বিজ্ঞাপন
ধরুন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সারাদিনের কাজ শেষে ঘরে ফিরেছেন। স্ত্রী ঘরে ঢুকেই ক্লান্ত শরীরটা সোফায় এলিয়ে দিলেন। আর স্বামী এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে এগিয়ে এসে বললেন, ‘চা খেয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নাও।’ শুনতে খুব সাধারণ একটি দৃশ্য মনে হলেও, বাস্তবে কর্মজীবী নারীদের জীবনে এমন মুহূর্ত এখনো অনেক সময়ই বিরল।
অফিসের কাজ শেষ হলেও নারীর কাজ যেন শেষ হয় না। কর্মস্থলের দায়িত্ব সামলে ঘরে ফিরেও রান্না, ঘর গোছানো, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা পরদিনের প্রস্তুতি-সবকিছুর ভার অনেক নারীকেই একাই সামলাতে হয়। ফলে দিনের শেষে নিজের জন্য একটু সময় বের করাটাই হয়ে ওঠে কঠিন।
পরিবারের প্রত্যাশা, কাজের চাপ এবং ক্রমাগত বার্নআউটের ঝুঁকিতে থাকা নারীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আত্মরক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।
পারিবারিক দায়িত্ব ও কাজের সুষম বণ্টন
সব কাজ একা সামলানোর \'সুপারওম্যান\' সিন্ড্রোম থেকে বের হতে হবে। সন্তান লালন-পালন,রান্নাবান্না বা ঘরের নিত্যদিনের কাজে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও সঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। গৃহস্থালি কাজকে একক দায়িত্ব না ভেবে পরিবারের সবার সাথে কাজ ভাগ করে নিলে দৈনন্দিন কাজ সহজ হয়ে যাবে।
কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের সুনির্দিষ্ট সীমানা
অফিসের সময় শেষ হলে কাজ সংক্রান্ত যোগাযোগ সীমিত করার চর্চা করা দরকার কারণ কর্মক্ষেত্র এবং ঘরের মেজাজকে আলাদা রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কর্মঘণ্টা শেষে মানসিকভাবে রিচার্জ হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন
সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট কেবল নিজের পছন্দের জন্য বরাদ্দ রাখুন। বই পড়া, একটু হাঁটা, গান শোনা কিংবা নীরবতায় চা পানের মতো ছোট ছোট অভ্যাস মনের ওপর জমতে থাকা ক্লান্তি অনেকটাই হালকা করে দেয়।
সহযোগিতামূলক সামাজিক নেটওয়ার্ক
সবসময় সমমনা কর্মজীবী নারীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও মানসিক টানাপোড়েন শেয়ার করার মতো সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন কারণ সমস্যাকেন্দ্রিক বা মানসিক চাপের কথা কাছের কোনো সহকর্মী বা বন্ধুর কাছে প্রকাশ করলে একাকীত্বের অনুভূতি দূর হয় এবং দিনশেষে ক্লান্ত কম লাগে।
আরও পড়ুন
যেসব লক্ষণ বলে দেবে আপনার স্ত্রী ‘টক্সিক’
পেশাদার মানসিক সহায়তা গ্রহণ
কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে করতে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্লান্তি, বিষণ্নতা বা অতিরিক্ত উদ্বেগ অনুভব করলে দেরি না করে কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত কারণ শারীরিক অসুস্থতার মতোই মানসিক ক্লান্তি কাটানোতেও পেশাদার চিকিৎসা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় একটি ধাপ।
আরও পড়ুন
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সত্যিই কি উপকারী, যা বলছে গবেষণা
সমাজে নারীর সাফল্য কেবল তার কর্মক্ষেত্রের পদে বা ঘরের নিপুণতায় পরিমাপ করা উচিত নয়, ভেতরের সুস্থতা ও শান্তিই আসল ভিত্তি। নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়, বরং পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে অবদান রাখার পূর্বশর্ত। তাই নিজেকে ভালো রাখতে হলে সবার আগে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভাবা উচিত।
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন