বিজ্ঞাপন
বগুড়ার ধুনট-সোনাহাটা সড়কটি পিচঢালা। সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চালক ও পথচারীরা। এ অবস্থায় সংস্কারের নামে কার্পেটিংয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে ইটের সোলিং। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ীভাবে সংস্কার না করে কোনো কোনো স্থানে পাকা সড়কের ওপর ইটের সোলিং করে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে উঁচু-নিচু করে বিছিয়ে রাখা এসব ইটের কারণে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ইটের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জ / এলজিইডির ১৯ কোটির কাজ শেষ না হতেই ধস
জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে রোগীর কষ্টও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাকা সড়ক সংক্ষারের নামে সাময়িকভাবে ইট বিছিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তবে এতে দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে আরও বেড়েছে।
আমির হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর ইট বিছিয়ে দেওয়ায় এখন গাড়িতে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ইটগুলো সমান না থাকায় বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালাতে ভয় লাগে। দ্রুত রাস্তাটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা দরকার।’
সড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী সিএনজিচালক মনির মিয়া বলেন, ‘ইটের ওপর দিয়ে গাড়ি চালালে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকেও অভিযোগ শুনতে হয়। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’
আরও পড়ুন
৪০ বছরেও পাকা হলো না ভোলার এক কাঁচা সড়ক
আরেক চালক আক্কাস আলী বলেন, ‘গর্তের জায়গায় ইট বসানো হয়েছে। কিন্তু ইটগুলো অনেক জায়গায় উঁচু-নিচু। গাড়ির গতি কমিয়ে চালাতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ‘সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কোথাও কোথাও ইটের সোলিং করা হয়েছে। স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করা হবে।’
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এলবি/এসআর
বিজ্ঞাপন