বিজ্ঞাপন
একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে কয়েকটি ওষুধ লিখে দিলেন। রোগীর স্বজন হাসপাতালের ফার্মেসিতে গেলেন—একটি নেই, আরেকটি নেই, তৃতীয়টির সরবরাহ অনিয়মিত। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরে থেকে কিনতে হলো। যার জন্য সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন বিনা মূল্যে বা কম খরচে চিকিৎসা নিতে, তাকেই ফিরে যেতে হলো বেসরকারি ফার্মেসিতে। দরিদ্র পরিবারের জন্য এই দৃশ্য কেবল অতিরিক্ত ব্যয়ের নয়; অনেক সময় এটি চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থাকারও কারণ।
ওষুধ না থাকা দেখতে ছোট একটি প্রশাসনিক সমস্যা মনে হতে পারে। বাস্তবে এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর একটি নিরাপত্তাঝুঁকি। হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক আছেন, পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে—কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। তাহলে চিকিৎসাব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই তো অসম্পূর্ণ থেকে গেল।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এই সংকট নতুন নয়। বরং সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়, কাঠামোগত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত ছিল। গবেষণাটি দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করেছে। তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
‘আমার চিকিৎসার প্রয়োজনের সময় রাষ্ট্র কি আমার পাশে আছে?’ সেই প্রশ্নের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর হতে পারে একটি ছোট্ট দৃশ্য: হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় ওষুধটি আছে, রোগীর হাতে তা পৌঁছে যাচ্ছে, আর কোনো স্বজনকে দিশেহারা হয়ে শহরের এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটতে হচ্ছে না।
এটি কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়। এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন রোগী, একটি পরিবার এবং কখনো একটি জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, একই গবেষণা বলছে, সরকারি ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) প্রায় ৬২ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করে। সময়মতো এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ওষুধের প্রাপ্যতা প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। অর্থাৎ সমস্যাটি সব সময় অর্থের অভাব নয়; বড় অংশজুড়ে রয়েছে ক্রয়, সরবরাহ, প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা।
এই জায়গাটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভাবায়।
কারণ বাংলাদেশের ওষুধশিল্প নিয়ে আমরা গর্ব করি। দেশের প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। অর্থাৎ ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের আছে। অথচ সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই—এই বৈপরীত্য নিছক দুর্ভাগ্য নয়; এটি ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
উৎপাদন আছে, কিন্তু রোগীর হাতে নেই
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ওষুধের নিরাপত্তা শুধু কারখানায় পর্যাপ্ত উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। একটি ওষুধ রোগীর হাতে পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন সঠিক চাহিদা নিরূপণ, সময়মতো ক্রয়, মান যাচাই, মজুত ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সঠিক বিতরণ।
এই শৃঙ্খলের যেকোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নথিতেও বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যখাতে ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোরস ডিপো এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে চাহিদা নিরূপণ ও পূর্বাভাস তৈরিতে সমন্বয় ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ যে হাসপাতালে কোন ওষুধ কত প্রয়োজন, কোন রোগের চাপ বাড়ছে, কোন মৌসুমে কোন ওষুধের চাহিদা বাড়বে—এসব তথ্য যদি সঠিকভাবে সময়মতো সংগ্রহ না হয়, তাহলে বরাদ্দ ও সরবরাহও বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিলবে না।
ফলে কোথাও ওষুধ পড়ে থাকে, কোথাও রোগী ওষুধের জন্য ঘুরে বেড়ান।
এই অদক্ষতা কেবল অর্থের অপচয় নয়; এটি চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ কিংবা মানসিক রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ না পাওয়া চিকিৎসার ফলাফলকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
আর অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক না পাওয়া যেমন বিপজ্জনক, তেমনি অনিয়মিত ওষুধ সরবরাহের কারণে রোগী নিজের মতো করে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করলেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অর্থাৎ ওষুধের সংকট একদিকে চিকিৎসা ব্যাহত করে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দরিদ্র মানুষের জন্য সংকটটি আরও কঠিন
বাংলাদেশে মানুষের স্বাস্থ্যব্যয়ের বড় অংশই নিজেদের পকেট থেকে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আউট-অব-পকেট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর পেছনে যায়।
এই বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ না পাওয়া মানে রোগীর ওপর সরাসরি অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।
একজন মধ্যবিত্ত পরিবার হয়তো কোনোভাবে একটি ওষুধ কিনে নিতে পারে। কিন্তু নিম্নআয়ের একজন মানুষের কাছে কয়েক দিনের ওষুধের দামও বড় বোঝা। ফলে কেউ চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রাখেন, কেউ ওষুধের ডোজ কমিয়ে দেন, কেউ একদিন পরপর খান, কেউ আবার চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ফার্মেসির পরামর্শে ওষুধ চালিয়ে যান।
এভাবেই একটি সরবরাহ সংকট ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়।
বিশ্বব্যাংকের একটি নথিতেও বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ওষুধের ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা থাকা ওষুধ অনেক সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যায় না এবং মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি সরবরাহকারীর কাছ থেকে নিজের খরচে ওষুধ কেনেন।
এখানে আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন আসে—সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধ নেই, কিন্তু হাসপাতালের বাইরে একই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে?
সব ক্ষেত্রে অবশ্যই অনিয়মের অভিযোগ সত্য হবে না। কিন্তু সরকারি ওষুধের সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকলে সন্দেহ তৈরি হবেই। আর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সন্দেহ নিজেই একটি বড় সমস্যা।
সংকটের সমাধান কোথায়?
