ব্রেকিং নিউজ
জাবি উপাচার্যকে ‘সাদা দলের’ শিক্ষক বলায় জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রতিবাদ পিস্তল ঠেকিয়ে পুলিশ বলে, ‘পেছনে চলে যা, নয়তো গুলি করবো’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ভিডিও ভাইরাল ‘বিপিএল প্রতি বছর হওয়া উচিত,’ নজরদারির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চুয়েটে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু করা হবে: উপাচার্য রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যায় জেএমবির দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস পেলেন ৫ জন ইইউর চিহ্নিত ৬১ অশুল্ক বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ সাকিব এগ্রোটেকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সার না পেয়ে কৃষকদের হট্টগোল, ভাঙচুর খেলার নিয়ম বদলে গেছে: ইরান
জাতীয়

কে এই সারাহ খলিফা?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ছোট পর্দার ঝকমকে আলো আর দেশব্যাপী খ্যাতির আড়ালেই এক অন্ধকার ও কুখ্যাত মাদক সাম্রাজ্যে গড়ে তুলেছিলেন এক নারী। ক্যামেরার সামনে যিনি অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতেন, সেই তারকা উপস্থাপক নিজেই আজ এক ভয়ঙ্কর অপরাধ চক্রের মূল নায়িকা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি! বলা হচ্ছে, মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সারাহ খলিফার কথা। এই টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনকে একটি বিশাল মাদক পাচার ও তৈরি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। জনপ্রিয় তারকা থেকে মাদকচক্রের হোতা ৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরের অত্যন্ত সুপরিচিত এক মুখ, যিনি অপরাধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইম্পসিবল’ সঞ্চালনা করতেন। গ্ল্যামার জগতের পাশাপাশি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকও ছিলেন তিনি। মিশরীয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাহ খলিফা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই চক্রটি বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে কৃত্রিম উপায়ে ক্ষতিকর মাদক তৈরি ও বাজারজাত করতো। প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ ভাগ করে নিয়েছিল। এদের মধ্যে কেউ কাঁচামাল আমদানির দায়িত্বে ছিল, কেউ সরাসরি ল্যাবরেটরিতে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন করত ও অন্য সদস্যরা বিক্রির কাজে লিপ্ত ছিল। তদন্তের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৭৫০ কেজি বা ৩ হাজার কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও তা তৈরির নানা কাঁচামাল জব্দ করে। অভিযানকালে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো মূলত গোপন মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সুদীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর মিশরের আদালত এ মামলার অপর ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ও অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। সারাহ খলিফার আইনজীবী জানান, তারা এই চরম দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। গত মাসে এই মৃত্যুদণ্ডের প্রাথমিক রায় দেওয়া হলেও মিশরের ধর্মীয় বিধি ও আইনি নিয়ম অনুযায়ী দেশের গ্র্যান্ড মুফতির মতামত নেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হয়। অবশ্য শুরু থেকেই নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করে আসছেন সারাহ খলিফা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে একটি শুনানির সময় তিনি বিচারককে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ছবি তোলার আগে তিনি জীবনে কখনো মাদক দেখেননি। এমনকি, তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি দাবি করেন, তিনি জীবনে একটিও সিগারেট স্পর্শ করেননি। রায় ঘোষণার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে আকুতি জানিয়ে সারাহ বলেন, আমার মা-বাবা আমাকে খুব ভালো সংস্কার দিয়ে মানুষ করেছেন, তারা নিয়মিত নামাজ পড়েন। আমার এই ধরনের মাদকের টাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে প্রসিকিউটররা ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করে তাদের অপরাধ প্রমাণ করেন। এর মধ্যে আসামিদের বার্তা, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ছিল। সারাহ খলিফাকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কায়রো থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মিশরে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, ধর্ষণ ও মারাত্মক মাদক পাচারের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই মৃত্যুদণ্ডের সমালোচনা করলেও ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪৯২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>