে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, গুণমান ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতার দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এলডিসি উত্তরণ, অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও গভীরতর এফটিএর পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও পূর্বানুমেয় নীতি-অনুক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি কর্মসংস্থান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও মানব উন্নয়নকে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানান। সমাপনী বক্তব্যে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম বলেন, শুল্ক সংস্কার প্রয়োজনীয় হলেও এটি একক কোনো সমাধান নয়। ব্যবসা সহজীকরণ, শিক্ষা ও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনীতির মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে উন্নতি ছাড়া এই সংস্কার পূর্ণ ফল দেবে না। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতকেও বাণিজ্য কৌশল ও এফটিএ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। আইএইচও/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>