বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষণাক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় গুগল স্কলার প্রোফাইলে ২ হাজার বা তদূর্ধ্ব সাইটেশন পাওয়া ৬২ জন শিক্ষক-গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষক-গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
এ ছাড়া সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী এবং ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ।
তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য দেন এবং সাইটেশনের গুরুত্ব নিয়ে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, প্রক্টর এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক-গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান উপাচার্যের
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মাননাপ্রাপ্ত গবেষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন
ঢাবি থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত
তিনি বলেন, শুধু সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতা প্রয়োজন।
শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। গবেষণার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদারের চেষ্টা চলছে।
অতিথিদের সঙ্গে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক-গবেষকরা/ছবি: জাগো নিউজ
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার সঙ্গে ‘ল্যাব টু ল্যাব’ এবং ‘রিসার্চার টু রিসার্চার’ কার্যক্রমের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য তিনি শিক্ষক ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মাননা পেলেন যারা
সম্মাননাপ্রাপ্ত ৬২ জন শিক্ষক-গবেষক হলেন—
তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
রসায়ন বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুসান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক, অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।
ফলিত গণিত বিভাগ: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফেরদৌস।
বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদির।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ: অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক।
অর্থনীতি বিভাগ: অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, অধ্যাপক ড. রুমানা হক ও অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদ উল্লাহ।
পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিললাল হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. রবিউল হক।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ: অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ: অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী।
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ: ইউজিসি অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ, অধ্যাপক ড. এ এইচ এম নুরুন নবী, অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ: অধ্যাপক ড. মুনাওয়ার সুলতানা।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ আল-মামুন।
জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ ও অধ্যাপক ড. আবুল বাশার মীর মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম।
পাবলিক হেলথ বিভাগ: অধ্যাপক ড. এম. রেজাউল ইসলাম।
ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ: ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ, অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান ও অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ঢাবি
ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ: অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান।
ভূতত্ত্ব বিভাগ: অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ড. মো. আজিজ হাসান।
সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. কাউসার আহাম্মদ।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: সহযোগী অধ্যাপক ড. মাইনুল হোসেন।
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ: অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. পাপিয়া হক, অধ্যাপক ড. মিঠুন সরকার, অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের মল্লিক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তাছলিম উর রশিদ।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ: অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু ও অধ্যাপক ড. চৌধুরী ফারহান আহমেদ।
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: সহকারী অধ্যাপক ড. অনিমেষ পাল।
ভাস্কর্য বিভাগ: অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান।
সিরামিক বিভাগ: সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ পাল ও অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ।
গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ: অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম।
শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ: অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন।
অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আলী।
পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সফিকুর রহমান।
সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস: ড. গাজী নুরুন নাহার সুলতানা, ড. মো. লতিফুল বারী ও ড. সমীরন ভট্টাচার্য্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গবেষকদের এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
আরটি/এমএমকে
বিজ্ঞাপন