বিজ্ঞাপন
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা মেঘারচরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হলেও যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের মেঘারচর এলাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী দুটি ট্রলারে করে মেঘারচরের একটি অংশে যান। তাদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে চরের সাধারণ কৃষকদের একটি পক্ষ আগে থেকেই লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে অবস্থান নেওয়ায় দখলের উদ্দেশ্যে যাওয়া বিএনপির ওই পক্ষটি ট্রলার থেকে চরে নামেনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষই নদীর চরে ও ট্রলারে অবস্থান নেয়। পরে মজুচৌধুরীরহাট নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে সরে যেতে বলে। কিছুক্ষণ পর সদর থানা পুলিশও নদীতে অবস্থান নেয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চরের জমি ব্যবহারের জন্য বিএনপির কয়েকজন নেতা প্রতি একরে বছরে ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কৃষকদের উচ্ছেদ করে চরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চরের জমি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের বিরোধ রয়েছে। বর্তমানে চরটির বিভিন্ন অংশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে তাদের দাবি।
তাদের ভাষ্য, চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবলীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শাহজালাল মোল্লা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহজালাল সরকারের প্রভাব রয়েছে চরের একটি অংশে। তারা চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনির সরকার, বিএনপি নেতা মহসিন সরকার ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল সরকারের অনুসারী বলে স্থানীয়রা জানান। অপরদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপি নেতা হাকিম আলী সর্দার, রিপন মাঝি ও মিলনসহ অনেকে।
চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী মহসিন সরকার বলেন, বিএনপি নেতা কাদের, মিলন ও রিপন জমি দখল করতে গেছে। তারা কানিপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে চেয়েছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও তারা গেছে। আমি কৃষক। আমরা কৃষকদের পক্ষে আছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা চরে পিকনিক করতে গেছে। চর দখলের মতো কোনো ঘটনা নেই। চরগুলো এখনো আওয়ামী লীগ-যুবলীগের দখলে রয়েছে। সেখানে সাধারণ কোনো কৃষক নেই। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
কাজল কায়েস/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন