বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনায় গ্রেফতার মোহাম্মদ মহসিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সাইবার অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের মামলায় মহসিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
কোকেনের সূত্রে ৬৩ বিদেশির আস্তানা, গ্রেফতার সেই মহসিন
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকায় এক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার এক আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে কোকেন পাঠান মহসিন। পরে কোকেন ফেরত এলে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য সামনে আসে। পুলিশের দাবি, ৬৩ বিদেশির সঙ্গে মহসিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল এবং তার মাধ্যমেই তাদের জন্য ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে দাবি পুলিশের।
আরও পড়ুন
৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?
এর আগে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে খুলশীর ওই ভবন থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের কারও কাছ থেকে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
গ্রেফতার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।
পুলিশের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ অনলাইন অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন তারা।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় ৬৩ বিদেশিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আজ মঙ্গলবার একই আদালত ৬৩ বিদেশির প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমআরএএইচ/কেএসআর
বিজ্ঞাপন