ব্রেকিং নিউজ
পত্রিকা: 'সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের ঘটনা - আসামি বাড়তে পারে তদন্তে 'মিসিং লিংক' খুঁজছে ট্রাইব্যুনাল' বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বিতর্কে বিলুপ্তের পর যুবদলের নতুন কমিটি, ফের ১৮ নেতার পদত্যাগ জেলে থাকা দাগী আসামীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনের মাঝেই কান লুকে ঝলমল করছেন লঙ্কান বিউটি বন্ধ ‘গরিবের ট্রেন’ দ্রুত চালু করুন পত্রিকা: 'কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ছয় লাখ মানুষ' নেপাল ও চীনে বন্যায় নিহত বেড়ে ৭০০ ছুঁইছুঁই, নিখোঁজ প্রায় ৩০০০ মেসির ৪ গোলে প্রতিপক্ষের জালে ইন্টার মিয়ামির ৭ লেখালেখির পথে বয়স নয়, শেখার আগ্রহই পরিচয় হারবুল ফিজার: তরুণ নবীজির প্রথম যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা
জাতীয়

ঝিনাইদহ ১১ মাসে ৬ গণপিটুনিতে নিহত তিন, আসামি পায় না পুলিশ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ঝিনাইদহে গত ১১ মাসে ‘মব’ সৃষ্টি করে পৃথক ছয়টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন। আহত হয়েছেন শিক্ষকসহ অন্তত ৬ জন। চুরি, ধর্ষণচেষ্টা ও কথিত যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক এসব গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনাকে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ‘মব’ সৃষ্টি করে গণপিটুনি ও আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি সচেতন মহলের। গত ১১ মাসে জেলায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ঝিনুকমালা আবাসন, সদর হাসপাতাল ও কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পৃথক এসব ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। এসব ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়ের হলেও গ্রেফতার হয়নি অজ্ঞাত আসামিরা। এখন পর্যন্ত পৃথক এসব ‘মব’ এর ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় তিনটি ও কালীগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র একজন আসামি। এদিকে কথিত চুরি, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযোগ তুলে ঘটানো গণপিটুনি বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে দেখছেন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একের পর এক আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এসব ঘটনায় সন্দেহভাজন জড়িতদের আইনের আওতায় না আনতে পারায় দিনদিন জনমনে বাড়ছে ‘মব’ আতঙ্ক। ১১ মাসে যত ‘মব’ ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চুরির অপবাদে সুজন মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। ওই ঘটনার পরদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মারা যান সুজন মিয়া। নিহত সুজন মিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার বাগড়া গ্রামের কাশেম মালের ছেলে। বৈবাহিক সূত্রে তিনি ঝিনাইদহে বসবাস করতেন। সুজন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে চলতি বছরের গত ৪ জুন দুপুরে সদর উপজেলার ক্যাডেট কলেজের সামনে ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে এক শিশুকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। ওই ঘটনায় রিকশাচালক বিল্লাল হোসেন (৪০) আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যান। নিহত বিল্লাল হোসেন মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বাসিন্দা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, আবাসন প্রকল্পের ৭ বছরের এক শিশুকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন ওই রিকশাচালক। ওই ঘটনায় নিহতের স্বজন ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থেকে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। সবশেষ গত ২২ আগস্ট ভোরে গরু চুরির অভিযোগ তুলে কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে যশোর ও নাটোর জেলার দুই ব্যক্তিকে গাছে ঝুলিয়ে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় গ্রামবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই আয়নাল নামের এক ব্যক্তির মারা যান। ওই ঘটনায় সুমন হোসেন নামে অপর ব্যক্তি আহত হন। নিহত আয়নালের বাড়ি নাটোর জেলার বনকুড়ি গ্রামে। আহত সুমন হোসেন যশোর জেলা সদরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় বাদুড়গাছা গ্রামের নিলুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে সেই মামলায় আহত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়নি। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত সুমনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত দুইশ থেকে তিনশ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। পৃথক এ দুটি মামলায় এখনো কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া গত ১১ জুলাই মোবাইল চুরির অপবাদে সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে ১৪ বছরের এক শিশুকে রশি দিয়ে হাত পা বেঁধে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সদর উপজেলার লৌহজং এলাকায় এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধাকে রশি দিয়ে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে গত ১৮ আগস্ট সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বড়-বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মব’ করে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে স্কুলের অফিস কক্ষে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় চিহ্নিত কয়েকজন। ওই ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষক শাহ আলম গুরুতর আহত হন। পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই রাতেই পুলিশ শিক্ষক শাহ আলমকে গ্রেফতার দেখায়। তবে শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের পুকুর ইজারার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বারের যোগসাজশে ওই শিক্ষককে ফাঁসানো হয়েছে। শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি অডিও রেকর্ড এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েও পড়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কথিত অভিযোগ তুলে শিক্ষককে গণপিটুনির ঘটনায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধনও করেছে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। ভুক্তভোগীর স্বজন, মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা যা বলছেন কালীগঞ্জের বাদুরগাছা গ্রামে গণপিটুনিতে আহত সুমনের বড় ভাই ও মামলার বাদী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই গত ৮ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। সে শুক্রবার সকালে হারিয়ে যায়। পরদিন সকালে শুনি তাকে গ্রামের মানুষ গণপিটুনি দিয়েছে। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ কীভাবে এরকম চুরি করতে পারে আমি ভেবে পাচ্ছি না। কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে গণপিটুনি মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’ জেলা মানবাধিকার কর্মী শরিফা খাতুন বলেন, পুলিশকে আরও বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। গণপিটুনি কোনো সমাধান নয়। অপরাধ করলে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা দরকার। এখানে অবহেলা কাম্য নয়। অপরাধ প্রমাণের আগেই মব গ্রহণযোগ্য নয়। ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক আলম বলেন, ‘গণপিটুনির ঘটনা বা কাউকে ‘মব’ করে মারপিট করা আইন সমর্থিত কাজ নয়। গণপিটুনি ও ‘মব’ এর শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ আছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন-আদালত আছে। গণপিটুনি ও ‘মব’ রোধ করা না গেলে সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। গণপিটুনির মতো ঘটনায় সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মব’, ‘গণপিটুনি’ বা এমন কোনো বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। যদি পুলিশ মনে করে, কোনো একটি অন্যায় হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বাদী পাওয়া যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাও করতে পারে। প্রশাসন যা বলছে ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের হাতে যে মামলাগুলো আছে তার মেরিট অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণপিটুনি বা ‘মব’ এর মতো ঘটনায় কেন আসামি গ্রেফতার করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, সরাসরি যাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছি, তাদের গ্রেফতার করছি। গণপিটুনির ঘটনায় যেহেতু অনেক মানুষ জড়িত থাকে সে কারণে যাচাই বাছাই না করে গ্রেফতার করা ঠিক হবে না। এজন্য হয়ত কিছু কিছু মামলায় সময় লাগছে। এসব বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয়, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি। এ ধরনের অপরাধ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। কারণ সকলেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এম শাহাজান/এফএ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>