প্রথম কাজ হওয়া উচিত ওষুধের চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল এবং তথ্যনির্ভর করা। কোন হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ওষুধ কত আছে, মাসে কত ব্যবহার হচ্ছে, কতদিনের মজুত রয়েছে—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে দৃশ্যমান হওয়া দরকার।
এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব, যেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মজুত নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা পাবেন। কোথাও অতিরিক্ত মজুত থাকলে তা দ্রুত ঘাটতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা যাবে।
ওষুধের ক্ষেত্রে ‘আগে চাহিদা পাঠাও, পরে বরাদ্দ আসবে’ ধরনের ধীর প্রশাসনিক পদ্ধতির বদলে প্রয়োজন রিয়েল-টাইম সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়াতেও সংস্কার দরকার। একটি ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া যদি এত দীর্ঘ হয় যে রোগীর প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর ওষুধ আসে, তাহলে সেই ক্রয়ব্যবস্থা কার্যকর নয়। জরুরি ওষুধের জন্য দ্রুত ক্রয় ও বিকল্প সরবরাহকারী ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, মান যাচাই এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দ্রুততার অজুহাতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি না হয়।বাংলাদেশের জাতীয় প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকাও সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ করা জরুরি। ২০২৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় এই তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের জাতীয় তালিকাটি ২০১৬ সালের ছিল এবং নতুন তালিকায় দেশের বর্তমান রোগের ধরন, কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও ব্যয়সাশ্রয়িতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু তালিকা তৈরি করলেই কাজ শেষ হবে না। তালিকার ওষুধ বাস্তবে প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে কি না—সেটিই হতে হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম দামে ওষুধ বিক্রির জন্য সরকারি ফার্মেসি চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৫০ ধরনের বহুল ব্যবহৃত ওষুধ বাজারমূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দামে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ কার্যকর হলে উপকার মিলতে পারে। তবে এটি যেন সরকারি হাসপাতালের বিনা মূল্যের বা বরাদ্দকৃত ওষুধের বিকল্প হয়ে না যায়। দরিদ্র রোগীর অধিকার হলো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া; তাকে ‘কম দামের ওষুধ’ কিনতে বাধ্য করা নয়।
সবচেয়ে জরুরি হলো জবাবদিহি।
একটি হাসপাতালে কেন ওষুধ নেই—তার উত্তর শুধু ‘সরবরাহ আসেনি’ হলে চলবে না। চাহিদা কখন পাঠানো হয়েছিল, কত বরাদ্দ হয়েছিল, সরবরাহ কোথায় আটকে ছিল, মজুত ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল হয়েছিল কি না—এসব তথ্য যাচাইযোগ্য হতে হবে।
সরকারি হাসপাতালের ওষুধের মজুত ও সরবরাহের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। হাসপাতালের ওয়েবসাইট, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড বা নোটিশ বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের প্রাপ্যতা নিয়মিত প্রকাশ করা হলে রোগী ও স্বজন যেমন জানতে পারবেন, তেমনি কর্তৃপক্ষের ওপরও সামাজিক জবাবদিহি বাড়বে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আস্থা তৈরি হয় শুধু উন্নত ভবন দিয়ে নয়; রোগী যখন প্রয়োজনের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ওষুধটি হাতে পান, তখনই রাষ্ট্রের উপস্থিতি অনুভব করেন।
অতএব ওষুধের সংকটকে ‘ফার্মেসির সমস্যা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার অংশ। একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার যত আধুনিকই হোক, জরুরি ওষুধ না থাকলে সেটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দিতে পারে না। একজন চিকিৎসক যত দক্ষই হোন, প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীর হাতে না পৌঁছালে তাঁর চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
একটি দেশ তার নাগরিককে কতটা নিরাপদ রাখে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো—অসুস্থ হওয়ার পর সে কতটা নিশ্চিন্তে চিকিৎসা পেতে পারে।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও বেড়েছে, হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারিত হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সেই সক্ষমতার সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা যুক্ত করা।
কারণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকট সব সময় চোখে দেখা যায় না। কোনো হাসপাতাল ভেঙে পড়লে আমরা বুঝতে পারি সেখানে সমস্যা আছে। কিন্তু ফার্মেসির তাকটি যখন নীরবে খালি থাকে, তখন তার বিপদটি অনেক সময় বোঝা যায় না। অথচ সেই খালি তাকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন রোগীর জন্য সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সংকেত—রাষ্ট্রের চিকিৎসাব্যবস্থা আছে, কিন্তু চিকিৎসার অপরিহার্য উপাদানটি নেই।
এই অদৃশ্য সংকট আর উপেক্ষা করার সময় নেই। ওষুধকে ব্যয় নয়, জাতীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তার কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। উৎপাদন থেকে রোগীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে করতে হবে স্বচ্ছ, দ্রুত, তথ্যনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।
কারণ হাসপাতালের দরজায় রোগী যখন দাঁড়ান, তখন তিনি কোনো পরিসংখ্যান নন। তিনি রাষ্ট্রের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে আসেন—‘আমার চিকিৎসার প্রয়োজনের সময় রাষ্ট্র কি আমার পাশে আছে?’ সেই প্রশ্নের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর হতে পারে একটি ছোট্ট দৃশ্য: হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় ওষুধটি আছে, রোগীর হাতে তা পৌঁছে যাচ্ছে, আর কোনো স্বজনকে দিশেহারা হয়ে শহরের এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে ছুটতে হচ্ছে না।
একটি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়তো ছোট প্রশাসনিক কাজ। কিন্তু একজন মানুষের জীবন রক্ষার মুহূর্তে সেটিই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com
এইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন