এবার ব্যালন ডি’অর তাহলে কে পাচ্ছেন?
প্রশ্নটা নতুন নয়। তবে সময়ের সঙ্গে প্রশ্নের ওজন বেড়েছে। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ হয়ে গেছে। ভোট গ্রহণও চলছে। পাশাপাশি বড় দাবিদার যাঁরা আছেন, তাঁরা বলতে গেলে নিজেদের পক্ষে একরকম প্রচারণাই চালাচ্ছেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পেই–বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন এবং সেই মৌসুমের পারফরম্যান্সই মূলত বিবেচিত হবে ব্যালন ডি’অরে।
রিয়ালের হয়ে কিছু জিততে না পারলেও জাতীয় দল ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন এমবাপ্পে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মের সেই টুর্নামেন্টে ১০ গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন, জিতেছেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তার নামের পাশে জমা হয়ে গেছে ২২টি গোল। লিওনেল মেসিকে টপকে তিনি এখন বিশ্বমঞ্চে সর্বকালের সেরা গোলদাতা।
আলোচনায় তাই এমবাপ্পের নাম আছে খুব জোরালোভাবেই। আর এই আলোচনাতেই সম্প্রতি নতুন করে এসেছে তাঁর আফ্রিকান শিকড়ের কথা। বাবা উইলফ্রিড এসেছেন ক্যামেরুন থেকে। মা ফাইজা লামারি ফরাসি নাগরিক হলেও ধমনিতে বইছে আলজেরিয়ান রক্ত। এমবাপ্পের জন্ম ও বেড়ে ওঠা শতভাগ ফ্রান্সে হলেও তিনি স্পষ্ট করে বলে দিলেন, তার পুরো শৈশব আর সংস্কারজুড়ে গেঁথে ছিল আফ্রিকান সংস্কৃতি। মূল্যবোধের একটা বড় অংশও এসেছে সেখান থেকে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরুন আর আলজেরিয়ার আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে। ২০২৩ সালে তো বাবার ভিটেমাটি ক্যামেরুনের ডিজেবালে গ্রাম ঘুরেও এসেছিলেন এই বিশ্বকাপজয়ী।
ফ্রান্সের নীল জার্সিতে ইতিহাস লেখার অনেক আগেই তাঁর ভেতরে জন্ম নিয়েছিল যে সত্তা, সেই শিকড় আর আফ্রিকান ঐতিহ্যের প্রতি এমবাপ্পে জানিয়েছেন অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। বলেছেন, ‘ব্যালন ডি’অর জিতলে কোনো না কোনোভাবে এই উপহার আমি আফ্রিকার শিকড়কে উৎসর্গ করব।’
নিজের আফ্রিকান পরিচয় কখনো লুকিয়ে রাখেননি এমবাপ্পে। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ‘আরএফআই’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও একবার বললেন, ‘আমি ফ্রান্সে জন্মেছি, ফ্রান্সের হয়েই সব করেছি। কিন্তু আফ্রিকান সংস্কৃতির ছোঁয়াতেই আমার বেড়ে ওঠা। শিকড় আর উৎসের সঙ্গে সংযোগ আমি কখনোই ছিন্ন করিনি।’

অনেকে মনে করতে পারেন, নতুন করে এই কথা বলাও হয়তো একটা প্রচারণার অংশ। ব্যালন ডি’অর ভোটারদের এক-পঞ্চমাংশের বসবাস আফ্রিকায়। সে কারণেই কিনা আফ্রিকান সাংবাদিকদের ভালোবাসার ঋণ স্বীকার করে এমবাপ্পে বললেন, ‘এত বছর ধরে তারা যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ। আফ্রিকায় পা রাখলেই আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা অমূল্য। ব্যালন ডি’অর জিতে কোনো না কোনোভাবে ওই মানুষগুলোর উৎসর্গ করতে চাই এটি।’
এখন দেখার অপেক্ষা, আফ্রিকানদের ভোট জোগাড় করে এমবাপ্পে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন কি না। আগামী ২৬ অক্টোবরে লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>