বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শতভাগ আবাসনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় ছয় দশক পরও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হয়নি।’
বর্তমানে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস ও শহরে উচ্চ ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শতভাগ আবাসনের দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেনি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার একটি রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তিনি। সেই সঙ্গে আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুরও দাবি করেন।
হলের সিট বণ্টনে অটোমেশন পদ্ধতিতে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের তথ্যও সামনে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রশিবির সভাপতি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অনিয়মিত শিক্ষার্থী বা সাবেক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সিট ধরে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী পুনর্বাসনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
সোহরাওয়ার্দী হলের সদ্য পদত্যাগকারী প্রভোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া আবাসন সংকটের কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহন নিশ্চিত করতে পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে - শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু, পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে হলের সিট বণ্টন এবং অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হারেস মাতব্বরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএমআরআর/কেজে/এএসএম
বিজ্ঞাপন