বিজ্ঞাপন
চিকেন ও দুধ-দুটিই পুষ্টিকর খাবার। শরীর গঠন, পেশির শক্তি বাড়ানো এবং প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে এই দুই খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, চিকেন বা অন্য মাংস খাওয়ার পর দুধ পান করলে নাকি শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি এর ফলে শ্বেতী বা ত্বকের ধবল রোগ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
কিন্তু এই ধারণার কতটা সত্যতা আছে? চিকেন ও দুধ একসঙ্গে কিংবা অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলে শরীরে আদৌ কোনো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হয় কি না, তা নিয়ে রয়েছে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিন্ন ব্যাখ্যা।
চিকেনের পর দুধ পানে জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলছে
আয়ুর্বেদে কেন এই দুই খাবারকে বিপরীত বলা হয়
প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে দুধ ও চিকেনকে ‘বিরুদ্ধ আহার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আয়ুর্বেদের ধারণা অনুযায়ী, দুধ তুলনামূলকভাবে শীতল ও হালকা প্রকৃতির খাবার। অন্যদিকে চিকেনকে ধরা হয় ভারী ও উষ্ণ প্রকৃতির খাদ্য হিসেবে।
এই দুই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের খাবার একই সময়ে কিংবা খুব অল্প ব্যবধানে খেলে হজমপ্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আয়ুর্বেদে মনে করা হয়। এর ফলে শরীরে ‘টক্সিন’ বা ক্ষতিকর উপাদান জমতে পারে এবং দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে অম্বল, অ্যালার্জি কিংবা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মত আয়ুর্বেদে রয়েছে।
শ্বেতী রোগের সঙ্গে কি সত্যিই সম্পর্ক আছে?
চিকেন খাওয়ার পর দুধ পান করলে শ্বেতী হয়-এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, শ্বেতী বা ধবল রোগ একটি অটোইমিউন সমস্যা। এ ক্ষেত্রে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে ত্বকের মেলানিন তৈরিকারী কোষকে আক্রমণ করে।
চিকেন ও দুধ একসঙ্গে খাওয়ার কারণে এই রোগ হয়-এমন কোনো সরাসরি বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তাই এই দুই খাবারের সংমিশ্রণকে শ্বেতী রোগের কারণ হিসেবে মনে করার যথেষ্ট কারণ নেই।
তাহলে পেটে সমস্যা হয় কেন?
চিকেন ও দুধ দুটিই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। ফলে একসঙ্গে কিংবা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বেশি পরিমাণে খেলে সংবেদনশীল ব্যক্তির পরিপাকতন্ত্রে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যাদের দুধের ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে দুধের সঙ্গে মাংসজাতীয় খাবার খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল, বদহজম কিংবা পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবার ক্ষেত্রেই চিকেন ও দুধ একসঙ্গে খেলে সমস্যা হবেই।
রান্নায় দুধ-চিকেন একসঙ্গে খাওয়া যায় যেভাবে
অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে-চিকেনের সঙ্গে দুধ, দই, মাখন বা ক্রিম দিয়ে তৈরি নানা পদ যদি খাওয়া যায়, তাহলে আলাদা করে চিকেন খাওয়ার পর দুধ পান করতে সমস্যা হবে কেন?
রান্নার সময় মাংসের সঙ্গে দুধ, দই কিংবা মাখন দিয়ে উচ্চ তাপে রান্না করা হলে খাবারের প্রোটিনের ভৌত গঠন বা মলিকিউলার স্ট্রাকচার বা গঠনে পরিবর্তন আসেয়। ফলে তা সহজে পচ্য হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে আলাদাভাবে রান্না করা চিকেন খাওয়ার পরপরই এক গ্লাস দুধ পান করলে সংবেদনশীল ব্যক্তির পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
কতক্ষণ বিরতি রাখবেন?
চিকেন বা অন্য ভারী মাংস খাওয়ার পর দুধ পান করতে চাইলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। এতে খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
সকালে ঘুম ভাঙার পর হাত অবশ লাগে কেন?
রাতে মাংস দিয়ে ভারী খাবার খেলে তার সঙ্গে সঙ্গেই দুধ পান না করে কিছুটা বিরতি দেওয়া যেতে পারে। যাদের পেট সংবেদনশীল, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক কিংবা আইবিএসের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকেন ও দুধ পরপর না খাওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যকর হয়েও ঘুম কেড়ে নিতে পারে যেসব খাবার
চিকেন খাওয়ার পর দুধ পান করলে শ্বেতী হয় কিংবা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটে-এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে কারো হজমে সমস্যা থাকলে দুটি খাবার খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলে গ্যাস, অম্বল বা বদহজম হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবারের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবধান রাখাই ভালো। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন