অনেকেই রাতে ঘুম না এলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ এই ঘুমের ওষুধে আসক্ত। সাময়িকভাবে আরাম দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে ঘুমের ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেন, জানতে চান?
আসক্তি ও নির্ভরতা: ঘুমের ওষুধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এর প্রতি শারীরিক ও মানসিক আসক্তি। কিছুদিন খাওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট ডোজে আর ঘুম আসে না, ডোজ বাড়াতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ওষুধ ছাড়া ঘুমানোটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মস্তিষ্কের ক্ষতি: এই ওষুধগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রাকৃতিক ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুমের উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হয় শরীর। ফলে পরবর্তী সময়ে তীব্র স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের অভাব ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
প্রাতঃকালীন ক্লান্তি: ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর সকালে ঘুম ভাঙলেও শরীর একধরনের ঘোরের মধ্যে থাকে। ঝিমঝিম ভাব এবং চরম অবসাদ লেগেই থাকে, যা সারা দিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।
শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ঘুমের ওষুধ গলার পেশি শিথিল করে দেয়, যা থেকে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া লিভার ও কিডনির ওপরও এর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক জৈবিক চাহিদার একটি। ওষুধের ওপর নির্ভর করে ঘুমকে দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না, বরং তা শরীরের ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রয়োজনে ঘুমের ওষুধ খাওয়া যাবে। কিন্তু এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।
বরং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে, সঠিক ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে, ডিজিটাল স্ক্রিন পরিহার ও মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস করুন।
লেখক: নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>