স্বামী তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, তাঁর চেহারা স্বামীর পছন্দ ছিল না। হাতে টাকা নেই। ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। এমন সময় একটি অদ্ভুত বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে তাঁর। বিজ্ঞাপনে লেখা, ‘স্টেপ-মাদার চাই’। সেই বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন নোরা। পৌঁছে যান এক মাফিয়া বসের বাড়িতে। এরপরই বদলে যায় তাঁর জীবন।
এমন গল্প নিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিরিজ ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। সিরিজের গল্প নোরা, মাফিয়া বস লুকা ও তাঁর ছেলে লিওকে ঘিরে।
গল্পে দেখা যায়, লুকার ছেলেকে দেখাশোনার জন্য নোরা চুক্তিতে বিয়ে করেন। ধীরে ধীরে লিওর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। শিশুটির পাশে থাকতে গিয়ে নোরাও নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। একসময় লুকার সঙ্গেও তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
চুক্তির বিয়ে, তারপর প্রেম
নোরা যখন লুকার বাড়িতে যান, তখন তাঁর মনে প্রেমের চিন্তা নেই। সংসার করার ইচ্ছাও নেই। তাঁর দরকার ছিল কাজ। তাই তিনি এমন একটি চুক্তিতে রাজি হন, যেখানে তাঁর দায়িত্ব লুকার ছেলে লিওর দেখাশোনা করা।
লুকা একজন ক্ষমতাবান মাফিয়া। বাইরে থেকে তিনি কঠোর ও ভয়ংকর। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে তিনি চিন্তিত। লিওর জীবনে একজন স্নেহশীল মানুষের প্রয়োজন ছিল। নোরা ধীরে ধীরে সেই জায়গা পূরণ করেন।
শুরুতে নোরা ও লুকার সম্পর্ক ছিল শুধু চুক্তির। কিন্তু নোরা ও লিওর মধ্যে মায়া তৈরি হয়। সেই সম্পর্কের কারণে লুকার সঙ্গেও নোরার দূরত্ব কমতে থাকে।
দর্শক জানেন, এই বিয়ে আসল নয়। কিন্তু তাঁদের কৌতূহল থাকে, কখন এই চুক্তি সত্যিকারের ভালোবাসায় বদলে যাবে।
অপমানিত নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী নোরা
নোরার পরিবর্তনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বামী তাঁকে চেহারার কারণে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে নিজের প্রতি নোরার বিশ্বাস কমে যায়।
নতুন জীবনে গিয়ে তিনি ধীরে ধীরে বদলাতে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন, একজন মানুষের মূল্য শুধু তাঁর চেহারা দিয়ে ঠিক হয় না।
লিওর সঙ্গে সম্পর্ক নোরাকে নিজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে। লুকার আচরণও তাঁকে নিজের প্রতি বিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে।
তাই এটি শুধু একজন নারীর মাফিয়া বসের প্রেমে পড়ার গল্প নয়। নোরার গল্পে তাঁর আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও আছে।
মাফিয়া বসের অন্য রূপ
লুকাও দর্শকের আগ্রহের একটি কারণ। বাইরে থেকে তিনি ক্ষমতাবান ও ভয়ংকর। কিন্তু ছেলের সামনে তিনি অন্য মানুষ।
ছেলেকে নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা আছে। নোরার সঙ্গে সম্পর্কও ধীরে ধীরে তাঁকে বদলাতে থাকে। দর্শক তখন লুকার নরম দিকটি দেখতে পান।
গল্পে তাই দুই ধরনের দিক আছে। একদিকে মাফিয়া জগতের ভয় ও ক্ষমতা, অন্যদিকে আছে একজন বাবার সন্তানের জন্য চিন্তা। আছে একজন পুরুষের প্রেমে পড়ে যাওয়ার গল্পও।
গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র লিও
নোরা ও লুকার প্রেমের গল্পে লিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নোরা প্রথমে লুকাকে বিয়ে করেন একটি চুক্তির কারণে। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি লিওর আপন মানুষ হয়ে ওঠেন।
নোরার উপস্থিতিতে লিও নিরাপদ বোধ করতে শুরু করে। তার জীবনে নোরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
তাই নোরা ও লুকার সম্পর্ক শুধু দুজন মানুষের প্রেমের গল্প থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটি শিশুর পরিবার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও।
এ কারণে দর্শকের কৌতূহলও বাড়ে। তাঁরা শুধু জানতে চান না, নোরা ও লুকার বিয়ে শেষ পর্যন্ত সত্যি হবে কি না। তাঁরা এটাও জানতে চান, লিও নোরাকে শেষ পর্যন্ত নিজের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করবে কি না।
কেন দর্শকের আগ্রহ
গল্পের কয়েকটি পরিচিত উপাদান একসঙ্গে এসেছে এখানে। আছে চুক্তির বিয়ে। আছে মাফিয়া বস। আছে প্রত্যাখ্যাত একজন নারী। আছে একটি শিশু। আছে ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প।
শুরু থেকেই গল্পের মূল বিষয়গুলো পরিষ্কার। নোরার অতীত আছে। লুকার ক্ষমতা আছে। আছে লিওর মানসিক সংকট। এই তিনটি বিষয় গল্পকে এগিয়ে নেয়।
এ ধরনের গল্পের শেষ কী হতে পারে, দর্শক অনেক সময় তা আগেই বুঝতে পারেন। নায়ক-নায়িকার প্রেম হবে, সেটিও অনুমান করা যায়। কিন্তু কীভাবে সেই প্রেম তৈরি হবে, সেটিই দেখার আগ্রহ তৈরি করে।
গল্পের কাঠামো অবশ্য নতুন নয়। চুক্তির বিয়ে থেকে প্রেম—এ ধরনের গল্প রোমান্টিক নাটকে অনেকবার এসেছে। মাফিয়া বসের চরিত্রও অনলাইন নাটকে নতুন নয়।
তবু নোরার গল্পে আবেগের জায়গাটি সহজে দর্শকের কাছে পৌঁছায়। এখানে আছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কষ্ট। আছে নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার আনন্দ। আছে নিজের মূল্য বুঝতে শেখা। আছে একটি পরিবারকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা।
এই কারণেই ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’ শুধু মাফিয়া-রোমান্সের গল্প হয়ে থাকেনি। একজন নারীকে একসময় অযোগ্য মনে করা হয়েছিল। পরে সেই নারীই হয়ে ওঠেন অন্য একটি পরিবারের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ। নোরার গল্পে দর্শকের আগ্রহের বড় কারণ সম্ভবত এটাই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>