জাতীয়

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। রায়ে আসামিরা দোষী সাব্যস্ত হলে সাজা পাবেন কি না, তা জানা যাবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলায় আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে আসামিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আসামিপক্ষের দাবি, তারা খালাস পাবেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। পলাতক দেখিয়েই বিচার মামলার সাত আসামির কেউই গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম চলে। আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান অমি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা ‘সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে তারা ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতা হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি। ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রতিরোধ গড়ে তোলো’ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রতিরোধ গড়ে তোলো’ বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনের অডিও টেপের প্রসঙ্গও আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউটর বলেন, সাদ্দাম ওবায়দুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সাংগঠনিকভাবে আন্দোলন মোকাবিলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হলে তারা প্রস্তুত কি না। ওই কথোপকথন এবং বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে আন্দোলন মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্য আসামিরা যুবলীগ, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনে তাদের অধীন ও নিয়ন্ত্রিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করেছেন। তাদের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে গত ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়েছে’ দাবি করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। ‘কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি’ অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মক্কেলরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান অমি শুনানি করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনের ঘটনায় তার মক্কেলদের নাম আসেনি। তারা অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন—এমনটিও বলা হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—ট্রাইব্যুনালের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। মামলায় কোনো নারী সাক্ষী না থাকা এবং ভিডিওচিত্রে আসামিদের হাতে কোনো ধরনের লাঠিসোঁটা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি—এমন তথ্য তুলে ধরে চার আসামির খালাস চান তাদের আইনজীবী। যেভাবে শুরু হয় বিচার এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় আইন ও বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। প্রথম দফায় গত ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুলাই ঐতিহাসিক বিষয়ে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এরপর ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এখন দেখার বিষয়, পলাতক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে কী রায় আসে। এফএইচ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>