জাতীয়

জালে উঠলো ৮ কেজির দাতিনা, বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির কালো দাতিনা মাছ। ৮ কেজি ওজনের মাছটি উন্মুক্ত নিলামে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৫ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সাগর ফিশ আড়তে নিয়ে আসেন জেলেরা। পরে খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন ফ্রেশ ফিশ কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পি এম মুসা। তিনি মাছটি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করবেন বলে জানিয়েছেন। মাছটি বিরল হওয়ায় বন্দরে খবর ছড়িয়ে পড়লে এটি দেখতে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় জেলেরা জানান, কালো দাতিনা মাছকে অনেকেই ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও চেনেন। সুন্দরবন ও উপকূলীয় লোনা বা আধা-লোনা পানিতে এ মাছ পাওয়া যায়। অঞ্চলভেদে কালো দাতিনা, সাদা দাতিনা, জাতি দাতিনা বা রাজা দাতিনা নামেও পরিচিত মাছটি। মাছটি পাওয়া এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিক বলেন, ছোট জাটকা ইলিশের সঙ্গে একটি দাতিনা মাছ পেয়েছি। খুব ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। এ ধরনের মাছ জালে ধরা পড়লে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হই। সিফাত ফিশের আড়তদার মীর মিজানুর রহমান বলেন, দাতিনা মাছকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড নামেও ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এ মাছের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি। তবে আজ মাছটি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে। মাঝে মাঝে এ ধরনের মাছ ৪ লাখ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে জেলেদের পাশাপাশি আমরাও লাভবান হই। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Acanthopagrus berda। শারীরিক গঠনের দিক থেকে কালো দাতিনা সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে আমাদের উপকূলে সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি আকারের মাছ বেশি পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ছোট কাঁকড়া, চিংড়ি, ছোট মাছ, শামুক-ঝিনুক এবং পানির তলদেশের বালু বা কাদার মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কৃমি এদের প্রধান খাবার। শক্তিশালী চোয়ালের কারণে শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়া ও চিংড়িও সহজেই খেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশ দূষণের কারণে এ মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে কালো দাতিনা মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা জরুরি। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এ মাছগুলোকে স্থানীয়ভাবে দাতিনা মাছ বলা হয়। সাধারণত এগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। মাছের বায়ুথলি থেকে কসমেটিকস, ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তবে সবসময় এ মাছ পাওয়া যায় না। আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>