বিজ্ঞাপন
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ব্যায়াম করা কঠিন হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত গরমে ব্যায়াম করলে অস্বস্তির পাশাপাশি হিটস্ট্রোকসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার গরমের কারণে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম পুরোপুরি কমিয়ে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে মানুষ গরমের সময় কম সক্রিয় হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর আনুমানিক ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাহলে প্রচণ্ড গরমেও কীভাবে নিরাপদে সক্রিয় থাকা যায়? বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন।
সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন
গরম থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দিনের তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে ব্যায়াম করা। সম্ভব হলে সকাল বা সন্ধ্যায় হাঁটা, দৌড়ানো বা অন্য কোনো ব্যায়াম করতে পারেন।
ব্যায়ামের জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। সরাসরি রোদে না গিয়ে ছায়াযুক্ত জায়গায় ব্যায়াম করা ভালো। গবেষকরা বলছেন, রোদ ও ছায়ার জায়গার তাপমাত্রার অনুভূত পার্থক্য অনেক বেশি হতে পারে।
আর্দ্রতার দিকেও নজর দিন
শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে দেয়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না। ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
বাতাস চলাচলও গুরুত্বপূর্ণ। কম বাতাস চলাচল করে এমন বদ্ধ জায়গায় ব্যায়াম করলে শরীরে অতিরিক্ত তাপ জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ব্যায়ামের সময় ও মাত্রা কমান
প্রচণ্ড গরমে স্বাভাবিক সময়ের মতো দীর্ঘক্ষণ বা বেশি মাত্রায় ব্যায়াম না করে সময় কমিয়ে দিন। মাঝেমধ্যে বিরতি নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে দীর্ঘ হাঁটার পরিবর্তে অল্প সময় হাঁটা কিংবা ঘরে হালকা শারীরিক কার্যক্রম করা নিরাপদ হতে পারে।
বিরতির সময় সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বা ছায়াযুক্ত জায়গায় যান। ঠান্ডা পানি পান করার পাশাপাশি ফ্যানের বাতাসে শরীর ঠান্ডা করাও উপকারী।
শরীর দ্রুত ঠান্ডা করুন
ব্যায়ামের পর শরীর ঠান্ডা করার জন্য শুধু ছোট একটি বরফের প্যাক ব্যবহারের চেয়ে ঠান্ডা পানির সাহায্যে শরীরের বড় অংশ ঠান্ডা করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
হাত ও বাহু ঠান্ডা পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখা কিংবা শরীরে পানি ঢালা যেতে পারে। শরীরের ত্বকে পানি লাগিয়ে তা বাষ্পীভূত হতে দিলে ঘামের মতোই শরীর ঠান্ডা হতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা পানিতে ভেজানো তোয়ালে হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বারবার ব্যবহার করাও উপকারী।
ব্যায়ামের আগে শরীর ঠান্ডা রাখুন
ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নেওয়াও কাজে দিতে পারে। এতে গরম পরিবেশে শরীর বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত হওয়ার আগে কিছুটা অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।
ঠান্ডা পানি বা বরফ মিশ্রিত পানীয়ও শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ধীরে ধীরে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিন
গরমে হঠাৎ বেশি ব্যায়াম না করে ধীরে ধীরে সময় ও পরিমাণ বাড়ানো উচিত। শরীরকে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে হিট অ্যাক্লিমাটাইজেশন বলা হয়।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত গরম পরিবেশে ব্যায়াম করার ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শরীরের কিছু অভিযোজন ঘটে। বিশ্রামের সময় শরীরের তাপমাত্রা কমতে পারে, ঘাম বাড়তে পারে এবং রক্তের প্লাজমার পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে শরীর গরমের সঙ্গে তুলনামূলক ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে।
তবে এই অভিযোজন স্থায়ী নয়। গরমের পরিবেশে নিয়মিত না থাকলে শরীরের তৈরি করা এই সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
শরীরের সংকেত বুঝুন
গরমে ব্যায়াম করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের সংকেত বুঝতে পারা। প্রচণ্ড গরমে ব্যায়াম করলে হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যক্তিদেরও এ ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যায়ামের গতি বা মাত্রা কমিয়ে দেওয়া এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে শরীর ঠান্ডা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বাড়লেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা সম্ভব। তবে গরমের সময় কখন, কোথায় এবং কীভাবে ব্যায়াম করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম
বিজ্ঞাপন