বিজ্ঞাপন
১৯৮৬ সালের ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক এক নারী বিসিএস ক্যাডারের ৩৮ লাখ টাকা ঘুসের ঘটনা— সরকারি চাকরির ভেতরের অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।
মায়ের জাত কীভাবে ঘুস চায় বা নেয়, তা দেখার শখ অপূর্ণই থেকে গেল— বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, ‘ঘুষখোরের একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি। ১০০% সত্যি ঘটনা। অফিসের বারান্দায় বাপের কলিগের সাথে দেখা। খুব ক্লোজ আমাদের। আসসালামু আলাইকুম চাচা। কী ব্যাপার ভাতিজা? কেমন আছ? তোমার বাবা কেমন আছে?’
‘আলহামদুলিল্লাহ চাচা। আমরা সবাই ভাল। তা এখানে কেন? চাচা আপনার কাছেই এসেছি। একটা কাজ ছিল ছোট। আপনার কাছেই একটা ফাইল পড়ে আছে কয়েকদিন ধরে। কোনো ঝামেলা নেই। সব ঠিক আছে। আচ্ছা আমি রুমে যাচ্ছি। তুমি আস একটু পরে।’
তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর রুমে ঢুকলাম। তিনি কাজ করছেন। শব্দ পেয়ে মাথা তুললেন। ওহ! তুমি। তোমার কোন ফাইল? দেখিয়ে দিলাম। পাতা উলটে বললেন। বুঝলাম সব ঠিক আছে। কিন্তু ......... টাকা ছাড়া তো ফাইল ছাড়া যাবে না। তাকিয়ে থাকলাম আমার চাচা মিঁয়ার দিকে। এখন ‘চাচাও’ উধাও, ‘ভাতিজাও’ উধাও।’ ‘প্রতিজ্ঞা করলাম ব্যবসা করব না। চাকুরিতে ঢুকব। সব ছোট ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে প্রিপারেশন নেয়া শুরু করলাম বিসিএস দেয়ার। ঘুষ দেবও না, ঘুষ খাবও না। এটা ৮৬/৮৭ সালের কাহিনী।’
আরও পড়ুন
এদেশ থেকে দুর্নীতি কেয়ামত পর্যন্ত যাবে না: মাহবুব কবীর মিলন
সাবেক এই সচিব লেখেন, ‘আজ নিউজে দেখলাম এক ক্যাডার সার্ভিসের লেডি অফিসার ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ খাবার অপরাধে তাঁর পদোন্নতি ৮ বছর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই পদে থেকে তিনি নিশ্চয়ই এই আট বছর ঘুষ খাওয়া ছাড়বেন না!! এর পরেও ছাড়বেন না। এ এক ভয়ানক নেশা রে পাগলা!! ভয়ানক নেশা।’ ‘একটা কথা বলতে খুব সংকোচ লাগছে। অভয় দিলে বলতে পারি। আম্মারা ক্ষমা করবেন। মেয়েরা কীভাবে ঘুষ খায় বা চায় বা হাতে নেয়, সেই সময় তাদের মুখে অবস্থা কেমন থাকে, সেটা দেখার খুব শখ ছিল। ৩০ বছর চাকুরি জীবনে তা একবারের জন্যও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আর হবেও না। শখটা অপূর্ণই থেকে গেল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘মায়ের জাত। ঘুষ কেমনে খায়, আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। হে আল্লাহ, তুমি নতুন একটা নির্দেশ দাও এই দেশের জন্য। ঘুষখোরেরা কবরে গেলে যেন মাটির ভিতর থেকে দুই হাত বাইরে বের হয়ে আসে। হাত পাতা অবস্থায় যেন হাত দুইটা থাকে।’
এমআরএম
বিজ্ঞাপন