বিজ্ঞাপন
জাগো নিউজের প্রতিবেদন পড়ে গাইবান্ধার সেই রিকশা চালককে দুই লাখ টাকা পাঠালেন সৌদি প্রবাসী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান ওরফে সুমন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রিকশা চালক তোফাজ্জল হোসেনের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হয়।
প্রবাসী মিজানুর রহমানের ছোটোভাই হাবিবুর রহমান ওরফে জনি রিকশা চালকের হাতে দুই লাখ টাকা দেন। এর আগে হাবিবুর রহমান মাইক্রোবাসযোগে ঢাকা থেকে কৃষক তোফাজ্জলের বাড়ি গাইবান্ধার ধুমাইটারি গ্রামে আসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৌদি প্রবাসী মিজানুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানসহ তাদের আত্মীয়-স্বজন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা, ক্ষতিগ্রস্ত রিকশা চালকের মেয়ে মোরশেদা বেগম ও তার জামাই ছামছুল হক।
সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের ছোটোভাই হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমার বড়ভাই সৌদি আরবে ব্যবসা করেন। তিনি জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত গাইবান্ধার রিকশা চালক তোফাজ্জল হোসেনের প্রতিবেদনটি পড়েন। সেখান থেকে ফোন করে ওই কৃষককে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। তার পাঠানো টাকা বুধবার রিকশা চালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড়ভাই মিজানুর রহমান এ ধরনের অনেক অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।
টাকা হাতে পেয়ে আনন্দের কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, \'হামারঘরে দুই নাক ট্যাকা ইনদুরে খাচিলো। ট্যাকা কোনটে পামো, তাক নিয়া হামরা শোকের মদ্দে পরচিনো। ইনদুরে খাওয়া ট্যাকা আচকে পানো। হামারঘরে অনেক উপক্যার হলো বাবা। হামার কসটের কতা পেপারোত দ্যাকি, তোমরা আল্লার দ্যাশ মরুভুমিত থাকি ট্যাকা পাটাচেন। ক্যামন করি তোমারঘরোক ধন্নবাদ দেমো, দোয়া করি আল্লায় তোমারঘরে ভালো করুক।’
টাকা পাওয়ার পর তোফাজ্জলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বললেন, \'ট্যাকা নসটো হওয়ার পর থাকি হামার সোয়ামি দিনআইত খালি কানদ্দিচে। ট্যাকার শোকোত তাই অসুসতো হচিল। আচকে তাই খুসি হচে। হামরা সগলে খুসি।’
প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ধুমাইটারি গ্রাম। ওই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৭২) কৃষি মৌসুমে এলাকায় কৃষিকাজ করতেন। যখন কাজ থাকতো না তখন তিনি ঢাকা শহরের গিয়ে রিকশা চালাতেন। গ্রামটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের অন্তর্গত। তোফাজ্জল চরাঞ্চল থেকে এসে ধুমাইটারি গ্রামে বসতি গড়েছেন। তার তেমন জমিজমা নেই। কখনো দিনমজুর, কখনো কৃষিকাজ ও কখনো রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান।
দুবছর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। বাড়িতে পায়খানা প্রসাবখানা নির্মাণের জন্য তার মেয়ে জামাই ৫০ হাজার টাকা দেন। ভবিষ্যতের জন্য মোট দুই লাখ টাকা তিনি ঘরের কাঠের আলমারিতে রেখে দেন।
আরও পড়ুন
রিকশাচালকের দুই লাখ টাকা কেটে নষ্ট করলো ইঁদুর-উইপোকা
গত ৮ আগস্ট বিকেলে কাঠের আলমারি খুলে তোফাজ্জল হোসেন দেখতে পান, সেখানে রাখা টাকার বেশির ভাগই উইপোকা ও ইঁদুরে কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলেছে। পরদিন ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, চাটাইয়ের ওপর ছেঁড়া ও কাটা টাকার নোট ছড়িয়ে আছে। তোফাজ্জল সেগুলো হাতে নিয়ে দেখছেন। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। আমার কী হইলো রে!’—বলে চাটাইয়ের ওপর মাথা আছড়ে তিনি কাঁদছিলেন।
তার সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ছেঁড়া ও কাটা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট। পাশে বসে সেগুলো নাড়াচাড়া করছিলেন তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।
আশপাশের লোকজনকে বলতে শোনা যায়, দুই লাখ টাকা হবে। সব এক হাজার আর ৫০০ টাকার নোট, একদম কেটে শেষ করে ফেলেছে। এ নিয়ে গত ৯ আগস্ট জাগো নিউজ পোর্টাল ও ডিজিটালে প্রকাশিত হয় ‘রিকশাচালকের দুই লাখ টাকা কেটে নষ্ট করলো ইঁদুর - উইপোকা।’
আনোয়ার আল শামীম/কেজে/এএসএম
বিজ্ঞাপন