জাতীয়

জাবি কর্মচারীর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ নারী শিক্ষার্থীর

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মায়ের সঙ্গে জাবির কর্মচারীর আর্থিক লেনদেনে সৃষ্ট বিরোধের বিচার চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার পূর্ণিমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ উঠা জাবির কর্মচারীর নাম আফাজউদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের মালী। তার বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা্, চেকের অপব্যবহার এবং আইনি হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ওই নারী শিক্ষার্থী। তবে কর্মচারী আফাজউদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মামলা করেছেন বলে জানান। লিখিত বক্তব্যে পূর্ণিমা বলেন, ২০১৭ সালে প্রীতিলতা হলের কর্মচারী মো. আফাজ উদ্দিনের কাছ থেকে তার মা দুই লাখ টাকা ধার নেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে মূল টাকা ও সুদসহ প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আফাজ উদ্দিন তার মায়ের কাছ থেকে নেওয়া ব্ল্যাংক চেক ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই চেক ব্যবহার করে চার লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয় এবং তার মাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে জামিন নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন পূর্ণিমা। পূর্ণিমার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মচারী ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা চেয়েও সমাধান পাননি। উল্টো কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রহিম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক ও আনোয়ারসহ কয়েকজন তাকে ও তার মাকে ভয়ভীতি দেখান এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানাতেও বাধা দেন। কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধেও হুমকির অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আফাজ উদ্দিনের বিষয়ে কথা বলার সময় খালেক তাকে মেরে ফেলা ও কেটে ফেলার মতো হুমকি দেন। পূর্ণিমা আরও অভিযোগ করেন, তার পাশে দাঁড়ানো এক বড় ভাই সেলিম রেজাকে নিয়ে নানা কথা বলে মূল ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে সন্ত্রাসী বানাতে চাই না, কাউকে নির্দোষ বা দোষীও ঘোষণা করছি না। আমি শুধু চাই মূল অভিযোগের তদন্ত হোক।’ অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে তদন্তে তা প্রমাণিত এবং সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পূর্ণিমা। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই জাগরণী ২৪ হলের কর্মচারী রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত চাই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ অন্যদিকে, জাবি শিক্ষার্থীর করা সুদের ব্যবসা, সুদের টাকা আদায় এবং হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মচারী আফাজ উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, কারও বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা নয় বরং নিজের পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আফাজ উদ্দিন জানান, রাবেয়া আক্তার তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না দেওয়ায় পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে তিনি একটি চেক দেন। তবে ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর তা ডিজঅনার হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবটিতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে নোটিশ জারির পরও রাবেয়া আক্তার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নেননি। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতে পাওনা অর্থের অর্ধেক জমা দিয়ে এবং অবশিষ্ট অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের অঙ্গীকার করায় তিনি জামিন পান। প্রতি মাসে সুদের টাকা আদায় এবং মোট ৬ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগ প্রসঙ্গে আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত হবে।’ কেজে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>